উত্তরায় ঢাকার দ্বিতীয় মিয়াওয়াকি আরবান ফরেস্ট উদ্বোধন
মিয়াওয়াকি বনাঞ্চলের জন্য গাছের চারা রোপণ করেন অতিথিরা। মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরায়। ছবি: সংগৃহীত
বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬ | ১২:৫২ | আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২৬ | ১২:৫৪
রাজধানীর উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরের লেকসাইড এলাকায় ঢাকার দ্বিতীয় মিয়াওয়াকি আরবান ফরেস্ট উদ্বোধন করা হয়েছে। শক্তি ফাউন্ডেশন ফর ডিসএডভান্টেজড উইমেন ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি)-এর এই উদ্যোগে সহায়তা করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।
মঙ্গলবার বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস উপলক্ষে এই বনাঞ্চল উদ্বোধন করা হয়। মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে গড়ে তোলা এ বনাঞ্চলের লক্ষ্য হলো- নগর পরিবেশে সবুজায়ন বৃদ্ধি, বায়ুদূষণ ও তাপমাত্রা কমানো এবং নগরবাসীর জন্য একটি স্বাস্থ্যকর, পরিবেশবান্ধব উন্মুক্ত স্থান তৈরি করা।
প্রায় ২ হাজার ২৮৫ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা মিয়াওয়াকি বনটিতে ৯৩টি দেশীয় ফলজ, ফুলজ এবং ঔষধি প্রজাতির ৬ হাজার ১০০টি গাছ রোপণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগ জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে প্রকৃতিনির্ভর সমাধান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার, বেসরকারি খাত এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজউকের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন এমটিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন শক্তি ফাউন্ডেশন ফর ডিসএডভান্টেজড উইমেন-এর উপ-নির্বাহী পরিচালক ইমরান আহমেদ।
অনুষ্ঠানে রাজউক চেয়ারম্যান একটি সবুজ, টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল ঢাকা গড়ে তুলতে নগর বনায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি এ ধরনের উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ও পরিচর্যায় স্থানীয় জনগণ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘রাজউকের সবুজ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সহায়তা করার জন্য শক্তি ফাউন্ডেশনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’ এমটিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান দ্রুত নগরায়ণের এই সময়ে সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘শহর যত বিস্তৃত হচ্ছে, ততই এ ধরনের মিয়াওয়াকি আরবান ফরেস্ট আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।’
টেকসই উদ্যোগের মাধ্যমে জলবায়ু কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে শক্তি ফাউন্ডেশনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন ইমরান আহমেদ। তিনি বলেন, ‘গাছ লাগানোই শেষ কথা নয়, বরং সঠিকভাবে পরিচর্যা করাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, প্রথম দুই বছর যত্ন নেওয়া গেলে এই গাছগুলো ভবিষ্যতে এমন একটি বনাঞ্চলে পরিণত হবে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষ ও পরিবেশের উপকারে আসবে।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, রাজউকের সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ বশিরুল হক ভূঁইয়া, প্রধান প্রকৌশলী (প্রকল্প ও নকশা) মোহাম্মদ মুজাফফর উদ্দিন, প্রধান প্রকৌশলী (বাস্তবায়ন) আমিনুর রহমান, এমটিবির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং হোলসেল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ মামুন ফারুক, তুরাগ মডেল থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমানসহ সরকার প্রমুখ।