ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

লঞ্চ ডুবিয়ে 'হাওয়া' ছয় আসামি

লঞ্চ ডুবিয়ে 'হাওয়া' ছয় আসামি
×

আতাউর রহমান

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২০ | ১২:০০

ঝড়ো হাওয়া ছিল না। বুড়িগঙ্গায় প্রচণ্ড স্রোত বা আছড়ে পড়া ঢেউও ছিলই না। অনেকটা নিস্তেজ সেই নদীতেই দিনের আলোতে ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল 'মর্নিং বার্ড' নামের যাত্রীবাহী লঞ্চটিকে। পানিতে ডুবিয়ে মারা হলো ৩৪ জনকে। এতবড় মর্মান্তিক ঘটনার ৯ দিন পার হলেও পুলিশ ওই ঘটনায় জড়িত কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
পুলিশের পক্ষ থেকে যথারীতি বলা হচ্ছে, আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এতদিনেও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হওয়াকে নিহতদের স্বজনরা পুলিশের আন্তরিকতার ঘাটতি হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, আসামিরা কেউ পেশাদার দুর্ধর্ষ অপরাধী নন। আন্তরিক হলে নিশ্চয় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে পারত।
গত ২৯ জুন সকালে মুন্সীগঞ্জের কাঠপট্টি থেকে মর্নিং বার্ড লঞ্চটি অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ঢাকার সদরঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। সকাল ৯টার কিছু সময় পর সদরঘাটের অদূরেই ময়ূর-২ নামের একটি বড় আকারের লঞ্চের ধাক্কায় মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই সেটি তলিয়ে যায়। ওই ঘটনায় নিহত সবার বাড়িই মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়।
দিনের আলোতে শত শত মানুষের চোখের সামনে ময়ূর-২ লঞ্চের এমন কাণ্ডে স্তম্ভিত হয়ে পড়েন নদীর দুই তীরে এবং অন্যান্য নৌযানে থাকা শত শত মানুষ। সেখানে উপস্থিত লোকজন অনেককেই জীবিত উদ্ধার করেন। সদর ঘাটের একটি সিসি ক্যামেরায় ময়ূরের ধাক্কায় মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার দৃশ্য স্পষ্টই ধরা পড়ে।
ঘটনার পর নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছিলেন, 'সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে মনে হয়েছে এটি দুর্ঘটনা নয়, একটি হত্যাকা।'
প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর ওই রাতেই নৌ পুলিশ বাদী হয়ে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ এনে একটি মামলা করে। এতে ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক মোফাজ্জল হামিদ ছোয়াদ, লঞ্চটির মাস্টার আবুল বাশার, জাকির হোসেন, ড্রাইভার শিপন হাওলাদার, মাস্টার শাকিল ও সুকানি নাসিরের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাত ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়। মামলাটির তদন্তও করছে সদরঘাট নৌ থানা পুলিশ। তবে গতকাল সোমবার পর্যন্ত কোনো আসামিই গ্রেপ্তার হয়নি।
জানতে চাইলে নৌ পুলিশের ঢাকা জোনের পুলিশ সুপার খন্দকার ফরিদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, মামলা হওয়ার পর থেকেই তাদের একাধিক টিম আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। সম্ভাব্য বিভিন্ন এলাকায় অভিযানও চলছে। কিন্তু আসামিরা বারবার স্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপন করায় তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, পেশাদার অপরাধীদের নানা তথ্য পুলিশের কাছে থাকে। কিন্তু লঞ্চডুবির মামলার আসামিদের আগাম তথ্য তো থাকার কথা নয়। এজন্য কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। আসামিরা গ্রেপ্তার হবেই।
ডুবে যাওয়া লঞ্চ থেকে বেঁচে যাওয়া যাত্রী আবদুর রউফ বলেন, চোখের সামনেই ময়ূর-২ লঞ্চটি ধাক্কা দিয়ে ঠেলতে ঠেলতে ডুবিয়ে এত মানুষকে মেরে ফেলল! এতদিনেও পুলিশ সেই ব্যক্তিদের খুঁজে পায় না, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। নিহত এক যাত্রীর স্বজন সোহাগ তালুকদার বলেন, পুলিশ আন্তরিক হলে আসামিরা বাইরে থাকতে পারে না।
সদরঘাটের নৌ শ্রমিক ও ঘাট শ্রমিকরা বলছেন, মর্নিং বার্ড লঞ্চকে ডুবিয়ে ময়ূর-২ লঞ্চটি বীরদর্পে লালকুঠি ঘাটে ভেড়ানো হয়। তখন লঞ্চে চালক-মাস্টার ও অন্যান্য স্টাফরাও ছিল। ওই সময়ে সেখানে নৌ পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ নিরাপত্তাকর্মী, কর্মকর্তা ও আনসার সদস্যরাও ছিল। কেউ তখন জড়িতদের আটকাতে উদ্যোগ নেয়নি। তখন আটকালে এখন ওই আসামিদের খুঁজতে হতো না।

আরও পড়ুন

×