বাল্কহেডের ধাক্কায় সেতু নদীতে, দুর্ভোগ হাজারো মানুষের
বরিশালের বানারীপাড়ায় কচা নদীতে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় গত শনিবার দুপুরে ভেঙে পড়ে জরাজীর্ণ লোহার সেতু। ছবি: সমকাল
বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ | ০৮:১১
বরিশালের বানারীপাড়ায় বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় লোহার সেতু ভেঙে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন পাঁচটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। গত শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ইলুহার ইউনিয়নের জনতাহাট সংলগ্ন কচা নদীর ওপর থাকা সেতুটি ভেঙে যায়। গতকাল রোববার বিকেলে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ইলুহার ইউনিয়ন পরিষদ, জনতাহাট, ও মলুহার ওয়াজেদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় কয়েক দশক আগে ওই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এটি দিয়ে ইলুহার ও উদয়কাঠীসহ পাঁচটি ইউনিয়নের লোকজন পাশের পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী সদরে যাতায়াত করেন। গত শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে এমভি রাইয়ান নামের বালুবাহী একটি বাল্কহেডটি কচা নদী দিয়ে যাওয়ার সময় সেতুটির মাঝখানের লোহার পিলারে ধাক্কা খেয়ে আটকে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেতুর মাঝের অংশ ভেঙে পড়ে।
ইলুহার ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা মাহাতাব উদ্দিনের ভাষ্য, দুর্ঘটনার বিষয়টি তাৎক্ষণিক তিনি বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজিদুর রহমানকে মোবাইল ফোনে জানান। তাঁর নির্দেশে বাল্কহেডটি ইউনিয়ন পরিষদের জিম্মায় আটকে রাখা হয়েছে।
গতকাল রোববার ইলুহারের অটোবাইক চালক আশরাফুল ইসলাম বলেন, এই সড়কে দিনে শতাধিক অটোবাইক চলাচল করে। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় দুদিনে তাদের আয়রোজগার কমে গেছে। আগে দিনে হাজার-বারোশ টাকা আয় করতেন।
অপর ইজিবাইক চালক চাঁন মিয়া বলেন, সেতু ভেঙে যাওয়ায় এখন প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে উত্তর ইলুহার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সেতু দিয়ে তাদের চলাচল করতে হচ্ছে।
ইলুহার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমান চান বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালে সেতুটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন সেতুর জন্য ঢাকায় একাধিকবার প্রস্তাবনা পাঠালেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। বাল্কহেডের ধাক্কায় ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের মধ্যে নতুন প্রস্তাবনা পাঠাবেন।
- বিষয় :
- বরিশাল
