ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পুরোনো যন্ত্রপাতি রেখে অকার্যকর কারখানায় অর্থ ব্যয় করা হবে না: বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী

পুরোনো যন্ত্রপাতি রেখে অকার্যকর কারখানায় অর্থ ব্যয় করা হবে না: বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী
×

লা মেরিডিয়ান ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘গ্র্যান্ড লঞ্চিং ইভেন্ট অব টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের সময় বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ | ২২:৩৫ | আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ | ২২:৩৬

সরকারের বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রে পুরোনো যন্ত্রপাতি অপরিবর্তিত রেখে অকার্যকর কারখানায় অর্থ ব্যয় করা হবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, শিল্পভেদে উপযোগী সমাধানের মাধ্যমে কোথাও শিল্পপার্ক গড়ে তোলা হবে, কোথাও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) অথবা লিজের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হবে। এ বিষয়ে বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শনিবার রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ান ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘গ্র্যান্ড লঞ্চিং ইভেন্ট অব টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা  বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে হলে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা, উদ্ভাবন, গবেষণা এবং পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁর ভাষায়, সাস্টেইনেবিলিটি এখন আর শুধু একটি স্লোগান নয়, এটি শিল্পের অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ টিকে থাকার অন্যতম শর্ত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানিসহ প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত। তাই শিল্পে শক্তি সাশ্রয়, পানি পুনর্ব্যবহার, সার্কুলার উৎপাদন ব্যবস্থা এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিটি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের তৈরি পোশাকশিল্প গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করলেও রপ্তানি এখনো সীমিত কিছু পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। স্পোর্টসওয়্যার, ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাক, টেকনিক্যাল টেক্সটাইলসহ উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্যে দ্রুত অগ্রসর হতে না পারলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা কঠিন হবে।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা এবং সম্ভাব্য এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে পণ্যের বহুমুখীকরণ ও নতুন বাজার অনুসন্ধানে আরও সক্রিয় হতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণা, নকশা উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ইতিহাসে টেক্সটাইল খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তুলনামূলক কম পুঁজিতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এ খাত দেশের শিল্পায়ন ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে এ খাতের সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।

তিনি জানান, চামড়া, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও শিপবিল্ডিংসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা এবং উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের টেক্সটাইল শিল্প আরও আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। এ ধরনের উদ্যোগে সরকার সবসময় সহযোগিতা করবে।

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন প্রফেসর ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনামুল হক খান, প্রফেসর ড. ইঞ্জিনিয়ার আইউব নবী খান, মো. আব্দুল হামিদ এবং ইঞ্জিনিয়ার মো. এনায়েত হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ইঞ্জিনিয়ার মো. শামসুজ্জামান। এছাড়া আরো বক্তব্য দেন ড. মো. হাসিব উদ্দিন এবং তারেক আমিন। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন ইঞ্জিনিয়ার এহসানুল করিম কায়ছার। পরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ইনোভেশন টেক্সটাইল এক্সচেঞ্জ প্লাটফর্ম এর উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

আরও পড়ুন

×