ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

১৮ কোটি টাকার ট্রাফিক সিগন্যাল

কোথাও হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রণ কোথাও আলোই জ্বলে না

কোথাও হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রণ কোথাও আলোই জ্বলে না
×

স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যালে লালবাতি জ্বলছে। কিন্তু তা উপেক্ষা করেই চলছে যানবাহন। সোমবার রাজধানীর শাহবাগের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে -সমকাল

অমিতোষ পাল

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৯:৩৯ | আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ২১:০২

রাজধানীর যানজট নিরসনে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যালে আশানুরূপ ফল মিলছে না। বরং অনেক সংযোগস্থলে যানজট আরও বেড়েছে। এ অবস্থায় আবার হাতের ইশারায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে ট্রাফিক সদস্যদের। কিছু সংযোগস্থলে বন্ধ রাখা হয়েছে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা। যেগুলো চালু আছে, সেখানেও লাল-সবুজ-হলুদ বাতির সঠিক কার্যকারিতা নেই। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে চালু করা এই পদ্ধতি সুফল বয়ে আনবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। 

জানা যায়, গত শনিবার আব্দুল্লাহপুর থেকে হাইকোর্ট পর্যন্ত সাতটি ইন্টারসেকশনে পরীক্ষামূলকভাবে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হয়। ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে লাল-সবুজ-হলুদ বাতির খুঁটি বসানো হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ, ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন অথরিটি (ডিটিসিএ) ও রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন যৌথভাবে এই কাজ করে। সুফল পেলে আরও ১৫টি সিগন্যালে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল চালু হওয়া সাতটি মোড় হলো–হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলামটর, সোনারগাঁও (কারওয়ানবাজার), ফার্মগেট, বিজয় সরণি, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এবং জাহাঙ্গীর গেট মোড়।

গতকাল জাহাঙ্গীর গেট থেকে হাইকোর্ট পর্যন্ত সড়কের সংযোগস্থলগুলো ঘুরে দেখা গেছে, কোনো ইন্টারসেকশনেই স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল মেনে যানবাহন চলছে না। আগের মতোই ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা হাতের ইশারা দিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছেন। অবশ্য মাঝে মাঝে কিছু সময়ের জন্য সিগন্যালের সঙ্গে মিলেও যাচ্ছে। আবার বিজয় সরণি ও ফার্মগেটের সিগন্যালগুলোর কোনোটিতেই আলো জ্বলছে না। জাহাঙ্গীর গেট পয়েন্টে ট্রাফিক সদস্যরা চেষ্টা করছেন বাতির সংকেত অনুযায়ী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের। স্কুল শুরু ও শেষের সময় এবং অফিস শুরু ও ছুটির পর তারা সেটি কার্যকর রাখতে পারছেন না। 

কারওয়ান বাজার চৌরাস্তায় পুরোটাই হাতের ইশারা দিয়ে যানবাহন চলাচলের নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ফলে আগের মতোই সিগন্যালগুলোতে যানজট দেখা গিয়েছে। বরং কিছু সিগন্যালে আগের চেয়ে বেশি যানজট লক্ষ্য করা গেছে।  

কারওয়ান বাজার ইন্টারসেকশনে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক সার্জেন্ট মোহাম্মদ আশিক সমকালকে বলেন, পর্যাপ্ত গবেষণা ছাড়াই সিগন্যালের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে চালুর ফলে কিছু ভুলত্রুটি ধরা পড়ছে। এগুলো পর্যালোচনা করে সময় নির্ধারণ করা হবে। এ জন্য মাঝে মাঝে সিগন্যাল বাতি বন্ধ করে রাখা হচ্ছে।
সরেজমিন ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সিগন্যালে দেখা যায়, লাল বাতি জ্বলার সময় গাড়ি থামছে না। আবার সবুজ বাতি জ্বলার সময় যানবাহনগুলো সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকছে। হলুদ বাতির সংকেত দিলেও কোনো যানবাহন তা মানছে না। 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সিগন্যালগুলো বসিয়ে ট্রায়াল দেওয়া হচ্ছে। এতে সুবিধা-অসুবিধাগুলো ধরা পড়ছে। ইতোমধ্যে ট্রাফিক পুলিশদের ট্রাফিক সিগন্যালের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। দিন দশেক গেলে সিগন্যালের সময়গুলো পুনর্নির্ধারণ করা হবে। এভাবে একটি পদ্ধতি দাঁড়াবে। 

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার সমকালকে বলেন, হঠাৎ করে ইন্টারসেকশনগুলোতে সিগন্যাল চালুর ফলে মানুষের অনেক কষ্ট হচ্ছে। আমি নিজেও আজ দুপুরে বেরিয়ে অবস্থাটা দেখেছি। ঢাকা শহরে এত মানুষ। তাদের সিগন্যাল দিয়ে আটকানো যায় না। 

আরও পড়ুন

×