ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা ও দুটি বৃত্তি

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা ও দুটি বৃত্তি
×

ক্যাম্পাস ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৫ | ১৯:৪৬ | আপডেট: ০২ অক্টোবর ২০২৫ | ১৯:৪৭


ওশেনিয়া মহাদেশের দ্বীপদেশ অস্ট্রেলিয়া বিশ্বজুড়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের কাছে উচ্চশিক্ষার জন্য অন্যতম সেরা গন্তব্য। বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় পড়াশোনার সুযোগ এবং নানা সুবিধার কারণে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে এটি পছন্দের তালিকায় প্রথম সারিতে থাকে। দেশটির ক্যানবেরা, মেলবোর্ন, সিডনি, ব্রিসবেন, অ্যাডিলেড, পার্থের মতো বড় শহরগুলোয় রয়েছে বিশ্বের প্রথম সারির অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়াকে বেছে নেওয়ার পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কিছু ক্যাম্পাস রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম কাজ করার সুযোগ পান। পার্টটাইম কাজ করে শিক্ষার্থীরা মাসে ৯০ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন; যা দিয়ে তাদের জীবনযাত্রার খরচের ৭০ থেকে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত মেটানো সম্ভব। ডিগ্রি শেষ হওয়ার পর পোস্ট স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা পাওয়ার সুযোগ থাকে, যা কর্মজীবনের শুরুতে মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন এবং স্থায়ী হওয়ার পথ সুগম করে। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ রয়েছে– যারা সম্প্রতি এইচএসসি/এ-লেভেল বা ও-লেভেল সম্পন্ন করেছেন, তারা সরাসরি ব্যাচেলর ডিগ্রি প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করতে পারেন। ভর্তির সুযোগ নির্ভর করে একাডেমিক ফলাফল এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষতার (IELTS বা PTE স্কোর) ওপর। যারা বাংলাদেশে ইতোমধ্যে স্নাতক বা ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেছেন, তারা অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় মাস্টার্স বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে সঠিক বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, স্কলারশিপের তথ্য এবং ভিসার কাগজপত্র গোছানো নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীই বিভ্রান্ত হন। তাই এইচএসসি/এ-লেভেল, ও-লেভেল বা স্নাতক ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে এগুলে সহজেই উচশিক্ষার সুযোগ করে নিতে পারেন অস্ট্রেলিয়ায়। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন–

globalpathwayexperts.com

অস্ট্রেলিয়ান সরকার এবং দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের বৃত্তি দেয়। এর মধ্যে দুটি সবচেয়ে পরিচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ বৃত্তি হলো—

অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস স্কলারশিপস

এটি অস্ট্রেলিয়ান সরকারের ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ট্রেড দ্বারা পরিচালিত একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি প্রোগ্রাম। এই বৃত্তি উন্নয়নশীল দেশগুলোর, যার মধ্যে বাংলাদেশও অন্তর্ভুক্ত, উদীয়মান নেতাদের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

এটি একটি সম্পূর্ণ অর্থায়িত (Fully Funded) বৃত্তি। এর আওতায় সাধারণত নিম্নলিখিত খরচগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে:

সম্পূর্ণ কোর্স ফি

বিমান ভাড়া

জীবনধারণের খরচ বাবদ বার্ষিক  ভাতা

এককালীন সেটেলমেন্ট ভাতা

স্বাস্থ্য বীমা

কারা আবেদন করতে পারবেন: স্নাতক/স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি স্তরের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেন। নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা এবং নিজ দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সম্ভাবনা আছে এমন প্রার্থীদের গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এই বৃত্তির মূল লক্ষ্য হলো অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর উন্নয়নে সহায়তা করা এবং অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক তৈরি করা।

বিস্তারিত– https://www.dfat.gov.au/people-to-people/australia-awards/australia-awards-scholarships

রিসার্চ ট্রেনিং প্রোগ্রাম স্কলারশিপ

অস্ট্রেলিয়ান সরকার কর্তৃক অর্থায়িত এই প্রোগ্রামটি মূলত দেশি-বিদেশি, উভয় ধরনের শিক্ষার্থীদের গবেষণাধর্মী উচ্চশিক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি অস্ট্রেলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

সুবিধা: এই বৃত্তি সাধারণত রিসার্চ মাস্টার্স এবং পিএইচডি শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়। এটি তিনটি উপায়ে আর্থিক সহায়তা দেয়।

মাসিক বা বার্ষিক ভাতা: শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার খরচ মেটানোর জন্য একটি বার্ষিক ভাতা দেওয়া হয়। (২০২৫ সালের হিসেবে বার্ষিক ভাতা প্রায় A$33,511 বা তার বেশি হতে পারে)।

অতিরিক্ত ভাতা: অনেক সময় স্থানান্তর খরচ বা গবেষণা সংক্রান্ত অন্যান্য সহায়তার জন্য অতিরিক্ত ভাতা দেওয়া হয়।

কারা আবেদন করতে পারবেন: যারা গবেষণাভিত্তিক স্নাতকোত্তর বা ডক্টরাল ডিগ্রি নিতে চান। আবেদন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অফিস বা সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে করতে হয় এবং সাধারণত উচ্চ একাডেমিক মেধার ভিত্তিতে এই বৃত্তি দেওয়া হয়।

বিস্তারিত–https://www.education.gov.au/research-block-grants/research-training-program

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার জন্য এ দুটি বৃত্তি খুবই মূল্যবান সুযোগ তৈরি করে। তবে আবেদন করার আগে অবশ্যই প্রতিটি বৃত্তির জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতার মানদণ্ড এবং আবেদনের সময়সীমা ভালোভাবে যাচাই করে নিতে হবে।

 

আরও পড়ুন

×