ডেমরায় উদ্ধার বোমা ছিল ‘ডেটো বোমা’
জড়িতরা দাওলাতুল ইসলামের সদস্য
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ০১:৪৭
রাজধানীর ডেমরা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া জুয়েল ভুঁইয়া ওরফে ওস্তাদ এবং আরিফ চৌধুরী জঙ্গি সংগঠন দাওলাতুল ইসলামের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ। ডেমরা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গতকাল সোমবার তাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ বলছে, তাদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইসটি (আইইডি) ছিল ‘ডেটো বোমা’। এটি নন-ইলেকট্রিক ধরনের আইইডি।
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার জুয়েল নব্য জেএমবির আলোচিত বোমার কারিগর নাজমুল হাসান মামুন ওরফে বোমারু মামুনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নরসিংদীর জেলা কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া নয়জন জঙ্গির মধ্যে জুয়েল ছিলেন। সেদিন মোট ৮২৬ জন বন্দি পালিয়ে যান। কারাগারের অস্ত্রাগার ও কারারক্ষীদের কাছ থেকে অস্ত্র-গুলি লুট করা হয়েছিল।
কয়েকদিন পর জুয়েল আবার গ্রেপ্তার হন এবং তাঁকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে রাখা হয়। পরে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দায়িত্ব পাওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একই বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন। তারা একে একে জামিনে বের হয়ে আবার সংগঠিত হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত রোববার ডেমরার সারুলিয়ার নিঝুমবাগ গরিবে নেওয়াজ মসজিদ এলাকা থেকে জুয়েল ও আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছে দুটি ডেটো বোমা উদ্ধার করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি), অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং ডেমরা থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ডেটো বোমা দুটি সিটিটিসির বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা নিষ্ক্রিয় করেন। এ ঘটনায় এটিইউয়ের এসআই পলাশ আলী বাদী হয়ে ডেমরা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করছে এটিইউ। মামলায় জুয়েল ও আরিফকে আসামি করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, জুয়েল ও আরিফ দাওলাতুল ইসলামের সদস্য। জুয়েলের বাড়ি নরসিংদীর শিবপুর থানার কাজিরচর এলাকায়। আরিফের বাসা ডেমরার সারুলিয়া এলাকায়। তাদের সহযোগী হিসেবে নাজমুল হাসান মামুন, আব্বাস আলী, কামাল হোসেন ডাক্তার, বাপ্পী, রাকিব ও সামাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, দুই আসামিকে গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এটিইউর এসআই রফিকুল ইসলাম দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জুয়েলের তিন দিন এবং আরিফের দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
- বিষয় :
- জঙ্গি সংগঠন
- বোমা