ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শাহজালাল বিমানবন্দরের রপ্তানি শাখায় ৪ স্ক্যানারের তিনটি বিকল

শাহজালাল বিমানবন্দরের রপ্তানি শাখায় ৪ স্ক্যানারের তিনটি বিকল
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতবিদেক

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ | ২২:৫৭ | আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ | ২৩:০৫

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতকি বিমানবন্দরের রপ্তানি শাখায় চারটি এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেমস (ইডিএস) স্ক্যানার মেশিনের মধ্যে তিনটিই বিকল হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে এই পরিস্থিতি চলায় রপ্তানি পণ্যের স্ক্যানিং ও খালাস কার্যক্রমে মারাত্মক ধীরগতি দেখা দিয়েছে বলে দাবি করছেন রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীরা।

বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বেবিচকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চারটি স্ক্যানারের মধ্যে বর্তমানে মাত্র একটি সচল রয়েছে। ফলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রপ্তানি পণ্যের স্ক্যানিংয়ে বিলম্ব হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলোর নির্ধারিত সময়সীমা মেনে পণ্য পাঠাতে এখন আকাশপথে রপ্তানির চাপ বেড়েছে। এর মধ্যে স্ক্যানার সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তারা অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ঢাকা কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি খায়রুল আলম ভূঁইয়া বলেন, রপ্তানি শাখায় স্ক্যানিং কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি কাস্টমস এজেন্টদের কর্মীরাও বিপাকে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দুই সপ্তাহ ধরে স্ক্যানার বিকল থাকলেও কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।’

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, ‘চারটি স্ক্যানারের মধ্যে একটি সচল রয়েছে। এতে রপ্তানি কার্যক্রমে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। কিছুটা বিলম্ব হলেও পণ্য রপ্তানিতে বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে না।’

তিনি দাবি করেন, ‘গতকালও একটি স্ক্যানার দিয়েই প্রায় ৭০০ টন পণ্য স্ক্যানিং করে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বিকল স্ক্যানারগুলো দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে এবং আগামী ২৫ মে নাগাদ মেশিন চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৮০০ টন পণ্য শাহজালাল বিমানবন্দরের মাধ্যমে রপ্তানি করা হচ্ছে। ব্যস্ত মৌসুমে এই পরিমাণ বেড়ে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ২০০ টনে পৌঁছে যায়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে এসব পণ্যের বড় অংশ রপ্তানি হয়। এদিকে আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফলও এখন বিমানপথে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। এসব পণ্যও স্ক্যানিংয়ের আওতায় আনতে হয়। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত স্ক্যানার সচল না হলে রপ্তানি কার্যক্রম আরও বড় সংকটে পড়বে।

আরও পড়ুন

×