নড়বড়ে জার্মানির কাঁটা প্যারাগুয়ে
সেকান্দার আলী
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ | ০৯:৩২
গ্যারি লিনেকারের সেই কালজয়ী উক্তিটি জার্মানির জন্য চিরকালীন প্রেরণা, ‘ফুটবল একটি সহজ খেলা; ২২ জন খেলোয়াড় ৯০ মিনিট ধরে একটি বলের পেছনে ছোটে, শেষে জেতে জার্মানি।’ নব্বইয়ের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ডেভিড বেকহামের ইংল্যান্ড জার্মানির কাছে হেরে গেলে ধারাভাষ্য কক্ষ থেকে এভাবেই লুথার ম্যাথিউসদের প্রশংসায় ভাসান ইংলিশ এই কিংবদন্তি। লিনেকার হয়তো এই জার্মানিকে নিয়ে অতটা উচ্চাশা করবেন না; সমর্থকদের চোখেও জশুয়া কিমিখদের বিশ্বকাপ দলটি ফেভারিট নয়। নকআউটে প্যারাগুয়ের মতো মাঝারি মানের দলের বিপক্ষেও নড়বড়ে মনে করা হচ্ছে তাদের। তবে ঐতিহ্যের জোর কাজে লাগাতে পারলে শেষ ষোলোতে যেতেও পারে।
জার্মানির বিশ্বকাপের শুরুটা ছিল দুরন্ত। গ্রুপ পর্বে নবাগত কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়া, আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেরা ৩২-এ জায়গা করে নেওয়া পর্যন্ত ঠিকই ছিল সবকিছু। সুখের হাওয়া লাগছিল হৃতগৌরবের পালে। গ্রুপের শেষ ম্যাচটি ইকুয়েডরের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে লেজেগোবরে করে ফেলে। তাই তো নকআউটে প্যারাগুয়ের বিপক্ষেও জামাল মুসিয়ালাদের জার্মানিকে ভরসার জায়গায় রাখছে না কেউ।
এই জার্মানি দলে ধারে বা ভারে কাটার মতো ফুটবলার নেই। ইউরো বা ক্লাব লিগে নাম ফোটা মুসিয়ালা ছয় মাস চোট কাটিয়ে জাতীয় দলে জায়গা করে নিলেও এখনও ছন্দ ফেরেনি পায়ে। আক্রমণভাগে সেভাবে বলের জোগান দিতে পারছেন না ফ্লোরিয়ান বির্টৎস। অথচ আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা বা নিউক্লিয়ার মনে করা হয় কাই হাবার্টজকে। তিনি কুরাসাওয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করা ছাড়া জোরালো ভূমিকা রাখতে পারেননি গ্রুপ পর্বে। বরং যাকে দিয়ে দুই বিশ্বকাপ পর গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হওয়া; সেই ডেনিজ উনদাভ খেলেন বদলি হিসেবে। বুন্দেসলিগায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েও সেরা একাদশে থাকার জন্য মন জয় করতে পারেননি কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের। অথচ আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জয়ের নায়ক তিনি। সুপার-সাব নেমে জোড়া গোল করে জার্মানির এই ত্রাণকর্তার হাতে ওঠে ম্যাচসেরার পুরস্কার। টানা দুই ম্যাচ গোল করার পরও মন গলেনি কোচের।
বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত আড়াইটায় বোস্টনে নকআউটে যে দলের মুখোমুখি হবে জার্মানি, সেই প্যারাগুয়ে বিশ্বকাপে আহামরি কোনো পারফরম্যান্স করেনি। তারা ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘ডি’ গ্রুপ থেকে তৃতীয় দল হিসেবে খেলছে সেরা ৩২-এ, যারা বিশ্বকাপ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ গোলে হেরে। টেনেটুনে ১-০ গোলে তুরস্ককে হারানো আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র করায় সুযোগ পায় নকআউটে খেলার। সেদিক থেকে নকআউটে এ দুই দলের লড়াইয়ে জার্মানিকে এগিয়ে রাখবেন ফুটবলবোদ্ধারা।
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মোট দুবার মুখোমুখি হয়ে হারেনি জার্মানি। ২০০২ সালে বিশ্বকাপের ১৬ দলের নকআউটে ১-০ গোলে হারিয়েছিল প্যারাগুয়েকে। ২০১৩ সালে খেলা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচটি ড্র হয়েছে ৩-৩ গোলে। ঐতিহ্যের মনোবল কাজে লাগিয়ে বোস্টনে আজ রাতে শ্রেষ্ঠত্ব দেখাতে পারেন ম্যানুয়েল নয়্যাররা। তবে জিততে হলে বর্ষীয়ান এই গোলরক্ষককে পোস্টের সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়াতে হবে। কারণ, তাদের ডিফেন্স লাইন নড়বড়ে। তাই নয়্যারকেই পেছন থেকে ডিফেন্ডারদের তাড়া দিতে হবে প্যারাগুয়ের দুই ফরোয়ার্ড আলমিরন ও হুলিও এনসোসকে আটকাতে। ওটা পারলেই পথের কাঁটা প্যারাগুয়েকে উপড়ে ফেলে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিতে পারবে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
- বিষয় :
- জার্মানি
- ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬
- নকআউট
