ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

হজমের সমস্যায় ভুগছেন?

হজমের সমস্যায় ভুগছেন?
×

নাহিদা আহমেদ

প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাঙালি ভোজনরসিক হলেও হজমের সমস্যায় ভোগেন না–এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। অতিরিক্ত তেল, মসলা বা অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস প্রায়ই এ সমস্যার কারণ হয়।
চিকিৎসকদের মতে, ঘন ঘন ওষুধের ওপর নির্ভরতা পরিহার করা উচিত। কারণ এটি হজম ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয় এবং দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও সঠিক জীবনযাত্রার মাধ্যমে হজম প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করা বুদ্ধিমানের কাজ।
হজম প্রক্রিয়ার তিনটি ধাপ–খাবার গ্রহণ, সম্পূর্ণ হজম হওয়া এবং হজমের পর তা দেহে শোষণ হওয়া। প্রতিটি ধাপই গুরুত্বপূর্ণ। শোষণ ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হলে ওজন বৃদ্ধি, লিপিড প্রোফাইল বৃদ্ধি, ইউরিক এসিড বৃদ্ধি এবং রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ব্যক্তিভেদে হজম প্রক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে। তাই নিজ শরীরের সহনশীলতা পর্যবেক্ষণ করে হজমশক্তি বাড়ানোর কার্যকর কৌশল আয়ত্ত করুন। 

খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খান: খাবার যত বেশি চিবানো হয়, মুখগহ্বরের লালারসে থাকা উৎসেচক (যেমন অ্যামাইলেজ) তত বেশি পরিমাণে খাবারের সঙ্গে মিশে যায়। এতে খাদ্যকণা ছোট ছোট অংশে বিভক্ত এবং পাচনতন্ত্রের কাজ সহজ হয়। এটি পুষ্টি শোষণ বাড়াতে এবং বদহজম কমাতে সাহায্য করে। তাই সময় হাতে নিয়ে খেতে বসুন।

প্রোবায়োটিকযুক্ত খাবার খান: দই, কেফির বা গাঁজন করা সবজি হলো প্রোবায়োটিক বা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার চমৎকার উৎস। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো অন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখে, হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
গ্রিন টি পান করুন: গ্রিন টিতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (ক্যাটেচিন) হজমের উৎসেচকগুলোর কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়তা করে। এটি পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে এবং গ্যাস-ব্লোটিং কমাতে সহায়ক হতে পারে। খালি পেটে পান না করে হালকা নাশতার পর পান করা ভালো।
আঁশযুক্ত (ফাইবার) খাবার বাড়ান: শাকসবজি, ফলমূল, হোল গ্রেন (যেমন ওটস, ব্রাউন রাইস), শস্যদানা এবং বীজ পর্যাপ্ত পরিমাণে খান। ফাইবার মলকে নরম করে এবং পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে খাদ্য চলাচলে সাহায্য করে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে কার্যকর।
জলপানের পরিমাণ বাড়ান: শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা হজম প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য। জল খাদ্যকে নরম করে এবং অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখে। দৈনিক আড়াই থেকে তিন লিটার জল পান করার অভ্যাস করুন। জলশূন্যতা বদহজমের একটি কারণ।
সঠিক সময়ে খাবার গ্রহণ: পুষ্টিবিদদের মতে, যারা হজমের সমস্যায় ভোগেন তারা সকালে তুলনামূলক ভারী নাশতা করুন। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাবারের পরিমাণ কমানো উচিত। রাতের খাবার ৮টার মধ্যে সেরে ফেলুন এবং খাবার ও ঘুমের মধ্যে কমপক্ষে ২-৩ ঘণ্টার ব্যবধান রাখুন। খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ঘুমাতে যাবেন না।

যেসব খাবার ও অভ্যাস এড়িয়ে চলবেন–
l প্রক্রিয়াজাত ও টিনজাত খাবার: এসব খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ, কৃত্রিম সংযোজন এবং প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়। এসব রাসায়নিক উপাদান হজমের সমস্যা এবং পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। যতটা পারা যায় প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।
l অতিরিক্ত ঝাল-তেল-মসলা: অতিরিক্ত ফ্যাট এবং শুকনো মরিচ হজমের সমস্যা, এসিডিটি ও বুকজ্বালা বাড়িয়ে দিতে পারে। একান্তই ঝাল খেতে হলে কাঁচামরিচের ঝাল খান, যা হজম ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। শুকনো মরিচ একেবারেই নয়।
l কিছু খাবারের ভুল সমন্বয়: মাংস খেয়েই দুধ, ভাতের পরেই ফল, ভাজাভুজি খেয়েই পানি– এসব একসঙ্গে একদম নয়। এ ধরনের ভুল সমন্বয় হজমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
হজমের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী বা গুরুতর হলে অবশ্যই একজন চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আপনার হজমসংক্রান্ত বা অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে আরও তথ্য জানুন। v
[পুষ্টিবিদ]

আরও পড়ুন

×