উগ্রবাদবিরোধী জাতীয় সম্মেলন শেষ
উগ্রবাদে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা বেড়েছে
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৯:৩১
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সহিংস হামলার ঘটনা কমলেও উগ্রবাদে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে যেমন উগ্রবাদী সংগঠনগুলো সদস্য সংগ্রহ করছে, তেমনি নানাভাবে তরুণদের টার্গেট করে তাদের দলে ভেড়ানোর কাজ চলছে। ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ব্যক্তিরা উগ্রবাদে জড়াচ্ছে বেশি। দেশে যে উগ্র বা জঙ্গি সংগঠনগুলো রয়েছে, এর প্রায় ৯০ শতাংশই আহলে হাদিস সম্প্রদায় থেকে এসেছে।
দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত দু'দিনব্যাপী 'উগ্রবাদবিরোধী জাতীয় সম্মেলন-২০১৯'-এ বিভিন্ন প্রবন্ধ, গবেষণাপত্র ও আমন্ত্রিত অতিথিদের বক্তব্যে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
জাতিসংঘ ও মার্কিন সংস্থা ইউএসএআইডির সহায়তায় ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ওই সম্মেলনের আয়োজন করে। সোমবার রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে এ সম্মেলন শুরু হয়ে মঙ্গলবার শেষ হয়। সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি। এ সম্মেলনে গবেষণাপত্র এবং উগ্রবাদ প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে কাজ করা বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, বিষণ্ণতা, একাকিত্ব ও বৈষম্য থেকে তরুণরা উগ্রবাদে ঝুঁকে পড়ছে। মাদ্রাসার বাইরে সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণরাও ঝুঁকছে। সম্মেলনে উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে বিভিন্ন অংশীজন নিয়ে সমন্বিত কার্যক্রম চালানোরও সিদ্ধান্ত আসে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে জঙ্গিবাদ নির্মূলে অনেকটাই সফল হওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত 'জিরো টলারেন্স' নীতির আলোকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করায় এটা সম্ভব হয়েছে। জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, ছেলেমেয়েদের নিঃসঙ্গতা, একাকিত্ব ও বিষণ্ণতা দূর করতে বাবা-মায়েদের নজর দিতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সত্যিকারের মাদ্রাসায় কোনো জঙ্গি হতে পারে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু দেখার আগে সেটা যাচাই করে নিতে হবে। বিবেকটাকে কাজে লাগাতে হবে সবাইকে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, যেসব জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, তাদের নিয়ে সেখানে কাজ করার অনেক বিষয় রয়েছে; কিন্তু এ ধরনের কাজ এখনও সেভাবে চোখে পড়েনি। কারাগারে বন্দি জঙ্গিদের ডি র্যাডিক্যালাইজড করার জন্য আরও কাজ করা উচিত। উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাইরে অনেক কাজ হচ্ছে, জঙ্গিদের ধরা হচ্ছে। যারা জামিনে আছে, তাদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে, কিন্তু ভেতরে (কারাগারে) তেমন কার্যক্রম নেই।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ যেসব জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে, বিচারের মুখোমুখি করেছে তাদের ৯০ শতাংশের বেশি আহলে হাদিস মতবাদী। যেহেতু এ মতবাদের ব্যক্তিরা বেশি জঙ্গিবাদে ঝুঁকছে, তাই তাদের নিয়ে কাজ করতে হবে। ওই পন্থার বড় ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। জেলখানায় থাকা জঙ্গিদের বোঝানোর মতো লোক সেখানে নেই। তাই বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে।
অনুষ্ঠানে ইউএসএআইডির ডেপুটি মিশন ডিরেক্টর জন এলেলো বাংলাদেশে উগ্রবাদ প্রতিরোধে তাদের সংস্থার নানা সহযোগিতার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের ডিসি সাইফুল ইসলাম বলেন, দেশে উগ্রবাদী সহিংস ঘটনা কমেছে; কিন্তু উগ্রবাদে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের অনলাইন প্রচার প্ল্যাটফর্ম 'দাওলিল্লাহ'র তথ্য উপস্থাপন করে বলেন, ওই অনলাইনে ২০১৬ সালে অনুসারী ছিল সাড়ে পাঁচশ'। এখন সেখানে অনুসারী তিন হাজারের বেশি। তিনি উগ্রবাদ থেকে ফেরাতে বিভিন্ন তথ্যও উপস্থাপন করেন।
সমাপনী বক্তব্যে জাতীয় সম্মেলনের সভাপতি ও সিটিটিসির প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, দেশে প্রথমবারের মতো হওয়া এ সম্মেলন উগ্রবাদ দমনে তাদের সঠিক পথ দেখাবে। কীভাবে এটা প্রতিরোধ করা যায়, সে বিষয়ে অনেক বক্তব্য এসেছে। সব অংশীজন এ উগ্রবাদ-জঙ্গিবাদ দমনে একটা ঐকমত্যে পৌঁছেছে, যা ভবিষ্যতে কাজে দেবে।
- বিষয় :
- উগ্রবাদ
- জঙ্গি
- উগ্রবাদবিরোধী জাতীয় সম্মেলন
