ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ

মহাসড়কমুখী গ্রামীণ সড়ক ধুঁকছে ৯১ বছরের অবহেলায়

মহাসড়কমুখী গ্রামীণ সড়ক ধুঁকছে ৯১ বছরের অবহেলায়
×

টিলা কেটে তৈরি করা নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের রুদ্রগ্রামের কাঁচা সড়ক। ছবি: সমকাল

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ | ০৮:০৭

মহাসড়কের একদম পাশেই অবস্থান, অথচ দীর্ঘ ১০০ বছরে সংস্কারের কোনো ছোঁয়া লাগেনি সড়কটিতে। ফলে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের রুদ্রগ্রামের বাসিন্দাদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

বেহাল সড়কটির কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে রুদ্রগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া মূল সড়ক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে না পারায় ভবিষ্যতে এখানে আধুনিক সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান স্থানীয়রা।

পাহাড়ি টিলার ওপর অবস্থিত স্কুলটিতে যাতায়াতের সময় সম্প্রতি পা পিছলে পড়ে এক শিক্ষার্থীর হাত ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এর পর থেকে নতুন করে আলোচনায় এসেছে সড়কটির আধুনিকায়নের বিষয়। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর গত ৯১ বছরে একাধিকবার আবেদন করলেও অজ্ঞাত কারণে সড়কটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নবীগঞ্জের দিনারপুর পাহাড়ি এলাকার দেবপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা এ সড়ক দিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাতায়াত করেন। এ ছাড়া রুদ্রগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গ্রামের জামে মসজিদে যাওয়ার একমাত্র সড়ক এটি। ব্রিটিশ আমলে পাহাড়ের টিলা কেটে তৈরি করা এ কাঁচা সড়কটি পাহাড়ের গায়ে 
হওয়ায় বেশ উঁচু-নিচু। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল হয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তখন গ্রামবাসীর ঝুঁকি নেওয়া ছাড়া চলাচলের আর কোনো উপায় থাকে না। বেহাল সড়কটির কারণে এখনও এ এলাকায় কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারে না।

গ্রামবাসী জানান, বর্তমানের দেশের কোথাও এমন একটি সড়ক আছে কিনা সন্দেহ। একবার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার রাস্তাটিতে ইট বিছানোর (এইচবিবি) উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু রাস্তার পাশে বাড়ি রব্বান ঘোরী নামের এক ব্যক্তি এতে বাধা দিলে কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকে ব্রিটিশ আমলের এ রাস্তাটি আর সংস্কার করা সম্ভব হয়নি।

রুদ্রগ্রামের বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষক হামিদ ঘোরী বলেন, এ সড়কটির জন্য তাদের কষ্টের সীমা নেই। তাদের বয়স হয়ে গেছে। কিন্তু নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি, বর্তমানের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। গ্রামের সবাই চায় সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে অন্তত হালকা যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হোক।

গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব ঘোরী বলেন, রাস্তা মেরামতের জন্য বহুবার আবেদন করা হয়েছে কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। পাহাড়ি ঢালু রাস্তায় পড়ে গিয়ে এক ছাত্রের হাত ভেঙে গেছে। এখানে গাড়ি আসা তো দূরের কথা, একটা রিকশাও আসতে চায় না।

রুদ্রগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম দাশ বলেন, এ স্কুলে ২১ বছর ধরে চাকরি করছেন তিনি। পাহাড়ি উঁচু-নিচু সড়ক হওয়ায় বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে প্রায় দেড়-দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে আসতে চরম কষ্ট হয়। সম্প্রতি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্র পা পিছলে পড়ে হাত ভেঙেছে। ১৯৩৫ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর ৯১ বছরে এ সড়কটি একবারের জন্যও সংস্কার করা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে সলিংয়ের কাজে বাধা দেওয়া রব্বান ঘোরীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

দেবপাড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) আজাদ মিয়া বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সামান্য কাজ করেছিলেন। পরে এটি এলজিইডির আওতাভুক্ত (কোড নম্বর যুক্ত) হওয়ায় আইনি জটিলতায় তারা আর বেশি কিছু করতে পারেননি। তবে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।

১০ নম্বর দেবপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহরিয়াজ সুমন বলেন, বাবার আমলে এ সড়কের কিছু অংশে ইটের সলিংয়ের কাজ শুরু হয়েছিল কিন্তু একজনের আপত্তির কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে নতুন বরাদ্দ না পাওয়ার কারণে কাজ করা যাচ্ছে না। তবে জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা দরকার।

নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মীর সাব্বির আহমদ বলেন, সড়কটি তাদের তালিকায় রয়েছে। স্থানীয় পর্যায় থেকে এটি উন্নয়নের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন পেলে তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

আরও পড়ুন

×