মোট ঋণের ১৭ শতাংশ সিএমএসএমই খাতে
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৫৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
কর্মসংস্থান বাড়াতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে ঋণ বাড়ানোর চেষ্টা করে আসছে সরকার। এ জন্য মোট ঋণের অন্তত ২৭ শতাংশ এসএমইতে বিতরণের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। তবে আশানুরূপ হারে ঋণ বাড়ছে না। গত বছর কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতে দুই লাখ ১৭ হাজার ৩০৩ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় যা মাত্র দুই হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সিএমএসএমই খাতের স্থিতি তিন লাখ ১৪ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। মোট বিতরণ করা ঋণের যা ১৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। ২০২৪ সালে মোট ঋণের ১৮ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে মোট ঋণের ১৯ দশমিক ১১ শতাংশ ছিল সিএমএসএমই খাতে।
জাতীয় এসএমই নীতির আলোকে ২০২৯ সালের মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের অন্তত ২৭ শতাংশ সিএমএসএমই খাতে বিতরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ২০২৫ সাল নাগাদ ঋণের ২৫ শতাংশ এ খাতে দেওয়ার কথা। কম খরচে বেশি কর্মসংস্থান হয় ছোট ও মাঝারি শিল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে। যে কারণে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে সব সময়ই ছোট ঋণে বেশি জোর দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও বেশ আগে থেকে এ খাতে ঋণ বিতরণ বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিয়ে আসছে। আবার বর্তমান সরকার প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য ঠিক করেছে। এ জন্য অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে এসএমইর জন্য রাখা হয়েছে পাঁচ হাজার কোটি টাকা।
ব্যাংকাররা জানান, ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক ব্যয় বেশি হওয়ায় এ খাতে ঋণ বিতরণে কিছু ব্যাংক অনীহা দেখায়। আগে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো সিএমএসএমইতে বেশি ঋণ দিত। তবে একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ ব্যাংকসহ বেশির ভাগ ইসলামী ব্যাংক এখন দুরবস্থায় রয়েছে। এসব ব্যাংক নতুন করে ঋণ দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। আবার খারাপ অবস্থায় পড়া কয়েকটি ব্যাংকের প্রভাবে সিএমএসএমই খাতের খেলাপি ঋণ অনেক বেড়েছে। অবশ্য ব্যাংক খাতের মোট খেলাপি হারের তুলনায় এখনও কম।
গত ডিসেম্বর পর্যন্ত সিএমএসএমই খাতে বিতরণ করা ঋণের মধ্যে ৭২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বা ২৪ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষ ১০ ব্যাংকের খেলাপি ৪৯ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। এ খাতের মোট খেলাপি ঋণের যা ৬৮ দশমিক ৩০ শতাংশ। ডিসেম্বর পর্যন্ত যেখানে ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ খেলাপি ছিল। দুরবস্থায় পড়া কয়েকটি ব্যাংকের ঋণ বিতরণের স্থবিরতার প্রভাবে মোট ঋণে সিএমএসএমই খাতের অংশ ধারাবাহিকভাবে কমছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ব্যাংকগুলোকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কম সুদের একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে গত ডিসেম্বরে এক নির্দেশনার মাধ্যমে কুটির, ক্ষুদ্র ও ছোট ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) রাখার প্রয়োজনীয়তা কমানো হয়েছে। আবার বিনা জামানতে নারীদের জন্য ২৫ লাখ টাকা এবং অন্য ক্ষেত্রে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া
হয়েছে। এ ছাড়া করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নেই– এমন ব্যবসায়ীদের যে কোনো ব্যবসা সংক্রান্ত সনদ দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারছেন। আশা করা যায়, আগামীতে ঋণ বাড়বে।
- বিষয় :
- ঋণ