রাত ১২টার পর ছিনতাই করতে নামে ওরা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২০ | ০৮:৪৮
রাজধানীর মুগদায় ছিনতাইকারীদের হাতে তারিনা আক্তার লিপা হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ছিনতাইচক্রের চার সদস্যকে। শনিবার রাতে রাজধানীর মুগদা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেপ্তার করে তাদের। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো- মিজুয়ান মিয়া, শেখ লিটন, আব্দুল মজিদ ও রফিক হাওলদার।
রফিক ছিনতাইকারীদের কাছে প্রাইভেটকার ভাড়া দিত। ২৯ ফেব্রুয়ারি ভোরে মুগদায় রিকশাযাত্রী তারিনার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। এতে রাস্তায় পড়ে তারিনার মৃত্যু হয়। একই দিন সকালে তারা আরও একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায়। তারা প্রতিদিন রাত ১২টার পর ভাড়া করা প্রাইভেটকার নিয়ে রাজধানীতে ছিনতাই করতে নামে।
রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় এসব তথ্য।
গ্রেপ্তার চারজনকে গতকাল দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে তারিনা হত্যায় সরাসরি জড়িত মিজুয়ান দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে। সে বলেছে, তারা দু'জন প্রাইভেটকার নিয়ে ভোরে মানিকনগরের দিকে যাচ্ছিল। স্টেডিয়ামের কাছে রিকশায় মহিলা ও এক কিশোরকে দেখে তারা। এ সময় সে মহিলার ব্যাগ ধরে টান দেয়। মহিলা রাস্তায় পড়ে যায়। পরে তারা জানতে পারে, মহিলা মারা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া রফিক হাওলাদার প্রতি রাতে ৫ হাজার টাকায় ছিনতাইকারীদের কাছে তার প্রাইভেটকার ভাড়া দেয়। তারা প্রাইভেটকারে রাত থেকে ভোর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ায় ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে। রিকশাযাত্রী বা পথচারীর কাছ থেকে সুযোগ বুঝে ব্যাগসহ মালপত্র ছিনিয়ে নেয়। গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ভোরে মুগদার স্টেডিয়ামের কাছে যে প্রাইভেটকারে করে ছিনতাইকারীরা তারিনা আক্তার লিপার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়েছিল, সেই গাড়িটি রফিক হাওলাদারের। তার কাছ থেকে ছিনতাইচক্রের সদস্য শেখ লিটন ৫ হাজার টাকায় গাড়িটি ভাড়া নিয়েছিল ওই রাতে। ছিনতাইচক্রের মূল হোতা মান্নান সরদার ওরফে মনা পলাতক। ২৯ ফেব্রুয়ারি ভোরে মনা প্রাইভেটকার চালাচ্ছিল আর গ্রেপ্তার হওয়া মিজুয়ান মিয়া পাশের সিটে বসে ছিল। মুগদার স্টেডিয়ামের সামনের সড়কে প্রাইভেটকারের মধ্যে থেকে রিকশাযাত্রী তারিনা বেগম লিপার ব্যাগ ধরে টান দেয় মিজুয়ান। এ সময় তারিনা রাস্তায় পড়ে মাথায় আঘাত পান। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার পর মনা ও মিজুয়ান প্রাইভেটকার নিয়ে মতিঝিল হয়ে মিরপুর চলে যায়। সকালে মিরপুরেও একজনের কাছ থেকে ছিনতাই করে তারা। পরদিন তারা জানতে পারে, মুগদার ছিনতাইয়ের শিকার নারীর মৃত্যু হয়েছে। তারিনার মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী বাদী হয়ে মুগদা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ডিবির পূর্ব বিভাগ তদন্ত শুরু করে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শনিবার রাতেও তারা মুগদায় ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে জড়ো হয়। ডিবির একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে মিজুয়ান, লিটন ও মজিদকে গ্রেপ্তার করে। তাদের স্বীকারোক্তিতে প্রাইভেটকারের মালিক রফিককে গ্রেপ্তার করা হয়। ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত এক রাউন্ড গুলিভর্তি একটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২টি ছুরি ও ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত ২টি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা হয় নিহত তারিনার কাছ থেকে ছিনতাই করা একটি ট্যাব ও ১৭০০ টাকা। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা আছে।
ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার জসীম উদ্দিন সমকালকে জানান, চার আসামির রিমান্ড চেয়ে রোববার দুপুরে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে মিজুয়ান আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। অপর তিন আসামির মধ্যে লিটনের তিন দিন, মজিদের দুই দিন ও রফিকের একদিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
নিহত তারিনার বাড়ি সিলেট। ঘটনার দিন ভোরে দক্ষিণ রাজারবাগের আত্মীয়ের বাসা থেকে দুই রিকশায় স্বামী, দুই সন্তানসহ তিনি কমলাপুর রেলস্টেশনে যাচ্ছিলেন সিলেটে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে। এক রিকশায় ছেলেসহ তিনি ছিলেন। মুগদার স্টেডিয়ামের কাছে রিকশা পৌঁছামাত্র প্রাইভেটকারের গতি কমিয়ে তার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায় ছিনতাইকারীরা। হেঁচকা টানে তারিনা রাস্তায় পড়ে মাথায় আঘাত পান। এতে তার মৃত্যু হয়। তদন্তসংশ্নিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিহত তারিনার স্বামী আর ঢাকায় আসতে চাইছেন না।
- বিষয় :
- ছিনতাইকারী
- গ্রেপ্তার
- ঢাকা
