ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

রাজধানীতে জোহরা বেগমরা অসহায়

'আগে শীতের কাপুড় পেতাম এখন তাও পাই না'

'আগে শীতের কাপুড় পেতাম এখন তাও পাই না'
×

ইমরান হুসাইন

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৩ | ০৯:২৮

রাজধানীর সদরঘাটের বুড়িগঙ্গা ?নদীর পাড়ে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে জবুথবু হয়ে বসেছিলেন জোহরা বেগম (৭৫)। শরীরে শীত নিবারণের কোনো কাপড় নেই। নদীর পাড়ের ঠান্ডা বাতাসে কাঁপছিলেন তিনি। পরনে ময়লাযুক্ত শাড়ি আর ছেঁড়া পাতলা চাদর।

জোহরা বেগম বলেন, 'এই একটাই কাপুড় আছে। রাতে এই কাপুড় পেঁচায়েই শুয়ে থাহি। শীতের আর কাপুড় নাই। ঠান্ডা লাগলে কি আর করুম। সন্ধে রাত্তিরি আগুন জ্বেলে গা (শরীর) গরম করি। এবার একটা খেতা (কাঁথা) কম্বলও পাইনি। এক কাপুড়ে শীত যায় না, কেউ কাপুড় দিতেও আসে না দাদু। আগে শীত এলে কাপুড় পেতাম, এখন তাও পাই না। শীতে টিকতে পারি না। কাপুড় কেনার সাধ্য নাই। ভিক্ষার টাকায় খাইতেই পাই না! অনেক কষ্ট হয়।'

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জোহরা বেগম এক চোখে স্পষ্ট দেখতে পান না। চোখের জন্য প্রতি মাসে হাজার টাকার বেশি ওষুধ কিনতে হয়। অসুস্থ শরীরেই দোকানে দোকানে ভিক্ষা করে খাবার ও ওষুধ কেনেন। থাকার জায়গা না থাকায় রাতে সদরঘাটে পন্টুনের ফুটপাতেই ঘুমান।

জোহরার গ্রামের বাড়ি ভোলা। জানা গেল, আপনজন বলতে তাঁর এক মেয়ে ও নাতি ছিল। তবে তারা খোঁজ রাখে না। পরে ভিটেছাড়া হয়ে রাজধানীতে ভিক্ষা করেই মানবতার জীবনযাপন করছেন তিনি।  স্থানীয় একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, সদরঘাট অঞ্চলে এবার তেমন একটা কম্বল বিতরণ হয়নি। তাই কনকনে ঠান্ডায় সমস্যায় পড়েছেন গরিব মানুষ।

সদরঘাটসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শুধু জোহরা বেগমই নন, হাড়কাঁপানো এই শীতে গরম কাপড় না থাকায় কষ্ট পাচ্ছেন দরিদ্র ও অক্ষম মানুষ। গরম কাপড় কেনার সাধ্য নেই তাঁদের। হাত পেতে দু-একটা কাপড় পাওয়া গেলেও মিলছে না শীত নিবারণের কাপড়।

বাংলাবাজারের ভিক্ষুক হানিফ মিয়া বলেন, হাত পেতে যা পাই, তা দিয়ে তিনবেলা খাইতেই পাই না। শীতের কাপড়ের দাম বেশি; কেনার পয়সা নাই। ছেঁড়া কাপড়ে শীত যায় না। বাবুবাজার ব্রিজসংলগ্ন অঞ্চলে ভিক্ষা করেন বাবর আলী। শীতে পাতলা গেঞ্জি পরে কাঁপছিলেন। জানালেন, ঢাকায় এবার শীত অনেক বেশি। হাঁটতে পারেন না; তাই পয়সাও পান না। খাবার দিলেও কম্বল দেয়নি কেউ।

এবার শীতে কম্বল কম বিতরণের বিষয়টি নজরে এসেছে স্থানীয়দেরও। তাঁরা জানান, এবার শীত বেশি হলেও কম্বল বিতরণ চোখে পড়ছে না।

আরও পড়ুন

×