ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে ইউনিলিভার

মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে ইউনিলিভার
×

সম্প্রতি ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল কুদ্দুস খান বিভিন্ন স্থানে খুচরা দোকানে গিয়ে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন ফটাে রিলিজ

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৫৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের (এফএমসিজি) বাজারের আকার বর্তমানে প্রায় চার বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। এই বিশাল বাজারের ৯৫ শতাংশেরও বেশি এখনও পরিচালিত হয় দেশের প্রায় ১৪ লাখ মুদি দোকান, পাইকার ও স্থানীয় বিতরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে। ফলে এই বাজারকে বোঝার সবচেয়ে কার্যকর উপায় শুধু কোনো ড্যাশবোর্ড, এক্সেল শিট বা বিক্রির রিপোর্ট নয়; বরং মাঠে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলা।

 ব্যবসায়িক প্রতিবেদনে সংখ্যার হিসাব থাকে, কিন্তু সংখ্যার পেছনের গল্প থাকে বাজারে। কেন একটি নির্দিষ্ট পণ্যের বিক্রি কমছে, কেন কোনো প্যাক সাইজ হঠাৎ জনপ্রিয় হচ্ছে কিংবা কেন একজন খুচরা বিক্রেতা নতুন কোনো পণ্য রাখতে দ্বিধা করছেন, এসব প্রশ্নের উত্তর সাধারণত অফিসে বসে পাওয়া যায় না। এগুলো জানতে হয় মাঠপর্যায়ে গিয়ে, মানুষের অভিজ্ঞতা শুনে।
বিশ্বের অনেক সফল প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরা তাই নিয়মিত বাজারে যান। তাদের কাছে এটি কেবল ফিল্ড ভিজিট নয়; বরং ব্যবসা বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের অনুশীলন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই বাস্তবতা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের ভোক্তা আচরণ অঞ্চলভেদে দ্রুত পরিবর্তিত হয় এবং সেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায় খুচরা বাজারে।

এই বাস্তবতাকেই গুরুত্ব দেন ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল কুদ্দুস খান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে যাচ্ছেন। তাঁর কাছে এসব সফরের উদ্দেশ্য শুধু বিক্রির অবস্থা দেখা নয়; বরং খুচরা বিক্রেতা, পরিবেশক ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের অভিজ্ঞতা থেকে বাজারের প্রকৃত চিত্র বোঝা।
ফিল্ড ভিজিটের সময় তিনি সরাসরি খুচরা বিক্রেতা ও পরিবেশকদের সঙ্গে কথা বলেন। কোথায় কোন পণ্যের চাহিদা বাড়ছে, কোথায় কোন সমস্যা হচ্ছে কিংবা ভোক্তাদের নতুন প্রত্যাশা কী, এসব বিষয়ে তিনি সরাসরি তাদের মতামত শোনেন। তাঁর বিশ্বাস, মাঠপর্যায়ের কর্মীরা প্রতিদিন যে বাস্তবতা দেখেন, তা কোনো রিপোর্ট পুরোপুরি তুলে ধরতে পারে না। তাই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে তাদের অভিজ্ঞতা শোনা প্রয়োজন।

রুহুল কুদ্দুস খানের তিন দশকের কর্মজীবন তাঁকে ইউনিলিভারের ভ্যালু চেইনের প্রায় প্রতিটি ধাপের অভিজ্ঞতা দিয়েছে। উৎপাদন, সাপ্লাই চেইন, পরিচালন ব্যবস্থা, ব্যবসায়িক রূপান্তর এবং নেতৃত্ব– সব ক্ষেত্রেই কাজ করার অভিজ্ঞতার ফলে তিনি জানেন একটি পণ্য কারখানা থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানোর প্রতিটি ধাপের বাস্তবতা। ফলে মাঠের আলোচনা তাঁর কাছে শুধু পর্যবেক্ষণ নয়; বরং ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনপুট।
বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই বোঝাপড়ার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। মূল্যস্ফীতির প্রভাবে গ্রামীণ বাজারে ছোট প্যাক সাইজের চাহিদা বাড়ছে, আবার শহুরে বাজারে প্রিমিয়াম পণ্যের প্রতি আগ্রহও দেখা যাচ্ছে। 

 অবশ্য প্রযুক্তিও এখন ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইউনিলিভার বাংলাদেশের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম ‘আইকিউ নেক্সাস’ প্রতিদিনের বিক্রির তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদার প্রবণতা শনাক্ত করতে সহায়তা করে। তবে তথ্য বিশ্লেষণ বাজারকে ব্যাখ্যা করতে পারে, কিন্তু মানুষের অনুভূতি, আচরণ কিংবা বাস্তব অভিজ্ঞতার বিকল্প হতে পারে না। সবচেয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত আসে তখনই, যখন প্রযুক্তির তথ্য ও মাঠের বাস্তবতা একসঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হয়।
বাংলাদেশের মতো বৈচিত্র্যময় বাজারে নেতৃত্বের অর্থ কেবল বোর্ডরুমে সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়; বরং বাজারের মানুষের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা। নিয়মিত মাঠপর্যায়ে যাওয়া সেই নেতৃত্বেরই একটি প্রকাশ, যেখানে একজন নির্বাহী সরাসরি ভোক্তা, খুচরা ব্যবসায়ী এবং মাঠকর্মীদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
বর্তমানে দেশের প্রতি ১০টি পরিবারের ৯টিতেই নিয়মিত ব্যবহৃত হয় ইউনিলিভারের কোনো না কোনো পণ্য। এই অবস্থান অর্জনের পেছনে শুধু শক্তিশালী ব্র্যান্ড নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে বাজারকে কাছ থেকে বোঝা, ভোক্তার প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া এবং মাঠের অভিজ্ঞতাকে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে রূপ দেওয়ার ধারাবাহিক চর্চাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পরিবর্তনশীল বাজারে টেকসই সাফল্যের জন্য এই বাস্তবতাই আজ সবচেয়ে বড় শিক্ষা– সঠিক সিদ্ধান্তের শুরু হয় মাঠ থেকে।

আরও পড়ুন

×