বিশ্বকাপে আফ্রিকার নীরব বিপ্লব
আহসান হাবিব সম্রাট
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ | ০৯:৪৬ | আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ | ০৯:৪৭
দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০১০ বিশ্বকাপের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কলম্বিয়ান পপ সুপারস্টার শাকিরা গেয়েছিলেন ‘ওয়াকা ওয়াকা (দিস টাইম ফর আফ্রিকা)’ গানটি। শাকিরার সুরের সেই মূর্ছনা ছড়িয়ে পড়েছিল পৃথিবীর প্রতিটি কোণে। সেই টুর্নামেন্টে আফ্রিকার দলগুলো আহামরি কিছু অর্জন করতে না পারলেও আজও ফুটবল অনুরাগীদের কানে বাজে ওয়াকা ওয়াকা গানের সুর। এবার উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে যেন ‘ছন্দের সুর’ তুলেছে আফ্রিকার দেশগুলো। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ১০টি দেশের ৯টিই নকআউট পর্বে জায়গা করে জানিয়ে দিচ্ছে এবারের বিশ্বকাপ আফ্রিকার উদযাপনের, আরও বড় স্বপ্ন দেখার।
২০১০ বিশ্বকাপে আফ্রিকা থেকে অংশ নেয় ছয়টি দেশ। তবে গ্রুপ পর্ব পেরোতে পেরেছিল শুধু ঘানা। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে মাত্র দুবার একসঙ্গে আফ্রিকার দুটি দেশ নকআউট পর্বে ওঠার কৃতিত্ব দেখিয়েছিল। ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ২০১৪ বিশ্বকাপে আলজেরিয়া ও নাইজেরিয়া নকআউট পর্বের টিকিট পায়। আর কাতারে ২০২২ আসরে গ্রুপ পর্ব পেরিয়েছিল মরক্কো ও সেনেগাল। যে টুর্নামেন্টে মরক্কো আফ্রিকা অঞ্চলের প্রথম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়ে।
এবারের বিশ্বকাপটি ৪৮ দলের হওয়ায় প্রতিটি মহাদেশ থেকেই আগের তুলনায় বেশি দল অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তবে গ্রুপ পর্ব শেষে আফ্রিকার মতো দু’হাত ভরে সাফল্য পায়নি আর কোনো মহাদেশ। উত্তর আমেরিকার এবারের টুর্নামেন্টে আফ্রিকা থেকে গ্রুপ পর্বে বিদায় নিয়েছে শুধু তিউনিসিয়া।
টুর্নামেন্টে আফ্রিকার যে দলগুলো নকআউট পর্বের টিকিট পেয়েছে, তাদের মধ্যে পাঁচটি দেশ প্রথমবারের মতো গ্রুপ পর্ব পেরোনোর ইতিহাস গড়েছে। দেশগুলো হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা, আইভরি কোস্ট, কেপ ভার্দে, ডিআর কঙ্গো ও মিসর। আফ্রিকা থেকে এবারের আসরে শেষ ৩২-এ সুযোগ করে নেওয়া অন্য দলগুলো হচ্ছে আলজেরিয়া, ঘানা, মরক্কো ও সেনেগাল।
রোববার রাতে অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার মধ্যে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের এ ম্যাচটি নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ২-২ গোলে সমতায় থাকার পর যোগ করা সময়ের গোলে ৩-৩ ব্যবধানে ড্র হয়। এতে দুই দলই নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করে। একই রাতের অন্য ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সুযোগ পাওয়া উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নকআউটে জায়গা করে নেয় কঙ্গো।
ম্যাচ শেষে কঙ্গোর ফরোয়ার্ড ফিস্টন মায়েলে বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ঘটনা। টুর্নামেন্টে প্রথম জয় দিয়েই নকআউট পর্বে পৌঁছেছি আমরা।’ কঙ্গোর অন্য ফরোয়ার্ড ইয়ানে উইসা বলেন, ‘৫২ বছর পর আমরা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছি। প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের সঙ্গে ড্র করার পরে কলম্বিয়ার বিপক্ষে পরাজিত হয়েছি। আর গ্রুপের শেষ ম্যাচে মাত্র ১০ মিনিটে পিছিয়ে পড়েও আমরা ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে এনেছি। সুতরাং ফুটবলে কোনো কিছুই সহজলভ্য নয়।’ আফ্রিকা থেকে রেকর্ডসংখ্যক দলের নকআউট পর্বে পৌঁছানোকে অসাধারণ অর্জন হিসেবে অভিহিত করে এই নিউক্যাসল ইউনাইটেড তারকা বলেন, ‘এখন থেকে আফ্রিকার প্রতিটি দলই বড় স্বপ্ন দেখতে পারে। গত বিশ্বকাপে (আফ্রিকা থেকে) কেবল মরক্কো সেমিফাইনাল খেলেছিল। আমি মনে করি এবার ৮টি (৯টি) দলের জন্য একই রকম সুযোগ রয়েছে।’
আফ্রিকা দেশগুলোর এ সাফল্যধারা বিশ্বকাপের আগামী আসরেও অব্যাহত থাকবে বলে মনে করেন কঙ্গোর ফরাসি কোচ সেবাস্তিয়েন ডিসাব্রে।
- বিষয় :
- আফ্রিকা
- ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬
- ফিফা
- নকআউট
