ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সালমান শাহর মৃত্যু

আগের রাতে কিছু লিখতে দেখেছিলেন ডলি

আগের রাতে কিছু লিখতে দেখেছিলেন ডলি
×

ইন্দ্রজিৎ সরকার

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৩:২৮

ডলি বেগম ওরফে আলেয়াকে বোন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন চিত্রনায়ক সালমান শাহ। ডলির ছেলে ওমরকে তিনি দত্তক নিতে চেয়েছিলেন। সালমানের ইস্কাটনের বাসায় থাকত, তখন তিন বছর বয়সী ওমর। তাকে সম্বোধন করত 'বাবা' বলে।
তবে ওমরকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরে যেতে চাচ্ছিলেন ডলি। সালমানের মৃত্যুর আগের রাতে তিনি প্রসঙ্গটি তোলেন। জবাবে উদাসী কণ্ঠে সালমান বলেন, 'কাল সকালে এখানে অনেক লোক আসবে। তোমাকে আর ওমরকে অনেকেই চিনবে। তখন সবার সামনে দিয়ে ওকে সঙ্গে করে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারবে।'
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন গৃহকর্মী ডলি। ওই রাতে
তিনি সালমানকে পড়ার টেবিলে বসে কিছু লিখতে দেখেন। পরদিন সকালে 'আত্মহত্যা' করেন সাড়া জাগানো এই নায়ক। তদন্তসংশ্নিষ্টদের ধারণা, সালমানের ওই লেখাটিই ছিল সুইসাইড নোট, যা পরে তার পকেটে পাওয়া যায়।
প্রায় দুই যুগ আগে রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার তদন্ত শেষে সম্প্রতি পিবিআই জানায়, পাঁচ কারণে আত্মহত্যা করেন হার্টথ্রব এই নায়ক; তার স্ত্রী সামিরা হক, চিত্রনায়িকা শাবনূরসহ ঘটনাসংশ্নিষ্ট ৪৪ জনের সাক্ষ্য থেকে এমনটাই উঠে এসেছে। অবশ্য স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকে এ তদন্ত প্রতিবেদন মানতে নারাজ। তাদের ভাষ্য, সালমানকে হত্যা করা হয়।
ডলি বেগম তার জবানবন্দিতে বলেন, সালমান শাহ মারা যাওয়ার তিন মাস আগে মৌলভীবাজারে এক আত্মীয়ের বাসায় তিনি বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে রাজনীতির কোনো কাজে নীলা চৌধুরী (সালমানের মা) আসেন। তিনি তাকে ও তার ছেলে ওমর ফারুককে দেখেন। তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তাকে বাপের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরে পৌঁছে দেবেন বলে ছেলেসহ গাড়িতে তোলেন। তবে তিনি তাকে মুরাদনগরে নামিয়ে না দিয়ে ঢাকায় তার বাসায় নিয়ে আসেন।
জবানবন্দিতে ডলি বেগম আরও জানান, নীলা চৌধুরীর বাসায় চার-পাঁচ দিন থাকার পর তার সালমান শাহর সঙ্গে পরিচয় হয়। তার ছেলে ওমরকে সালমান শাহ নিজের বাসায় নিয়ে যান। এক মাস পর নীলা চৌধুরীর বাসা থেকে পালিয়ে যান ডলি। নীলা চৌধুরী তাকে বাসা থেকে বের হতে দিতেন না বলে জানান তিনি। ডলি খোঁজাখুঁজি করে সালমানের বাসায় যান এবং ছেলেকে নিতে চান। কিন্তু সালমান তাকে বলেন যে, ওমরকে তিনি এক মাস সঙ্গে রাখবেন। তাকে ওই বাসায় রেখে ডলি বাড়িতে গিয়ে ১৫-১৬ দিন থাকার পর চট্টগ্রামে বোনের বাসায় চলে যান। সেখানে যাওয়ার পাঁচ-ছয় দিন পর শুনতে পান অভিনেতা সালমানের দুর্ঘটনা ঘটেছে।
ডলি বেগম জবানবন্দিতে বলেন, সালমান শাহ মারা যাওয়ার আগের দিন সন্ধ্যায় তিনি তার বাসায় যান। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি ছেলেকে নিয়ে এক রুমে শুয়ে পড়েন। ঘুমানোর আগে তিনি দেখেছিলেন, সালমান শাহ তার পড়ার টেবিলে কী যেন লিখছেন। তখন তিনি তাকে বলেছিলেন, কাল সকালে ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে যেতে পারবেন কিনা।
ঘটনার দিনের বর্ণনায় ডলি বলেছেন, সকালে তিনি ছেলেকে বাথরুমে নিয়ে গোসল করান। এর মধ্যে সালমান শাহর বাবা আসেন। তিনি সামিরার সঙ্গে কথা বলে চা-নাশতা খেয়ে চলে যান। ডলি ওমরকে নিয়ে বাথরুম থেকে বের হয়ে ড্রেসিংরুমে থাকা তার কাপড় আনতে যান। তখন দেখতে পান, ড্রেসিংরুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। তিনি বন্ধ দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন এবং সামিরাকে ডাকেন। ওমরও 'বাবা-বাবা' বলে সালমান শাহকে ডাকতে থাকে। ওমর বলছিল, বাবা দরজা খোল। কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি। তখন সামিরা এসে চাবি দিয়ে ড্রেসিংরুমের দরজা খোলে। ডলি দেখতে পান, সালমান শাহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে নাইলনের রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে আছেন।
ডলি জানান, আবুল ও তিনি সালমান শাহর পরনের প্যান্টটি পাল্টিয়ে দিয়েছিলেন। তখন তারা তার পকেটে একটি চিরকুট পান। তারা সেই চিরকুটটি সামিরাকে দিয়ে দেন। পরে একজন ডাক্তার আসেন। তিনি সালমান শাহকে দেখে বলেন, উনি আর বেঁচে নেই।
পিবিআইর তদন্তসংশ্নিষ্টদের কাছে এই বক্তব্য দেওয়ার পর আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে প্রায় একই বর্ণনা দেন ডলি।


আরও পড়ুন

×