দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ঘুরে দাঁড়াতে পারে
ফ্রেডেরিক নিউম্যান
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬ | ০৮:০৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ব্যাংক এইচএসবিসির এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রেডেরিক নিউম্যান বলেছেন, বাংলাদেশ অর্থনীতি ক্রমশ পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তেলের দাম কমে আসা, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা হ্রাস এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী থাকায় বছরের দ্বিতীয়ার্ধে তৈরি পোশাক রপ্তানি ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
গত মঙ্গলবার ঢাকায় ‘এইচএসবিসি ইকোনমিক আউটলুক ২০২৬: দ্য বাংলাদেশ পারস্পেকটিভ’ শীর্ষক একটি বিশেষ আয়োজনে ফ্রেডেরিক নিউম্যান মূল প্রবন্ধে এমন মত দেন। অনুষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিল্প খাতের প্রতিনিধি বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। এইচএসবিসি বাংলাদেশ গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমপি। বিশেষ বক্তব্য দেন এইচএসবিসির এশিয়া অঞ্চলের ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটসের হেড অব ব্যাংকিং ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রিয়া কিনি। স্বাগত বক্তব্য দেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান।
ফ্রেডেরিক নিউম্যান বলেন, বাংলাদেশে চলমান অর্থনৈতিক সংস্কারের ইতিবাচক প্রভাব দেশীয় বিনিয়োগ ও ভোগ ব্যয়কে আরও উৎসাহিত করবে। ফলে চলতি অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।
এতে ‘আস্ক দ্য মিনিস্টার’ শীর্ষক একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যা সঞ্চালনা করেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান। সেখানে ঘোষিত বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের অগ্রাধিকার ও চ্যালেঞ্জ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার এ সময়ে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে আস্থা পুনরুদ্ধার করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে আনা এবং অধিক কার্যকর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে। রপ্তানি বহুমুখীকরণে কী ধরনের নীতিমালা সহায়ক হতে পারে– এমন এক প্রশ্নের উত্তরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিয়ন্ত্রক প্রতিবন্ধকতা হ্রাস, নতুন বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন খাতের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করাই এর মূল চাবিকাঠি।
মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার পরবর্তী অধ্যায় নির্ধারিত হবে প্রবৃদ্ধির গুণগত মান এবং টেকসই ভিত্তির ওপর। বৈশ্বিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং তারল্য সংকোচনের প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো এবং বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলে আরও উচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর সক্ষমতার ওপর। এখন লক্ষ্য শুধু প্রবৃদ্ধি অর্জন নয়, বরং একটি বহুমুখী রপ্তানি ভিত্তি এবং এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা হবে প্রতিযোগিতামূলক, অভিযোজনক্ষম এবং বৈশ্বিক পরিসরে বিশ্বস্ত।
প্রিয়া কিনি বলেন, ‘দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাজারের গতিবিধি সম্পর্কে এগিয়ে থাকা আমাদের গ্রাহকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এইচএসবিসির গ্লোবাল রিসার্চ টিমের বিশ্লেষণধর্মী তথ্য এবং আমাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে তারা আত্মবিশ্বাস ও নির্ভুলতার সঙ্গে অনিশ্চয়তা মোকাবিলা করে উদীয়মান ব্যবসায়িক সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারে।’
অনুষ্ঠান শেষে একটি নেটওয়ার্কিং ডিনারের আয়োজন করা হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
- বিষয় :
- রপ্তানি