ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গুলশানে আবাসন প্রকল্পের নামে দখলবাজি কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান টিআইবির

গুলশানে আবাসন প্রকল্পের নামে দখলবাজি কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান টিআইবির
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:৪৫

যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে রাজধানীর গুলশানে ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের (ঢাকা ওয়াসা) ১১৪ কাঠা জমিতে আবাসন ভবন নির্মাণের উদ্যোগকে ‘জমি দখলবাজি-সহায়ক’ উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

একটি বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াসার এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে টিআইবি বলেছে, নিয়মবহির্ভূত ও অনৈতিক প্রস্তাবটি পাওয়ার পরই তা প্রত্যাখ্যান করা উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে প্রস্তাবটি বিবেচনার নামে রাজউক থেকে বরাদ্দ পাওয়া ওয়াসার জমি ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক প্রভাবশালী ব্যক্তির মালিকানাধীন আবাসন প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এ উদ্যোগ অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ওয়াসার সম্পদের মালিকানা জনগণের। তাই এসব সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ, উন্মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং প্রয়োজন হলে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান করা উচিত।

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি প্রতিষ্ঠানের একক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ ও বিশাল একটি সম্পত্তিতে ওয়াসা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিকাঠামোর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, প্রস্তাবটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করে স্বল্প সময়ের মধ্যে কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে তা বিবেচনা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে প্রস্তাবকারী প্রতিষ্ঠানের জমি দখলের উদ্যোগের সঙ্গে ওয়াসার একাংশের যোগসাজশের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্যোগটি অবিলম্বে বাতিল এবং পুরো বিষয়টি তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য—‘প্রস্তাবটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কোনো ধরনের চাপের মুখে নয়, বরং ঢাকা ওয়াসার স্বার্থ বজায় রেখে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে’ উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজউক থেকে ইজারাপ্রাপ্ত জমি উন্নয়নের নামে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাজউক এ বিষয়ে অবগত নয়।

তাঁর ভাষ্য, ‘এখানে মূলত স্বার্থান্বেষী মহলের কারসাজি ও বিশেষ গোষ্ঠীগত স্বার্থে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের সম্পত্তি এভাবে গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিল ও মুনাফা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হলে তা কোনো ভালো দৃষ্টান্ত তৈরি করবে না।’

তিনি আরও বলেন, ঢাকা ওয়াসার কর্মসম্পাদন সহায়তা কমিটির একাংশও এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ওয়াসা যদি তার প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থে ওই জমিতে ভবন নির্মাণ বা কোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড করতে চায়, তাহলে প্রথমে এর যৌক্তিকতা যাচাই করতে হবে। এরপর বিদ্যমান নীতিকাঠামো অনুসরণ করে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

একই সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপ, ভয় কিংবা প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে ওয়াসা যাতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×