অফিস কক্ষ, বারান্দায় চলছে ক্লাস, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম
শ্রেণিকক্ষ না থাকায় চণ্ডীপুর পার এলংজানি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে পাঠদান। ছবি: সমকাল
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ | ০৮:১৯
প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ নেই। অফিস কক্ষে ক্লাস করতে হয়। কখনও কখনও ভবনের বারান্দার মেঝেতে বসেও পাঠ নেয় শিক্ষার্থীরা। এতে শিক্ষা কার্যক্রম দারুণভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রায় দেড় যুগ ধরে উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের চণ্ডীপুর পার এলংজানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এভাবেই চলছে পাঠদান।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৬ সালে চলনবিল অধ্যুষিত লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের পার এলংজানি গ্রামের পাশে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র কাম স্কুল ভবন হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের একটি পাকা ভবন নির্মাণ করে সরকার। এ সময়ে তিনটি পুরো শ্রেণিকক্ষ এবং একটি ছোট আয়তনের কক্ষ নির্মাণ করা হয়। পরে মূল ভবনের পাশে একটি ওয়াশব্লক নির্মাণ করা হয়। বস্তুত ২০০৭ সালের পর থেকেই এই স্কুল ভবনে শিক্ষার্থীদের আসন সংকট শুরু হয়েছে। তখন থেকেই অফিসের কার্যক্রম ও ক্লাসরুমে পাঠ একই সঙ্গে চলছে, ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ।
বর্তমানে স্কুলে ১২৫ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। শিক্ষক রয়েছেন ছয়জন। এদের মধ্যে প্রেষণে পার্শ্ববর্তী স্কুলে একজন শিক্ষক রয়েছেন। আপাতত শিক্ষকদের সমস্যা না থাকলেও মূল সমস্যা এখন তাদের শ্রেণিকক্ষের অভাব। মাত্র তিনটি কক্ষে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে শিক্ষকদের জন্য।
শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে অফিস কক্ষের এক পাশে বেঞ্চ পেতে এবং দেয়ালে হোয়াইট বোর্ড লাগিয়ে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। একই কক্ষে স্কুল অফিস পরিচালনা এবং শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম চালানোয় উভয় ক্ষেত্রেই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোনিবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কখনও কখনও শিক্ষার্থীদের মূল স্কুল ভবনের বারান্দায় কাপড় পেতে বসিয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে। আর এতে বিঘ্নিত হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের পড়ালেখা।
প্রধান শিক্ষক আবু বকর মিয়া জানান, শিক্ষা অফিস এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছে অনেকবার বিষয়টি তুলে ধরে আরেকটি শ্রেণি ভবন নির্মাণের আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু এতে কোনো সাড়া মেলেনি। সমাধান হয়নি স্কুলের শিক্ষার্থীদের আসন সমস্যা। স্কুলের সহকারী শিক্ষক হামিদা খাতুন বলেন, স্কুলের অফিস কক্ষে ক্লাস করতে গিয়ে আমরা অনেক সমস্যায় পড়ি। পাশে শিক্ষকদের কথাবার্তা বা নানা কার্যক্রমের প্রতি শিক্ষার্থীদের বার বার দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। এতে তাদের মনোযোগ নষ্ট হয়। ফলে যথাযথ পাঠদান সম্ভব হয় না।’
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাত, চতুর্থ শ্রেণির সুমাইয়া খাতুন ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জাকির হোসেনসহ কয়েকজন জানায়, স্কুলে স্যারদের বসার জায়গার পাশে ক্লাস করতে তাদের খুব সমস্যা হয়। আবার স্কুলের বারান্দায় কাপড় পেতে ক্লাস করার সময় তারা ভালোভাবে খাতায় লিখতে পারে না। এ অবস্থায় এসব শিক্ষার্থী অবিলম্বে তাদের জন্য আরেকটি শ্রেণি ভবন নির্মাণের দাবি জানায়।
প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে এই স্কুলের একটি নতুন ভবন নির্মাণের ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- সিরাজগঞ্জ
