ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

‘নিখোঁজ’ আন্ডারপাসের খোঁজ!

কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি রামপুরা আন্ডারপাস ব্যবহার করেনি কেউ

‘নিখোঁজ’ আন্ডারপাসের খোঁজ!
×

রাজধানীর রামপুরায় ডিআইটি রোডের নিচে তৈরি করা আন্ডারপাস ঢেকে আছে ময়লায় - সমকাল

 অমিতোষ পাল

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ০৮:০৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

সড়কের দুই পাশের পথচারীর চলাচল নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীর রামপুরায় ডিআইটি রোডের নিচে তৈরি করা হয়েছিল আন্ডারপাস। বিস্ময়কর হলো, সেখানে আন্ডারপাস আছে, সেটি কেউই জানতেন না। ফলে কখনও সেখানে পড়েনি পথচারীর পা! কোটি টাকা খরচায় কোন সংস্থা এটি তৈরি করেছিল, তাও বলতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কেউ।

রামপুরা ব্রিজের দক্ষিণ পাশের নিচে আন্ডারপাসটির অবস্থান। পূর্ব পাশে বনশ্রী যাওয়ার রাস্তা। পশ্চিম পাশে হাতিরঝিলের প্রবেশপথ। এরই মাঝ বরাবর ‘লুকানো’ এই আন্ডারপাস। এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ ফুট আর প্রস্থ প্রায় ৩০ ফুট। সম্প্রতি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ আন্ডারপাসটি ‘আবিষ্কার’ করে। ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে থাকায় সেটি যে আন্ডারপাস, তা বোঝার উপায় ছিল না। 
আন্ডারপাসটি কারা নির্মাণ করেছে, সেটি জানার চেষ্টা করে সমকাল। আন্ডারপাসের কয়েকটি ছবি তুলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বোরহান আহমেদের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে নির্মাণ তথ্য জানতে চাওয়া হয়। তিনি বলেন, ওই জায়গাটা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মধ্যে পড়েছে। তারা বলতে পারবে। একইভাবে ছবিগুলো ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলমের কাছে পাঠালে তিনি বলেন, এটি রাজউক নির্মাণ করেছে। এটির সঙ্গে ডিএনসিসির সম্পর্ক নেই। সম্ভবত হাতিরঝিল তৈরির সময় রাজউকই এটি তৈরি করেছিল।  

জানতে চাইলে রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী আমিনুর রহমান সুমন বলেন, আন্ডারপাসটি যে কারা তৈরি করেছিল, সেটি বলা মুশকিল। একটি আন্ডারপাস নির্মাণের পর সবাই সেটি ভুলে যায়, এমন নজির বাংলাদেশেই সম্ভব। তিনি বলেন, ট্রাফিক বিভাগ জানানোর পর আমি সেখানে গিয়েছি। সেটিকে কীভাবে ব্যবহারযোগ্য করা যায়, সে জন্য রাজউকের স্থাপত্য বিভাগকে দুই পাশের সংযোগ সড়কের নকশা তৈরির জন্য বলেছি। তারা এটি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এটি করা গেলে অনেক মানুষের উপকার হবে। নকশার পর তিন মাসের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। 

সরেজমিন দেখা যায়, এক্সক্যাভেটর দিয়ে মাটি কেটে পথচারী যাতে হেঁটে আন্ডারপাস পর্যন্ত যেতে পারে সে কাজ করা হচ্ছে। আন্ডারপাসের পূর্ব দিকে বনশ্রী সড়কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার রাস্তাটি চাটাই দিয়ে ঘেরা। এর একপাশে সিটি করপোরেশনের একটি বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র (এসটিএস), আরেক পাশে ঢাকা ওয়াসার একটি পানির পাম্প। আন্ডারপাসের ভেতরে ময়লার স্তূপ। 

রামপুরা এলাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, ‘দুই মাস হলো বদলি হয়ে এখানে এসেছি। আসার পরই দেখতে পাই, সকাল আর বিকেল বেলা রামপুরা টিভি সেন্টার ও ব্রিজের সামনে ভয়াবহ যানজট লেগে যায়। কারণ, প্রচুর লোক রাস্তার ওপর দিয়ে পারাপার হয়। বিটিভির সামনে একটা ইউলুপ থাকলেও অনেক ঘুরতে হয় বলে সেটি কেউ ব্যবহার করতে চায় না। এ ছাড়া সেখানে রাস্তা পারাপারের বিকল্প কোনো ব্যবস্থাও নেই। পরে একদিন কিছু নেশাখোরকে আন্ডারপাসের দিকে যেতে দেখি। পরে সেখানে গিয়ে দেখি একটা টানেলের মতো। তখন বুঝতে পারি এটি আন্ডারপাস। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই।’ 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, ‘টিআই আনোয়ার আন্ডারপাসটির কয়েকটি ছবি আমাকে পাঠানোর পর রাজউকের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা এখন সেটিকে ব্যবহার উপযোগী করবে বলে জানিয়েছে। আন্ডারপাসটি চালু হলে রামপুরা এলাকায় যানজট থাকবে না।’ 
রামপুরা এলাকার স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে তৈরি হয় রামপুরা ব্রিজ। পরে একবার ভেঙে গেলে সেটি মেরামত করা হয়। হাতিরঝিল প্রকল্প নেওয়ার সময় আধুনিকভাবে ব্রিজটি তৈরি করা হয়। ২০১২ সালের ৩০ নভেম্বর চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় ব্রিজটি। তৈরির সময় যাতে একপাশের পথচারী সহজে অন্যপাশে যাতায়াত করতে পারে সেজন্য ব্রিজের দক্ষিণ পাশে একটি আন্ডারপাস করা হয়। তবে পথচারীর জন্য আন্ডারপাসের দুই পাশের সংযোগ সড়ক তৈরি করা হয়নি। হাতিরঝিল বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের মালপত্র রাখার গুদাম হিসেবে আন্ডারপাসটি ব্যবহার করেছে। তারা চলে গেলে সেটি আবর্জনায় ভরে যায়। 

আরও পড়ুন

×