রাজধানীতে ফ্যানে লাশ ঝুলছিল স্বামীর, গ্রিলে স্ত্রী
ছবি: প্রতীকী
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৪ | ১৯:২৭ | আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০২৪ | ২২:৩৬
মোবাইল নম্বরে আসা কল থেকে পরিচয়। এরপর প্রেম। দুই মাস আগে বসেন বিয়ের পিঁড়িতে। রাজধানীর মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার একটি ভবনে সাবলেট বাসায় শুরু করেন সংসার। হাত থেকে মেহেদির রং না মুছতেই নবদম্পতির লাশ মিলল সিলিং ফ্যান ও জানালার গ্রিলে।
নিহতরা হলেন- মোটরসাইকেল মিস্ত্রি জুবায়ের হোসেন বিপুল (২৭) ও তাঁর স্ত্রী একাদশ শ্রেণির ছাত্রী মনীষা আক্তার (১৯)। শনিবার দুপুরে তাদের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায় পুলিশ।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, এ দম্পতি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে মৃত্যুর কারণ জানতে পারেননি। এমনকি তাদের স্বজনরাও কোনো কিছু বলতে পারছেন না।
রামপুরা থানার ওসি আতাউর রহমান আকন্দ সমকালকে বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়। দরজা ভেঙে দম্পতির লাশ উদ্ধার করা হয়। মনে হচ্ছে, আত্মহত্যা। এর পরও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত করা হবে। এ ঘটনায় পৃথক অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
স্বজনরা জানান, জুবায়েরের গ্রামের বাড়ি পাবনা সদরের বলরাহাপুরে। তাঁর বাবা আজিম উদ্দিন ঢাকায় কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। মালিবাগ এলাকায় জুবায়েরের মোটরসাইকেলের গ্যারেজ রয়েছে। মনীষার বাবা হোসেন বেপারি প্রবাসী। তাদের গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়ায়। দু’জন প্রেম করে বিয়ে করেন। মনীষার মা ও মামা ঢাকায় এসে বিয়ে দেন। বিয়েতে জুবায়েরের পরিবারের কেউ না এলেও, সম্মতি ছিল বাবাসহ স্বজনের।
মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় ১৯০/বি নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় এক কক্ষে সাব-লেট থাকতেন জুবায়ের ও মনীষা। গতকাল সকাল থেকে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় পাশের ঘরের লোকজন ডাকাডাকি করেন। সাড়াশব্দ না পেয়ে ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানান তারা। এরপর দুপুর ১২টার দিকে রামপুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। দরজা ভেঙে পুলিশ দেখতে পায়, ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল জুবায়ের। আর জানালার গ্রিলে মনীষা।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার গভীর রাতে জুবায়ের তাঁর এক চাচাতো ভাইকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠিয়ে জানান–কিছু ভালো লাগে না। জমির শেয়ার আছে। সেটি বিক্রি করে টাকা বাবাকে দিতে বলেন। জমির ঠিকানাও বার্তায় জানিয়েছেন জুবায়ের।
জুবায়েরের বাবা সমকালকে বলেন, হঠাৎ জুবায়ের ফোন করে বিয়ে করতে চাই এবং পাত্রীও ঠিক করা আছে। পরে আমি সম্মতি দিই। পরদিনই তারা বিয়ে করে। বিয়ের পর দু’বার স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে এসেছিল জুবায়ের। সর্বশেষ ১৫ দিন আগে মামার বিয়েতে পাবনায় যায় ওরা। তিন দিন ছিল সেখানে।
তিনি বলেন, ঢাকা ফেরার সময় হাতে টাকা নেই বলে জুবায়ের। এর পর ৫ হাজার টাকা দিই। গত শুক্রবার দুপুরে ফোনে দু’জন কথা বলেছি। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বোঝাপড়া ভালোই মনে হয়েছে। এর পরও কেন এমন করল, বুঝতে পারছি না।
মনীষার ভগ্নিপতি মো. ফরিদ বলেন, জুবায়ের ও মনীষার সম্পর্ক ভালো ছিল বলে জানতাম। তাদের আত্মহত্যার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।
- বিষয় :
- রাজধানী
- মরদেহ
- স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু
