রাস্তায় মানুষ, গাড়ি মার্কেট ফাঁকা
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর রোববার খুলেছে কিছু বিপণিবিতান। সেগুলোতে কেনাকাটা না জমলেও রাজধানীর রাজপথে ছিল যানজট, মানুষের ভিড়। দৈনিক বাংলা মোড়ের ছবি - সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ১০ মে ২০২০ | ১৪:৩৯
'লকডাউন' চললেও প্রতিদিনই ঢাকার সড়কে মানুষ ও গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে আগের দিনের তুলনায়। গতকাল রোববার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সরকারি অনুমতি পেয়ে বড় মার্কেট না খুললেও ছোট ছোট দোকান খুলেছে। এসব দোকানে কেনাকাটা না জমলেও সড়কে ছিল প্রচুর মানুষ ও গাড়ি। ঢাকার বাইরে অবশ্য কোনো কোনো এলাকায় মার্কেট খোলার প্রথম দিনেই ছিল ভিড়। স্বাস্থ্যবিধিসহ সামাজিক দূরত্ব না মেনে লোকজনকে সেগুলোতে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে।
গতকাল দুপুরে ধানমন্ডির জিগাতলা থেকে নিউমার্কেট, হাইকোর্ট, পল্টন, মতিঝিল, ফকিরাপুল, রাজারবাগ, মগবাজার, বাংলামটর, ফার্মগেট, আসাদ গেট, কলাবাগান, সায়েন্স ল্যাব এলাকা মোটরসাইকেলে ঘুরে দেখা যায়, সড়কে আগের চেয়ে কমেছে পুলিশের উপস্থিতি। সপ্তাহখানেক আগেও যেমন বিকেল ৪টা বাজলেই দোকান বন্ধে পুলিশের হাঁকডাক ছিল, তা এখন দেখা যাচ্ছে না। লোকজনকে ঘরে পাঠাতে পুলিশের তৎপরতাও চোখে পড়েনি।
করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ২৫ মার্চ থেকে চলছে সাধারণ ছুটি। গণপরিবহন চলাচলে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। মুদিখানা আর ওষুধের দোকান ছাড়া বাকি সবকিছু বন্ধ। যা সংবাদ মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছে 'লকডাউন' নামে। গতকালও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার কথা বলেছেন। গার্মেন্ট, কলকারখানার পর গতকাল থেকে মার্কেট চালুর অনুমতি দিয়েছে সরকার।
সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধীরে ধীরে বিধিনিষেধ তোলার কথা বললেও ঢাকার পথেঘাটে আগের সেই কড়াকড়ি নেই। গতকাল বিকেলে এলিফ্যান্ট রোডে গিয়ে দেখা যায় হাতেগোনা কিছু দোকান খুলেছে। অধিকাংশ মার্কেট খালি, ক্রেতাশূন্য। কিন্তু সড়কে মানুষের ভিড় ছিল। বেড়েছে যান চলাচলও। দোকানিরা জানালেন, সড়কে ভিড় করা লোকের অধিকাংশ 'তামশা' দেখতে আসা 'পাবলিক'। এর তুলনায় শূন্য ছিল নিউমার্কেট এলাকা।
সেখানে কোনো দোকান খুলতে দেখা যায়নি। বিকেলে ৪টার দিকে শাহবাগ মোড়ে যাত্রী অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায় ২০-২৫ খানা রিকশাকে।
সপ্তাহ দুই আগে এই এলাকা জনশূন্যই থাকত। গুলিস্তান ও বঙ্গবাজার এলাকার সব মার্কেট বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ফলে সেদিকে তেমন জনারণ্য দেখা যায়নি। তবে ফুটপাতে কয়েকটি ভাসমান দোকান বসতে দেখা যায়। অবশ্য গুলিস্তানে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার পার হয়ে বংশালের দিকে যেতে সড়কের দু'পাশের অর্ধেকের বেশি দোকান খোলা ছিল। দোকানগুলো ঘিরে ব্যস্ততাও ছিল চোখে পড়ার মতো।
তবে পুরান ঢাকার বংশাল ও লালবাগ এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে দোকানপাট খোলা ও বন্ধ উভয় চিত্রই দেখা গেছে। ইসলামপুর ও চকবাজারে গণহারে দোকান খুলে দেওয়া হয়েছে। বাংলাবাজার, সদরঘাট, লক্ষ্মীবাজার এলাকায়ও অর্ধেকের বেশি দোকান খোলা ছিল। আরমানিটোলা, তাঁতীবাজার, নয়াবাজার ও বাবুবাজার ঘিরে বাণিজ্য ও জনসমাগম আগের চেয়ে জমজমাট ছিল গতকাল। এদিকে দয়াগঞ্জ, নারিন্দা, টিকাটুলী এলাকার দোকানপাট তুলনামূলক কম খোলা ছিল। গেণ্ডারিয়া, মীরহাজীরবাগ এলাকায়ও দোকান বেশি খোলা হয়নি। তবে ধোলাইখাল ও টিপু সুলতান রোড ঘিরে পার্টস তৈরির কারখানাগুলো কয়েকদিন আগে থেকেই খোলা রয়েছে। গতকাল এসব কারখানা ঘিরে ব্যস্ততা আরও বেড়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার অধিকাংশ মার্কেট বন্ধ ছিল। বড় শপিংমল বসুন্ধরা ও যমুনা ফিউচারপার্ক, মিরপুর-১ শাহআলী, মুক্তবাংলা খোলেনি। তবে মিরপুর নিউমার্কেট এবং মিরপুর-২ থেকে মিরপুর ১০ পর্যন্ত রাস্তার পাশে ব্র্যান্ডেড পোশাকের দোকানগুলো খুলেছে। এ ছাড়া আনারকলি ও মৌচাক, ধানমন্ডি রাপা প্লাজা, শ্যামলী স্কয়ার, মোহাম্মদপুর টকিও স্কয়ার, উত্তরা রাজলক্ষ্মীসহ বেশিরভাগ মার্কেট বন্ধ ছিল। উত্তরায় আলাউদ্দিন ও বিএনএইচ মার্কেট দুটি খুলেছে। তবে ছোটখাটো দু-একটি মার্কেট ও সড়কের পাশের কিছু দোকান খুলেছে। উত্তর ঢাকার বিভিন্ন এলাকার কিছু দোকান খুললেও এতে ক্রেতারা তেমন সাড়া দেননি।
শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে রিকশাচালক আকতার মিয়া জানান, সপ্তাহখানেক ধরে যাত্রী বেড়েছে। 'লকডাউন' শুরুর পর দিনে একশ' টাকাও ভাড়া মারতে পারতেন না। এখন দিনে দেড়শ', দুইশ' টাকা রোজগার হয়।
রাস্তায় শুধু রিকশা নয়, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেড়েছে আগের সপ্তাহগুলোর তুলনায় কয়েক গুণ। যদিও এখনও বাস চলছে না। শনিবার বিকেলে গাবতলী-সদরঘাট রুটে একটি বাস চোখে পড়েছে। সেটির চালক বাবুল মিয়া জানিয়েছিলেন, পকেটে একটি ফুটো পয়সাও নেই। তাই হেলপারকে নিয়ে বাস নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন। বেড়িবাঁধ এলাকায় পুলিশের নজরদারি কম থাকায় বাস চালাতে পারছেন। তবে গতকাল শহরের কোথাও বাস নজরে পড়েনি।
গণপরিবহন না চললেও গত বৃহস্পতিবারের তুলনায় গতকাল বিকেলে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর মোড় থেকে গাবতলী সড়কে রিকশা, সিএনজিচাতি অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, ট্রাক, পিকআপ দেখা গেছে। বিকেলের দিকে ২৭ নম্বর মোড়ের সিগন্যালে গাড়ি থেমে থাকতেও দেখা যায়।
গাড়ির জটলা দেখা যায় ধানমন্ডিতেও। আবাসিক এলাকা নীরব থাকলেও ধানমন্ডির সাতমসজিদ সড়কে দুপুরে অনেক যানবাহন ছিল। আবাহনী ক্লাবের বিপরীতে কর্তব্যরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানালেন, সাতমসজিদ সড়কের দু'পাশে প্রচুর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলোতে লেনদেন চালু থাকায় মানুষের ভিড় বাড়ছে। দোকানপাট কিছু খুলেছে, তবে সংখ্যায় কম। রাস্তায় বেরোনো কাউকে পুলিশ বাধা দিচ্ছে না। কেউ মাস্ক ছাড়া চললে তাকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলা হচ্ছে।