কণ্ঠশিল্পী অভি হত্যা
জট খোলেনি, তদন্ত কোন পথে?
ইন্দ্রজিৎ সরকার
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ১৮ জুন ২০২০ | ১৫:২৯
পুরান ঢাকার বংশালে তরুণ কণ্ঠশিল্পী মোহাম্মদ উল্লাহ অভি ওরফে নিরব অভির মৃত্যুর রহস্যের জট খোলেনি এক বছরেও। কে বা কারা কেন তাকে হত্যা করেছে, তা জানা যায়নি এখনও। স্বজনদের অভিযোগ, তদন্তে গড়িমসি করছে পুলিশ। 'অনেক প্রমাণ' থাকার পরও তদন্তে অগ্রগতি না হওয়া দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেছেন তারা। অবশ্য পুলিশ বলছে, আন্তরিকভাবেই এ ঘটনার তদন্ত চলছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত উপকমিশনার সাইফুর রহমান আজাদ সমকালকে বলেন, 'পুলিশের দিক থেকে তদন্তে কোনো অবহেলা নেই। তবে এ মামলার তদন্ত এগিয়ে নিতে হলে ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পাওয়া জরুরি। এখন পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি। দ্রুত প্রতিবেদন পেতে ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মেডিকেল কলেজের সংশ্নিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।'
গত বছরের ১৩ জুন সকালে বংশালের মকিমবাজার কবরস্থানে অভিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ১৯ জুন রাতে মারা যান অভি। এ ঘটনায় দায়ের মামলাটি প্রথমে বংশাল থানা পুলিশ তদন্ত করে। পরে তা ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। ডিবির তদন্ত সংশ্নিষ্টরা জানান, আহত অবস্থায় অভিকে উদ্ধারের ঘটনায় প্রথমে একটি মারামারির মামলা হয়েছিল।
পরে তার মৃত্যুর পর এটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়। রহস্য উদ্ঘাটনে নেমে ডিবির কর্মকর্তারা বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন। এমনকি এটি হত্যাকা নাকি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বা আত্মহত্যা- তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। এ বিষয়ে স্পষ্ট হওয়ার জন্য ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা প্রতিবেদন দরকার। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মনিরুল ইসলাম সর্বশেষ যখন ময়নাতদন্ত সংশ্নিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেন, তখন তিনি কিছু কাগজপত্র চেয়েছেন। চিকিৎসক জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে কখন কোথায় অভির চিকিৎসা হয়েছে সেসব কাগজপত্র দরকার। তার বাবার সঙ্গেও কথা বলা দরকার। অবশ্য ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দিতে কেন এসব কাগজপত্র বা মৃতের বাবাকে দরকার তা তদন্ত সংশ্নিষ্টরাও বুঝতে পারছেন না।
নিহতের বোন তাসনুহা আক্তার জানান, তার বাবা বৃদ্ধ ও শারীরিকভাবে অসুস্থ। তার পক্ষে বারবার ডিবি অফিস-হাসপাতাল দৌড়াদৌড়ি করা সম্ভব নয়। এজন্য তাসনুহা কিছুদিন পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তদন্তের ব্যাপারে জানার চেষ্টা করেছেন। তবে এখন পুলিশ আর তার সঙ্গে যোগাযোগ করে না, কিছু জানায়ও না। অথচ ঘটনার পর তিনি পুলিশকে অভির ব্যবহূত ট্যাব ও অন্যান্য জিনিসপত্র দিয়েছেন। সেগুলোর পাশাপাশি অভির মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্নেষণ করলে নিশ্চয়ই হত্যায় জড়িতদের ব্যাপারে অনেক কিছু জানা যেত।
তিনি জানান, প্রতিবেশী এক নারীর সঙ্গে অভির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। মেসেঞ্জারে তাদের কথোপকথন হতো। শেষ কথোপকথনে তাদের সম্পর্কের অবনতি হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট ছিল। অভি কোনো কারণে সম্পর্ক রাখতে চাইছিলেন না। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই নারী 'দেখে নেওয়া'র হুমকি দেন। এরপরই খুনের ঘটনা ঘটে। কবরস্থানের পাশেই সেই নারীর বাসা। ধারণা করা হচ্ছে, অভিকে বাসায় ডেকে নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করার পর কবরস্থানে ছুড়ে ফেলা হয়। ঘটনার পর 'আ' আদ্যাক্ষরের ওই নারীর বাসায় গিয়ে শুকনো রক্তের দাগও দেখা গেছে। হামলার দিন সকালে তিনি বাসায় এসে অভির মৃত্যুর খবর জানিয়ে যান। অথচ অভি বেঁচে ছিলেন তখনও। কেউ কিছু জানার আগে তিনি কীভাবে এ খবর পেলেন?
- বিষয় :
- কণ্ঠশিল্পী অভি হত্যা
- অভি হত্যা
- পুরান ঢাকা