দক্ষিণখানে বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যা, অভিযুক্ত যুবক গ্রেপ্তার
ম্যাপ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ০১:৫৮
টাকা চেয়ে না পাওয়ায় মাহবুবা আরা বেগম (৭১) নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন তাঁরই দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়। বৃহস্পতিবার রাজধানীর দক্ষিণখানে এ ঘটনা ঘটে। তবে শুক্রবার নিহতের ছেলে মাহবুব হাসান বাদী হয়ে হত্যা মামলা করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এ হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে আবু তালহা সজিবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহতের স্বজন এ কে এম রুহুল আমিন জানান, মাহবুবা বেগমের এক ছেলে ও দুই মেয়ে। ছেলে উত্তরায় থাকেন, এক মেয়ে একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটে এবং অপর মেয়ে টঙ্গীতে থাকেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায়। নিহতের ছেলে রাতে সিসিটিভি ক্যামেরায় মাকে দেখতে না পেয়ে আগের ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। সেখানে দেখা যায়, এক যুবক শয়নকক্ষে ঢুকে মাহবুবা বেগমের মুখ চেপে ধরে হত্যা করে এবং পরে মরদেহ টেনে অন্য কক্ষে নিয়ে যায়। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সজিব নিহতের ভাশুরের নাতি। তিনি নিয়মিত ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। তিনি যে বাসায় থাকতেন, সেখানে প্রায় ১৭ হাজার টাকা বাড়িভাড়া বকেয়া ছিল। এ কারণে মাহবুবা বেগমের কাছে টাকা চাইলে তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানান। ঘটনার সময় বৃদ্ধার স্বামী আসরের নামাজ পড়তে বাইরে গেলে সজিব প্রথমে ঘুমিয়ে থাকা মাহবুবা বেগমের স্বর্ণের দুল চুরি করার পরিকল্পনা করেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনি একবার ঘরে উঁকি দিয়ে ফিরে যান। পরে একটি কাপড় নিয়ে এসে বৃদ্ধার মুখ চেপে ধরেন।
এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন আরও বলেন, ‘‘এ সময় মাহবুবা বেগম চিৎকার করে বলেন, ‘তুই আমার সঙ্গে এমন করছিস কেন? আমার ছেলে সব সময় অনলাইনে সিসি ক্যামেরা দেখে।’ তখন সজিব তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।’’
পুলিশ জানায়, হত্যার পর সজিব বৃদ্ধার দুটি স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে একটি দোকানে বিক্রি করে দেন। পরে অভিযান চালিয়ে গলানো অবস্থায় সেই স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া নিহতের হাতের চুড়ি নিয়ে গেলেও সেগুলো স্বর্ণের না হওয়ায় ফেলে দিয়েছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তিনি।