ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ইলেকট্রিক বিছানাই হলো কাল, নিমিষেই শেষ মাবিয়া

ইলেকট্রিক বিছানাই হলো কাল, নিমিষেই শেষ মাবিয়া
×

প্রতীকী ছবি

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৭:১৩ | আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৭:১৫

পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে চলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন ৬০ বছর বয়সী মাবিয়া বেগম। বিশেষ ধরনের ইলেকট্রিক বিছানায় সারাক্ষণ শুয়ে থাকতেন। শুক্রবার সকালে 'শর্ট সার্কিট' থেকে ওই বিছানায় আগুন ধরে যায়। ছটফট করে বাঁচার আকুতি জানান বৃদ্ধা। তবে তার স্বামী-সন্তান তখন বাইরে ছিলেন। অন্যরা উদ্ধার করার আগেই তিনি মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। যখন তাকে বের করে আনা সম্ভব হয়, ততক্ষণে আর তিনি বেঁচে নেই।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাঁশবাড়ি এলাকার একটি বাসায় ঘটেছে এই ঘটনা।

ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক বজলুর রশিদ জানান, বিদ্যুতে চলে এমন দুটি চিকিৎসা সরঞ্জাম মাবিয়ার বিছানার সঙ্গে যুক্ত ছিল। সেই যন্ত্র থেকেই শর্টসার্কিট হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। বিছানাতেই দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ওই বৃদ্ধার। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। তবে তার আগেই লোকজন আগুন নিভিয়ে ফেলে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, পরিবারের সঙ্গে বাঁশবাড়ির ১৩/জি নম্বর ভবনের চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন মাবিয়া। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঘা হয়েছিল। ঘা শুকানোর জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে রাখা হয়েছিল ইলেকট্রিক বিছানায়। সেখানে সকাল ৯টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বাসার অন্য ঘরে থাকা স্বজনরা এ ঘটনা একটু পরে বুঝতে পারেন। তবে ধোঁয়ার কারণে তারা ভেতরে ঢুকতে পারেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে ফায়ার সার্ভিসে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

মাবিয়া বেগমের ছেলে নূর মোহাম্মদ জানান, তার মা চলাফেরা করতে পারতেন না। দুই সপ্তাহ আগে তার জন্য নতুন ইলেকট্রিক বেড কেনা হয়। শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তাকে বিছানায় ঘুমিয়ে থাকতে দেখা গেছে। এরপর কেউ তার সঙ্গে ওই রুমে ছিলেন না। এরমধ্যে আগুন ধরে যায়।

মাবিয়ার স্বামী পরম আলী জানান, তিনি চা খেতে নিচে নেমেছিলেন। ছেলেও ব্যবসার কাজে বাইরে ছিলেন। বাসায় ছিলেন তার পত্রবধূ। এরমধ্যে হৈ-চৈ শুনে বাসায় ফিরে দেখেন সব শেষ।

মাবিয়ার নাতি জাহেদ আলী জানান, আগুন লাগার পর আতঙ্কে সবাই বাসা থেকে বেরিয়ে যান। তবে তার দাদীর পক্ষে বের হওয়া সম্ভব ছিল না। আগুনে দুটি ঘরের বেশ কিছু মালপত্র পুড়ে গেছে।

মোহাম্মদপুর থানার এসআই শেখ জহিরুল ইসলাম জানান, বৃদ্ধাকে উদ্ধারের আগেই তার মৃত্যু হয়। মারাত্মকভাবে পুড়ে গিয়েছিল তার শরীর। এ ঘটনায় তার পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই। তাই ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×