ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

শিখা অনির্বাণ বন্ধ, জ্বলছে শিখা চিরন্তন

শিখা অনির্বাণ বন্ধ, জ্বলছে শিখা চিরন্তন
×

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জ্বলছে শিখা চিরন্তন। গতকাল মঙ্গলবার তোলা সমকাল

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৫৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অদম্য সাহস ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে ঢাকা সেনানিবাসে স্থাপিত ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ শিখা অনির্বাণ আপাতত জ্বলছে না। জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের নীতিগত অবস্থানের অংশ হিসেবে গত ২ মে থেকে এটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সেনাসূত্রে জানা গেছে, বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় দিবস, রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদন, সামরিক আনুষ্ঠানিকতা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অনুষ্ঠানের সময় শিখাটি প্রজ্বলিত করা হবে। অন্য সময় এটি জ্বালিয়ে রাখা হবে না। তবে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের আরেক স্মারক শিখা চিরন্তন স্বাভাবিকভাবে জ্বলছে।

তদারককারীরা গতকাল সমকালকে বলেন, ওই এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে গেলে মাঝেমধ্যে অগ্নিশিখাটি একটু ছোট হয়ে যায়। তবে এর বাইরে বড় কোনো সমস্যা নেই।
শিখা অনির্বাণ কেন জ্বালানো হচ্ছে না– এ ব্যাপারে গতকাল খোঁজ নেওয়ার পর সেনাসূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারের মিতব্যয়িতা নীতির অংশ হিসেবে শিখা অনির্বাণ জ্বালানো হচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, অস্থিতিশীলতার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বেশ কিছু সাশ্রয়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে শিখা অনির্বাণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে শিখা অনির্বাণের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি রাষ্ট্রের অবস্থানের কোনো সম্পর্ক নেই বলে সূত্রের দাবি।
কয়েক দিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে শিখা অনির্বাণ বন্ধ রাখার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

আগের মতো শিখা অনির্বাণ জ্বালানো হবে কিনা– এমন প্রশ্নে একই সূত্র জানায়, পুনরায় অবিরাম চালু রাখার কোনো সিদ্ধান্ত তারা এখনও পাননি।
সূত্র জানায়, ১৯৭৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিখা অনির্বাণ উদ্বোধন করেন। এর পর থেকে এটি দেশের সামরিক ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
শিখা অনির্বাণ জ্বালাতে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এবার জ্বালানি সাশ্রয়ী নীতির কারণে এটি বন্ধ রাখা হলেও আগে কখনও বন্ধ ছিল কিনা, এমন তথ্য সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।

জ্বলছে শিখা চিরন্তন
গতকাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, স্বাভাবিক সময়ের মতো শিখা চিরন্তন জ্বলছে। স্থাপনাটির পাশেই আনসারের একটি দল বসা। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিখা চিরন্তনসহ উদ্যানের পাহারার দায়িত্ব পালন করছেন তারা।

শিখা চিরন্তন পরিদর্শনকারীদের জন্য রমনা উদ্যানের উত্তর পাশে রয়েছে একটি ফটক। এ ছাড়া পূর্ব-দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়েও স্থানটিতে যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে। উত্তরের ফটক দিয়ে দর্শনার্থীর গাড়ি প্রবেশ করতে পারে।
শিখা চিরন্তন দেখভালের দায়িত্ব পালনকারী সংস্থা গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. গোলজার হোসেন সমকালকে বলেন, শিখা চিরন্তন অবিরাম জ্বালিয়ে রাখতে তিতাস গ্যাসের পাইপলাইনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় গ্যাসের পরিমাণ অনুযায়ী একটি সংযোগ দেওয়া আছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেখানে গ্যাস যায় এবং শিখাটি জ্বলতে থাকে। কখনও কখনও গ্যাসের চাপ কমে গেলে শিখাটি কিছুটা ছোট হয়ে যায়। তবে বন্ধ হওয়ার ঘটনা কখনও ঘটেছে বলে তাঁর জানা নেই।

আরও পড়ুন

×