ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ পাসের দাবি

তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ পাসের দাবি
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৯:৫৬

তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যুর লাগাম টানতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ পাসের দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। বুধবার সকালে সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর প্রভাব ও পরবর্তী করণীয়’ শীর্ষক আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এই দাবি জানান তারা। ‘ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পূয়র–ডব়্প’ এর আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, তামাকের ক্ষতি শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। 

টোব্যাকো এটলাস ২০২৫ এর তথ্য অনুযায়ী, তামাক ব্যবহারজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষ অকালে মারা যাচ্ছে। সরকার জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশোধিত অধ্যাদেশটি পাস করেছে। তবে এর স্থায়িত্বের জন্য অধ্যাদেশটিকে সংসদে পাশ করা জরুরি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি বলেন, সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের ফলে ব্যয় ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিবেশগত ক্ষতির ব্যয় ব্যয়ের প্রায় ১৬ শতাংশ। একই বছরে তামাকজাত পণ্য থেকে সরকার যে রাজস্ব আদায় করেছে (প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা), তার তুলনায় এই ব্যয় দুই গুণেরও বেশি। তাই দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যখাতে সরকারের ব্যয় হ্রাস করতে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

বৈঠকে অন্যান্য বক্তারা বলেন, অধ্যাদেশটি সংসদে আইন আকারে পাশ করতে সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনের কার্যক্রম চলমান থাকবে জানিয়ে বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি বিল হিসেবে সংসদে পেশ করার বিষয়ে আইন মন্ত্রনালয়কে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলো যাতে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে অধ্যাদেশের বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়াসহ নির্বাচনী প্রচারণায় তামাক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উল্লেখ করার আহবান জানানো হয়েছে।  

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. পরিমল চন্দ্র মল্লিক, বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির ডেন্টিস্ট্রি অনুষদের ডিন ড. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থা, বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির পরিচালক মো. সুরাতুজ্জামান, লাইট হাউস অর্গানাইজেশনের উপদেষ্টা ওয়াহিদা ইয়াসমিন, সাবেক সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মোঃ তাসনিম লস্কর, ডব়্পের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন, প্রধান নির্বাহী এএইচএম নোমান, উপ নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×