বেআইনিভাবে ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের সিইওকে অপসারণের অভিযোগ
.
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৫ | ২৩:৪৩
ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আব্দুল খালেক মিয়াকে বেআইনিভাবে অপসারণের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএর কাছে এ বিষয়ে মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। আব্দুল খালেক মিয়া অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি সমকালের কাছে স্বীকার করেছেন। তবে অপসারণের কারণ নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
সিইও আব্দুল খালেককে অপসারণের চিঠিতে বলা হয়েছে, সিইও পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ১০ নম্বর শর্ত অনুযায়ী কোম্পানির পর্ষদ সভায় তাঁর চাকরির অবসানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের ভাইস চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ। নিয়োগ চুক্তির ১০ ধারায় দুই মাসের নোটিশে চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রদানের কথা রয়েছে। তবে বীমা আইন ২০১০ এর ৮০(২) উপধারায় বলা হয়েছে, বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে আইডিআরএ’র পূর্ব অনুমতি ছাড়া অপসারণ, চাকরিচ্যুত বা বরখাস্ত করা যাবে না। আবার সিইও এবং কোম্পানি বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির শুনানি ছাড়া আইডিআরএ অপসারণের অনুমতি দিতে পারে না। আইডিআরএ’র মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন কনসালট্যান্ট সাইফুন্নাহার সুমী সমকালকে বলেন, কোম্পানির সিইওকে অপসারণে আইডিআরএ কোনো অনুমতি দিয়েছে বলে তাঁর জানা নেই।
তিন বছরের চুক্তিতে আব্দুল খালেক ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশের সিইও পদে আছেন ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে। তাঁর আরও এক বছরের বেশি এ পদে দায়িত্ব পালনের চুক্তি আছে। অপসারণের কারণ জানতে চাইলে আব্দুল খালেক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। ভাইস চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদের মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে জানতে কোম্পানি সচিব চৌধুরী আহাসানুল হকের মোবাইল ফোনে কল ও খুদেবার্তা পাঠানো হয়। তিনি সাড়া দেননি।
জানা গেছে, গত ১৪ আগস্টের পর ছুটির দরখাস্ত দিয়ে সিইও অফিস করছেন না। গত ১৯ আগস্ট কোম্পানি সচিব চৌধুরী আহাসানুল হক এবং বীমা দাবি বিভাগের প্রধান জহিরুল হক সিইওর বাসায় গিয়ে পর্ষদের পক্ষ থেকে পদত্যাগ করার বার্তা পৌঁছে দেন।
ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন। গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে পলাতক রয়েছেন তিনি। তবে পর্ষদ সভায় ও এজিএমে অনলাইনে অংশ নিচ্ছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পর্ষদ চলছে জোড়াতালি দিয়ে। বীমা দাবির নাম করে এ প্রতিষ্ঠানে পরিচালকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ বহুদিনের।
- বিষয় :
- অপসারণ
