ক্রান্তিকালের যোদ্ধা কৃষক ও কৃষিবিদ
আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২০ | ০৬:০২ | আপডেট: ১৮ মে ২০২০ | ০৭:০০
করোনাভাইরাসের ভয়াল আক্রমণে আধুনিক উন্নত দেশের ন্যায় বাংলাদেশের মানুষও বৈশ্বিক মহামারিতে আক্রান্ত। আমেরিকা, ইউরোপসহ বিশ্বের অনেক দেশের রাষ্ট্রনায়ক যখন হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের গর্বের প্রধানমন্ত্রী, জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, সশস্ত্রবাহিনী, আইনশৃঙ্খলাকর্মী, কৃষিবিদ, প্রকৌশলী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, মিডিয়াবন্ধুসহ সকল পেশাজীবী, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং সকল শ্রেনি-পেশার জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে দেশ ও জাতিকে সুরক্ষা দেওয়ার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সম্মুখ সারিতে থেকে যে সকল বীর করোনা-যোদ্ধা হিসেবে জনগণের স্বাস্থ্য সেবা, সুরক্ষা, খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহসহ সকল সেবা কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন তাদের জানাই সশ্রদ্ধ সালাম। জাতি এই বীরদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে।
করোনা বৈশ্বিক মহামারির সময় শেখ হাসিনা সরকার স্বাস্থ্য সেবার সাথে সাথে কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিজের দেশের জনগণের জন্য খাদ্য সরবরাহ শুধু নিশ্চিত করতে নয়, খাদ্য সংকটের দেশেও সহযোগিতার লক্ষ্যে কৃষিতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন এবং দেশের এক ইঞ্চি জায়গাও অনাবাদি না রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে এই বৈশ্বিক মহামারির সময় বাংলার কৃষকগণ যেভাবে খাদ্যশস্য উৎপাদন অব্যাহত রেখেছেন তা শুধু গর্বেরই বিষয় নয়, বিস্ময়করও বটে। কৃষিতে তারাই প্রকৃত সম্মুখ যোদ্ধা। তাদের জানাই সশ্রদ্ধ সালাম।
ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ও ঝুকির মধ্যে থেকেও ন্যূনতম সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়া একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে অতীতের ন্যায় কৃষিবিদগণ খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রেখে অর্থনীতিকে সচল রাখতে কৃষকের পাশে থেকে সহযোদ্ধা হিসাবে সরকারের গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। এই পেশাদারিত্ব মনোভাবের জন্য বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদের পক্ষ থেকে সংগ্রামী কৃষিবিদদের জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। এ বৈশ্বিক মহামারির ক্রান্তিলগ্নের সময় যেসব কৃষিবিদ মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা। অনেক কৃষিবিদ ও তার পরিবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।
'কভিড-১৯' করোনা মহামারি ভাইরাসজনিত রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ও বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য ও কৃষি একে অপরের সাথে যোগসূত্র স্থাপন করতে হবে। চিকিৎসক ও কৃষিবিদ যৌথ সমন্বয়ে নিবিড়ভাবে গবেষণা কার্যক্রমে 'ওয়ান হেলথ' সার্ভিস (স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাদ্য পুষ্টি) ধারণা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
বস্তুত 'দেশের এক ইঞ্চি জায়গাও অনাবাদি না রাখার' যে আহ্বান প্রধানমন্ত্রী জানিয়ছেন, তা সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। এজন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে সকল কৃষিবিদ ও কৃষিশিক্ষায় অধ্যয়নরত ভবিষ্যত কৃষিবিদদের আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সাথে কৃষি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলিকে (কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রণালয়) নবীন কৃষিবিদদের সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট করার আহ্বান জানাচ্ছি।
ফসল উৎপাদন যাতে ব্যহত না হয় সেজন্য গুণগত মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন ও বিপণন এবং পুষ্টি চাহিদা নিবারণের জন্য দুধ, ডিম, মাছ ও মাংস ইত্যাদি পর্যাপ্ত উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের আরও বেশি অবদান রাখতে হবে।
কৃষি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল কৃষি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি কৃষি গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে 'কৃষি মহাপরিকল্পনা' প্রণয়ণ করতে পারে। যেন সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কৃষিকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী দিনের একটি জনকল্যাণকর বাজেট প্রণয়ন করতে পারে।
প্রসঙ্গত, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ ইতোমধ্যে কৃষি ও কৃষকের কল্যাণে ১৪ দফার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেছেন।
বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ ও কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত কৃষিবিদ ভাই ও বোনেরা অতীতের মতো যে কোন ক্রান্তিকালে কৃষকরত্ন শেখ হাসিনার পাশে থাকবে।
লেখক: মহাসচিব, বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ