ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ফায়ার হাইড্রেন্ট কেন চালু করা গেল না

ফায়ার হাইড্রেন্ট কেন চালু করা গেল না
×

সাহাদাত হোসেন পরশ

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ২৯ মে ২০২০ | ২২:৩৩

রাজধানীর গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কাজ শুরু করেছে দুই তদন্ত কমিটি। এরই মধ্যে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের তদন্ত কমিটি পৃথকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আজকালের মধ্যে পুলিশের তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেবে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা সমকালকে জানান, আগুনের ঘটনায় কেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফায়ার হাইড্রেন্ট চালু করেনি- এ প্রশ্ন তাদের। এটা চালু করলে হয়তো বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। আগুন লাগার খবর জানতে পেরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি ফায়ার হাইড্রেন্ট চালু করেছিল। ফায়ার হাইড্রেন্ট চালু না করার ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত কমিটি ব্যাখ্যা চাইবে।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন সমকালকে বলেন, ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই আগুন লাগার কারণ জানা যাবে।

পুলিশের গুলশান বিভাগের ডিসি সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, ঘটনা তদন্তে পুলিশ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তারা এরই মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত কমিটি সবার দায়দায়িত্ব আর অবহেলার বিষয় খতিয়ে দেখবে।

জানা গেছে, হাসপাতালে আগুনের ঘটনা তদন্তে পুলিশ সুপার আবদুল আহাদকে (এডিসি গুলশান হিসেবে কর্মরত) প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন গুলশান বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম ও গুলশান থানার ওসি কামরুজ্জামান।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, ইউনাইটেড হাসপাতালে যে করোনা ইউনিট তৈরি করা হয়েছিল, তা পুরোপুরি দাহ্য পদার্থে ভরপুর। এ ছাড়া স্যানিটাইজার ছিল অনেক। ওই ওয়ার্ড তৈরিতে তাঁবু ও বোর্ড ব্যবহার করা হয়েছিল। আগুন লাগার পরপরই এই দাহ্য পদার্থের ছোঁয়ায় তা দ্রুত ছড়ায়। করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরিতে ইট-পাথর ব্যবহার করা হলে আগুন এত দ্রুত ছড়াত না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত।

একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালের সম্প্রসারিত অংশে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা অপ্রতুল ছিল। ফায়ার ফাইটার, ফায়ার ড্রিল ও ফায়ার টিম ছিল না। ১১টি অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের মধ্যে মাত্র তিনটির মেয়াদ ছিল। অন্য আটটি অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। হাইড্রেন্ট কে চালাবে, কে কাজ করবে, কার দায়িত্ব এগুলো-  সুনির্দিষ্ট করা ছিল না। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটিকে জানায়, ৩০ এপ্রিল তাদের অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের মেয়াদ শেষ হয়েছিল। করোনা পরিস্থিতির কারণে তারা নতুন অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র কিনতে পারেননি।

রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে গত বুধবার রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ রোগী ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাদের মধ্যে একজন করোনায় সংক্রমিত ছিলেন, বাকি চারজন করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ছিলেন। তবে তাদের চারজনেরই করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল। স্বজনদের অভিযোগ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না রেখে হাসপাতালের বিছানা থেকে রোগীদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

×