মহাস্থানগড়ে মাজারের উন্নয়ন কাজ বন্ধের প্রতিবাদ
ছবি: সংগৃহীত
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ | ০৮:১৪
মহাস্থানগড়ের সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় উন্নয়নকাজ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় এবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কাজ পুনরায় চালুর দাবিতে ৩০ জনের স্বাক্ষরসংবলিত একটি স্মারকলিপি গত বৃহস্পতিবার মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান রাজিয়া সুলতানার মাধ্যমে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সম্প্রতি সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় মাজার উন্নয়নের নামে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের জন্য খননকাজ শুরু হলে তা নিয়ে আপত্তি তোলে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের দাবি, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইন উপেক্ষা করে এ কাজ করা হচ্ছিল। পরে জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়ে কাজ বন্ধের অনুরোধ জানানো হলে গত সোমবার নির্মাণ কাজ স্থগিত করা হয়।
জানা গেছে, মাজার কমিটির উপদেষ্টা ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের উদ্যোগে বগুড়া জেলা পরিষদের অর্থায়নে প্রায় ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মাজারসংলগ্ন এলাকায় নারী মুসল্লিদের জন্য একটি বিশ্রামাগার নির্মাণের কাজ চলছিল।
কাজ বন্ধের প্রতিবাদে মঙ্গলবার মহাস্থান জাদুঘরের সামনে ‘ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় হজরত শাহ সুলতান বলখী (রহ.) মাহীসওয়ারের পবিত্র মাজার শরিফের মুসল্লি’ ব্যানারে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা উন্নয়ন কাজে বাধা অব্যাহত থাকলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ১৬ বছর ধরে মাজার-মসজিদের উন্নয়ন কার্যক্রম উপেক্ষিত ছিল। নারী মুসল্লিদের জন্য থাকা পুরোনো ছাউনি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন করে সেটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু কাজ শুরু হতেই প্রশাসন তা বন্ধ করে দেয়।
রায়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মাজার-মসজিদ কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রত্নতত্ত্বের আইন বা উচ্চ আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘন করছি না। শুধু নারী মুসল্লিদের বসার জন্য ছাউনি নির্মাণে কয়েকটি পিলার বসাতে সামান্য খনন করা হয়েছে। এভাবে বাধা দিলে মাজারের প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কীভাবে হবে?’
মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান রাজিয়া সুলতানা বলেন, স্থানীয়দের দেওয়া স্মারকলিপি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৯৭৬ সালের সংশোধিত পুরাকীর্তি আইন অনুযায়ী তালিকাভুক্ত প্রত্নস্থলে ক্ষতিসাধন দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ছাড়া ২০১২ ও ২০২০ সালে উচ্চ আদালতের পৃথক আদেশে মহাস্থানগড়ের সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার সাড়ে সাত কিলোমিটারের মধ্যে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক এ কে এম সাইফুর রহমান বলেন, ‘প্রত্নসম্পদের ক্ষতি এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘনের আশঙ্কা থাকায় জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে নির্মাণকাজ বন্ধের অনুরোধ জানানো হয়েছে।’ জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির বলেন, চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে জেলা পরিষদের মাধ্যমে নারী মুসল্লিদের বিশ্রামাগার নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল।
শিবগঞ্জ ইউএনও ও মাজার-মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চিঠি এবং জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
মাজার-মসজিদ কমিটির প্রশাসক রবিউল ইসলাম জানান, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা পাওয়ার পরই নির্মাণকাজ স্থগিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে মাজার কমিটির উপদেষ্টা ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দাবি করেন, ‘মাজার এলাকায় উন্নয়নকাজ করার এখতিয়ার মাজার কমিটির রয়েছে। যে কাজ করা হচ্ছিল, তাতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নিয়ম বা উচ্চ আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘন করা হয়নি। কাজ বন্ধ হওয়ায় মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।’
- বিষয় :
- বগুড়া
