মোহাম্মদপুরে বাসার সামনে ছিনতাইয়ের শিকার দুই বোন
স্বর্ণালংকার, টাকা ও গরুর মাংস ছিনিয়ে নিল দুর্বৃত্তরা
চাপাতির মুখে দুই বোনের লাগেজ ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে এ দৃশ্য -সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬ | ০৮:৫০ | আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ | ১১:৪৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঈদের ছুটি শেষে গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও থেকে বাসে গত শনিবার রাতে ঢাকায় ফেরেন দুই বোন। রাজধানীর শ্যামলীতে নেমে একটি রিকশা নেন। মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডের বাসার সামনে তারা যখন নামেন, রাত তখন প্রায় ৩টা। রিকশা থেকে লাগেজ নামানোর পরপরই হন ছিনতাইয়ের শিকার। চাপাতির মুখে তাদের লাগেজ ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। দুই বোনের সঙ্গে ছিল স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং গ্রাম থেকে আনা গরুর মাংস। তাদের লাঞ্ছিতও করে ছিনতাইকারীরা। পাশের ভবনের সিসি ক্যামেরায় এই দৃশ্য ধরা পড়ে। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জড়িতদের ধরতে তৎপরতা শুরু করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর মোহাম্মদপুরে একের পর চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও খুনের ঘটনা ঘটতে থাকে। এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারেনি। একের পর এক অপরাধের কারণে মোহাম্মদপুর এক আতঙ্কের নাম। নিজের বাসার গেটও কারও কাছে নিরাপদ নয় সেখানে।
গতকাল সোমবার ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, দুই নারী রিকশা থেকে মালপত্র নামিয়ে বাসার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের পাশে দুটি বড় লাগেজ ও দুটি ছোট ব্যাগ রাখা। রিকশার চালক পাশেই দাঁড়িয়ে। এ সময় চাপাতি হাতে লুঙ্গি পরা এক যুবক হঠাৎ সেখানে হাজির হয়। মাথায় ক্যাপ ও গায়ে কালো গেঞ্জি ছিল। সে রিকশাচালককে প্রথমে ধাক্কা দেয়। এরপরই চাপাতি হাতে থাকা এই ব্যক্তির সঙ্গে আরেকজনকে দেখা যায়, সে প্যান্ট পরা ছিল। হাতে চাপাতি থাকা যুবক ভয় দেখায় এবং দুই যুবক মিলে ব্যাগ, লাগেজ ও মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। নারীদের অলংকার ও মোবাইল ফোন নিতে তল্লাশিও চালায় দুর্বৃত্তরা।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি মেসবাহ উদ্দিন গতকাল সমকালকে বলেন, ভিডিওতে যে দুই ছিনতাইকারীকে দেখা যায়, তাদের একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আশা করি, খুব শিগগির তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।
ছিনতাইকারীরা আসে পিকআপ ভ্যানে
ছিনতাইয়ের শিকার বড় বোন বেসরকারি একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা। ছোট বোন মোহাম্মদপুর এলাকার একটি কলেজে এমবিএ করছেন।
গতকাল ছোট বোন সমকালকে বলেন, শ্যামলীতে বাস কাউন্টারে নেমে তারা দেখেন, সেখানে কোনো লোকজন নেই। আশপাশও ফাঁকা। তাই সেখানে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে একটি রিকশা নিয়ে নূরজাহান রোডের বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। নূরজাহান রোডের এম গলিতে ঢোকার পর একটি পিকআপ ভ্যান তাদের পেছন দিক থেকে এসে রিকশার পাশে থামে এবং একজন মাথা বের করে ৬ নম্বর সড়ক কোথায় জানতে চায়। তখন রিকশাচালক তাদের সামনে গিয়ে ডানে যেতে বলেন। পিকআপটি সামনে এগিয়ে আবার পেছনে ফিরে আসে। এরই মধ্যে তাদের রিকশা বাসার সামনে পৌঁছেছে। রিকশা থেকে নামামাত্র পিকআপটি তাদের বাসার পাশে থামে। সেখানে চালকসহ তিনজন ছিল।
ভুক্তভোগী ছোট বোন বলেন, পিকআপ ভ্যান থামায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীকে ডাকাডাকি শুরু করেন। তবে কোনো সাড়া পাননি। এরই মধ্যে পিকআপ থেকে লুঙ্গি ও ক্যাপ পরা এক ব্যক্তি চাপাতি নিয়ে নেমে এসে ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করে এবং চিৎকার করতে নিষেধ করে। ওই ছিনতাইকারী বলে, যা আছে সব বের কর; ফোন কোথায়, মানিব্যাগ কোথায়? এরই মধ্যে আরও একজন পিকআপ থেকে নেমে আসে।
তিনি জানান, গলায় চেইন বা কানে দুল আছে কিনা তাও জানতে চায় দুর্বৃত্তরা। বারবার প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলে, ‘একটা শব্দ করবি না। টুঁ শব্দ করলে এক কোপে কল্লা ফেলে দেব, গলা দুই টুকরা করে দেব।’ রিকশাচালক প্রথমে প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
রান্না করা মাংসও নিয়ে গেল
ভুক্তভোগী ছোট বোন জানান, ছিনতাইকারীরা সব মালপত্র পিকআপে তুলে নেয়। এর মধ্যে ছিল দুই বোনের ভ্যানিটি ব্যাগ, লাগেজ এবং বাড়ি থেকে আনা বিভিন্ন জিনিসপত্র। বাড়ি থেকে তারা প্রায় ১০ কেজি কাঁচা কোরবানির মাংস, দেড় কেজির মতো রান্না করা মাংস, আটা, আম এনেছিলেন। এ ছাড়া ব্যাগে নগদ ৩৪ হাজার টাকা, দুই বোনের স্বর্ণের চেইন, কানের দুল, ব্রেসলেট ও আংটি ছিল। রাতে আসার কারণে বাড়ি থেকেই সেগুলো খুলে ব্যাগে নিয়েছিলেন তারা।
তিনি জানান, এক মিনিট ২৭ সেকেন্ডের মধ্যে ছিনতাইকারীরা মালপত্র নিয়ে চলে যায়। তারা চলে যাওয়ার পর নিরাপত্তাকর্মীকে ডেকে ওঠান। পরে বাসায় ঢুকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ আসে। রোববার তারা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
- বিষয় :
- ছিনতাই
- মোহাম্মদপুর
