ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজউকের প্লটের দলিল ভুলে ভরা, ভোগান্তি

রাজউকের প্লটের দলিল ভুলে ভরা, ভোগান্তি
×

ছবি: ফাইল

অমিতোষ পাল 

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬ | ১০:৩৫

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে পাওয়া প্লটের দলিলের ভুল তথ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন দুই সহস্রাধিক প্লট মালিক। এখন দলিল সংশোধন করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা। অনেক ক্ষেত্রে প্লটের নতুন দলিল করতে গিয়ে তাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। রাজউক কর্মকর্তা-কর্মচারীর পেছনে ঘুরতেও হচ্ছে মাসের পর মাস। কখনও কখনও উৎকোচ নেওয়ারও অভিযোগ মিলছে। 

সবচেয়ে বেশি ভুলের ঘটনা ঘটেছে পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পে। সেখানে রাজউক বাধ্য হয়ে গ্রাহকের ভুল সংশোধনের জন্য একটি সাইট অফিসও খুলেছে। আর উত্তরা (তৃতীয় পর্ব) ও ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের প্লটের সংখ্যা কম হওয়ায় সেখানে ভুক্তভোগী কিছুটা কম। 

এখন পর্যন্ত কতজন প্লট মালিক দলিল সংশোধন করেছেন– এ তথ্য জানতে পারেনি সমকাল। জানতে চাইলে পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পের পরিচালক এম. এম. এহসান জামীল এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।

রাজউকের এক পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, যাদের দলিলে ভুল হয়েছে, তারা নতুন করে রেজিস্ট্রি দলিল না করে রাজউকের একটি অনাপত্তিপত্র নিয়েও বাকি কাজ চালাতে পারবেন। তবে জমি যেহেতু দীর্ঘমেয়াদি ব্যাপার, এ জন্য নতুন করে দলিল করে নেওয়া ভালো। কারণ, এখন অনুমতিপত্র নিয়ে কাজ চালানো গেলেও ভবিষ্যতে কেউ যদি প্লটের মালিকানা বদলাতে চান, তখন এই দলিল লাগবেই। নইলে তিনি জমি বিক্রি করতে পারবেন না।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ১৫টি ও গাজীপুরের কালীগঞ্জের দুটি মৌজায় ছয় হাজার ১৫০ একর জায়গা নিয়ে পূর্বাচল উপশহর প্রকল্প গড়ে তুলেছে রাজউক। এখানে রয়েছে ২৬ হাজার ২১৩টি আবাসিক প্লট। এর বাইরে আছে আরও দুই হাজার ৬২১টি অনাবাসিক প্লট। এরই মধ্যে প্রায় সব প্লট বরাদ্দ হয়ে গেছে। অন্তত ২০ হাজার প্লট মালিক তাদের নামে দলিলও পেয়েছেন। 

গত বছরের শুরুর দিকে রাজউক তাদের সব আবাসিক প্রকল্পের প্লট মালিকের নামে জরিপ খতিয়ান (তসদিক পর্চা) প্রস্তুতের উদ্যোগ নেয়। রাজউক তখন বুঝতে পারে যেসব প্লট রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়া হয়েছে, সেখানে অনেক প্লটের ক্ষেত্রে নানা অসংগতি রয়েছে। মৌজা ছাড়াও থানার পরিচিতি, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, মা-বাবার নামসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুল হয়েছে। তখনই প্লট পাওয়া ব্যক্তিদের নোটিশ দিয়ে এসব তথ্য সংশোধনের অনুরোধ জানায় রাজউক। 

ভুক্তভোগীদের এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে গত বছরের জুনে পূর্বাচল নীলা মার্কেটের লেকের পাশে একটি সাইট অফিস খোলা হয়। পূর্বাচলের প্লট পাওয়া ব্যক্তিরা দলিলে কোনো ভুল আছে কিনা, সেখানে গিয়ে যাচাই করতে পারছেন। যাচাইয়ে এমনও দেখা গেছে, পূর্বাচলের রূপগঞ্জ থানার অন্তর্ভুক্ত প্লটের থানা উল্লেখ করা হয়েছে কালীগঞ্জ। আবার কালীগঞ্জের জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে কেরানীগঞ্জ। 

পূর্বাচলে প্লট পাওয়া একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, স্থানীয় এক ব্যক্তিকে আমার প্লটটি দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছিলাম। সেই লোকই আমাকে রাজউকের নোটিশের কথা জানায়। পরে রাজউকে গেলে তারা পূর্বাচল সাইট অফিসে যোগাযোগ করতে বলে। সাইট অফিসে গিয়ে জানতে পারি, দলিলে ভুল হয়েছে। তখন সাইট অফিস থেকে রাজউকে যোগাযোগ করতে বলে। রাজউক নতুন দলিল করার পরামর্শ দেয়। এই কাজ করতে আমাকে দুই মাস ঘুরতে হয়েছে। 

ঝিলমিল প্রকল্পে প্লট পাওয়া এক প্রবীণ ভুক্তভোগী জানান, কয়েক মাস ঘুরে তিনি নতুন দলিল করেছেন। তার দলিলে থানার পরিচিতিতে ভুল ছিল। কিন্তু এটা করতে গিয়ে নতুন করে রেজিস্ট্রেশন ফি না লাগলেও তার ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। দলিল লেখাতেই দিতে হয়েছে ১০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ভূমি অফিস ও রাজউকের দু-চারজনকে এক থেকে দুই হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে। 

এদিকে, উৎকোচ দাবি করার অভিযোগ পেয়ে গত জুনে রাজউকের নিম্নমান সহকারী মুসা খানকে বদলি করা হয়। কী কারণে দলিলে এমন ভুল হয়েছে, সে বিষয়ে রাজউকের এক কর্মকর্তা বলেন, কম্পিউটারে দলিল লেখার সময় সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি হয়তো গুরুত্ব দেননি। তাদের দক্ষতারও অভাব ছিল। এ জন্যই এসব ঘটনা ঘটেছে।

দলিলে ভুলের বিষয়টি স্বীকার করে রাজউক চেয়ারম্যন প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, এ জন্য কাউকে দায়ী করব না। এটা রাজউকেরই ভুল। তবে যারাই ভ্রম সংশোধন সম্পর্কিত আবেদন জমা দিচ্ছে, তাদের ফাইলগুলো আসার সঙ্গে সঙ্গেই অনুমতি দিয়ে দিচ্ছি। রাজউকের এই ভুলের জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।

আরও পড়ুন

×