ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রকে ৪ গোল, বেলজিয়াম কত শুল্ক দেবে?

রম্য রচনা

যুক্তরাষ্ট্রকে ৪ গোল, বেলজিয়াম কত শুল্ক দেবে?
×

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে বানানো কাল্পনিক ছবি।

সাদিকুর রহমান

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ২০:১১ | আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ২০:৫২

গোলের বাণিজ্য ঘাটতি না কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ফুটবল বিশ্বকাপে বেলজিয়াম কীভাবে অংশ নিল? চলতি আসরের আগে দুই দেশ পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে। সেগুলোতে বেলজিয়াম গোল দিয়েছে ১৪টি, যুক্তরাষ্ট্র মাত্র ৫টি। 

অংশ তো নিয়েছেই, সোমবার রাতে ফোলারিন বালোগানদের টুর্নামেন্ট থেকেও বিদায় করে দিয়েছে লুকাকুরা। পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি পরোক্ষ চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছে, ক্ষমতা থাকলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যেন ৪-১ ব্যবধানের স্কোরলাইনকে বদলে দেন

ট্রাম্প এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলে বেলজিয়ামের ফুটবল সভ্যতার পরিণতি কেমন হতে পারে সে সম্পর্কে রোমেলু লুকাকুদের কি একটুও ধারণা নেই? 

আসলে বেলজিয়ামের এই দুঃসাহস দেখানোর উপলক্ষ্য ট্রাম্প নিজেই তৈরি করেছেন। দিনের পর দিন সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া একজন প্রেসিডেন্ট; মুহূর্তের ব্যবধানে একটি অতি-গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে ভুলে গেছেন। তাঁর উচিত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে হওয়া ওই ম্যাচের আগে ‘পাল্টা গোল শুল্ক’ আরোপ করা। 

গোল ও মাঠে বল পাসের সংখ্যা হিসাব করে উচ্চ শুল্ক এখনও আরোপ করা যেতে পারে। যেমন- প্রতিটি কর্নার কিকে ২৫, বক্সের কাছের ফ্রি কিকে ৩৫ এবং গোলের বিপরীতে ১৫০ শতাংশ। স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই শুল্কের নাম রাখা যেতে পারে- ‘আমেরিকান ফ্রিডম ট্যারিফ’। 

ইরান যুদ্ধে খাবি খেলেও বেলজিয়ামের বিপক্ষে পদক্ষেপ নেওয়ার অসংখ্য হাতিয়ার ট্রাম্পের কাছে আছে। ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে মঙ্গলবার তিনি তুরস্কের আঙ্কারায় গেছেন। বেলজিয়াম জোটটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। কিন্তু আর্থিক কিংবা সামরিক- কোনো ক্ষেত্রেই তেমন একটা ভূমিকা রাখে না। সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্পের উচিত এগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলা।

যে জোটে যুক্তরাষ্ট্র সবেচেয়ে বেশি অবদান রাখে, নিরাপত্তা দেয়; সেই জোটের পুঁচকে সদস্য কেন চার গোল দেবে? এমন প্রশ্ন তুলেও জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিতে পারেন ট্রাম্প। 

এগুলো ছাড়াও ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসুলভ বৈশিষ্ট্য মেনে আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন। বেলজিয়ামের চার গোলের পেছনে ডেমোক্রেটদের কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না তা অনুসন্ধানে কমিটি গঠন করা যেতে পারে। ফিফার চালু করা ভিএআর আসলে ‘ভেরি অ্যান্টি-রিপাবলিকান’ কি না সেটিও খুঁজে দেখা দরকার। এতে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলে তা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন জনমতে কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলতে পারে।

নির্বাচনের আগে জাতীয় ও দলীয় সম্মান বাঁচাতে ট্রাম্প চাইলে গোল বাতিলের নির্বাহী আদেশও দিতে পারেন। রোমেলু লুকাকুর মতো বেলজিয়ামে যেসব অভিবাসী ফুটবলার আছে, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি কিংবা ভিসা বাবদ অতিরিক্ত জামানত নেওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। 

জাতিসংঘের বিপরীতে ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের মতো সৃজনশীল উদ্যোগ হিসেবে ট্রাম্প বিকল্প বিশ্বকাপ চালুর উদ্যোগও নিতে পারেন। যেটির প্রতিপাদ্য হবে- ‘আমেরিকা ফার্স্ট ওয়ার্ল্ডকাপ’। ম্যাচে কোনো ভিএআর ও অতিরিক্ত সময় থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়লেই ম্যাচ ড্র ঘোষণা করা হবে। আসরে যাতে কোনো বিতর্ক তৈরি না হয়, সেজন্য ট্রফি আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকবে।

এত কিছুর পরও যারা নেতৃত্ব কিংবা মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে তাদের নিয়ে ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দেওয়া যেতে পারে। ইংরেজি বড় অক্ষরে ট্রাম্প লিখতে পারেন- ‘অনলি ক্রাউড নোজ দ্য ট্রুথ’ বা সবাই সত্যটা জানে। সমালোচনাকারী গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে কি না; সে সিদ্ধান্ত নিতে হোয়াইট হাউসে জরুরি বৈঠকও ডাকা যেতে পারে।

আরও পড়ুন

×