ভ্রমণের সময় বমি এড়ানোর উপায়
ডা. খাজা নাজিম উদ্দীন
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৪৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
অনেকেই আছেন যারা গাড়িতে চড়লেই বমি করেন বা বমি বমি ভাবের জন্য অস্বস্তিকর অবস্থায় থাকেন। মোশন সিকনেস বলতে সাধারণত বাস, কার, ট্রেন বা উড়োজাহাজে যাত্রাকালীন অসুস্থতাকে বোঝায়। এই কারণে যারা সমস্যাটিতে ভোগেন, তারা আতঙ্কে লম্বা ভ্রমণ করতে চান না বা অন্যদের কাছে বিব্রতবোধ করেন। বাচ্চাদের মাঝে এই সমস্যা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।
ভ্রমণে বমি কেন হয়?
বমির জন্য দায়ী হলো আমাদের অন্তঃকর্ণের (কানের ভেতরের অংশ) এবং চোখের সংকেতের মধ্যে সমন্বয়হীনতা। চলন্ত বাসের ঝাঁকুনিতে কানের ভেতরের ফ্লুইড নড়াচড়া করে, যা অন্তঃকর্ণের মাধ্যমে মস্তিষ্ককে বার্তা দেয় যে, শরীর গতিশীল। একই সময়ে, আমাদের চোখ গাড়ির ভেতরের স্থির বস্তুর দিকে তাকিয়ে মস্তিষ্ককে বার্তা দেয় যে, শরীর স্থির আছে। এই দুই ধরনের অসংলগ্ন তথ্যের জন্য মস্তিষ্কে সমন্বয়হীনতার সৃষ্টি হয়। মস্তিষ্ক এই অবস্থাকে ভুলবশত ‘বিষ’ হিসেবে শনাক্ত করে এবং সেই ‘বিষ’ শরীর থেকে বের করে দেওয়ার জন্য বমি বা বমি বমি ভাবের সৃষ্টি হয়।
প্রতিরোধে করণীয়
ঘুম বা চোখ বন্ধ রাখা: বাসে বসে ঘুমিয়ে গেলে বমি আসে না, কারণ চোখ তখন মস্তিষ্কে স্থির থাকার কোনো বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দেয় না। ঘুম না এলেও হালকাভাবে দুই চোখ বন্ধ করে রাখুন বা তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব আনুন।
বাইরে দৃষ্টি নিবদ্ধ করা: চলন্ত অবস্থায় যানবাহনের ভেতরে দৃষ্টি নিবদ্ধ না রেখে জানালা দিয়ে বাইরে দূরত্বের দিকে তাকান। এটি সংকেতের সামঞ্জস্য রক্ষা করতে সাহায্য করে।
আসন নির্বাচন: এই সমস্যা থেকে বাঁচতে সামনের দিকে বা জানালার কাছে আসন নিন। জানালা খুলে দিন, যাতে শরীরে ঠান্ডা বাতাস লাগে। চলন্ত গাড়িতে বই, পত্রিকা বা মোবাইল ফোনে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে কোনো কিছু পড়তে থাকলে বমি বমি ভাব বা বমি হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
বসার দিক: গাড়িতে আড়াআড়িভাবে বা যেদিকে গাড়ি চলছে, সেদিকে পেছন দিয়ে অর্থাৎ উল্টো হয়ে কখনও বসবেন না। অনেকে আড্ডা দেওয়ার জন্য সিটে ঘুরে বসেন, যা মোশন সিকনেসকে আমন্ত্রণ জানায়। এছাড়া যে যানবাহনে বিপরীতমুখী সিট থাকে, সেখানে বসার চেষ্টা করবেন না। পেছনের সিটেও ঝাঁকি বেশি লাগে, তাই সেটিও এড়িয়ে চলুন।
খাদ্যাভ্যাস: যাদের এই সমস্যা আছে তারা যাত্রা শুরুর আগে ভরপেট খাবেন না। হালকা খাবার বা শুধু তরল গ্রহণ করুন।
ওষুধ গ্রহণ: চিকিৎসকের পরামর্শমতো বমি ভাব দূর করার জন্য নির্দিষ্ট ওষুধ বাহনে ওঠার ২০-৩০ মিনিট আগেই খেয়ে নিতে পারেন। ঘন ঘন সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
প্রাকৃতিক উপায়: গাড়িতে বসে আদা কিংবা চুইংগাম চিবালেও উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া, ব্যাগে কয়েকটা লেবু পাতা রাখতে পারেন ও গাড়িতে চড়ে তা নাকের কাছে ধরতে পারেন।
ধূমপান ও মানসিকতা: ভ্রমণের সময় ধূমপান করবেন না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ‘গাড়িতে উঠলেই আমার বমি হবে’–এমন নেতিবাচক চিন্তা ভ্রমণের সময় কখনও মনে আনা যাবে না।
[সাবেক, মেডিসিন রোগ বিশেষজ্ঞ, বারডেম]
- বিষয় :
- ভ্রমণ