বহুপক্ষীয় উন্নয়ন অর্থায়ন কমছে ঝুঁকিতে দরিদ্র ও স্বল্পোন্নত দেশ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬ | ০৮:০৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
বহুপক্ষীয় উন্নয়ন অর্থায়নের গতি-প্রকৃতি পাল্টে যাচ্ছে। মূল অর্থায়ন ও বিশেষ অর্থায়ন দুটিই কমছে। ২০২৪ সালে বহুপক্ষীয় উন্নয়ন অর্থায়ন আগের বছরের তুলনায় কমেছে ১৫ শতাংশ। ২০২৭ সাল সময়ের মধ্যে ওইসিডির ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স কমিটির সদস্যদের উন্নয়ন অর্থায়ন ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। স্বল্প বা রেয়াতি সুদে এই উন্নয়ন অর্থায়ন এখনও দরিদ্র ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রধান ভিত্তি। এ ধরনের অর্থায়ন কমায় দরিদ্র ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা ঝুঁকিতে পড়ছে।
গতকাল বুধবার অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) সহযোগিতায় বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ওইসিডি মাল্টিলেটারাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স ২০২৬ প্রতিবেদনের বিভিন্ন তথ্য ও পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়। ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বহুপক্ষীয় অর্থায়ন কমে আসা ও আরও কমে যাওয়ার যে আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছে, তা ভূরাজনৈতিক ও ভূঅর্থনৈতিক বাস্তবতার একটা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
তিনি বলেন, উন্নয়ন সহযোগীদের নীতি ও বাস্তবতার মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। উপদেষ্টা বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটে গত জুন পর্যন্ত বাংলাদেশকে শুধু জ্বালানি বাবদ ৩৪৬ কোটি ডলার ভুর্তকি দিতে হয়েছে। অথচ এই সংকটে অনেক উন্নয়ন সহযোগী পুরোপুরি নীরব ছিল। এ পরিপ্রেক্ষিতে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোতে সংস্কারের দাবি জানান উপদেষ্টা।
দেশে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের নানা উদ্যোগের তথ্য তুলে উপদেষ্টা বলেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ, পুঁজিবাজার সংস্কার, বন্ড বাজারের উন্নয়ন এবং বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি আরও বহুমুখী অর্থায়ন কৌশল অনুসরণ করছে সরকার।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, বহুপক্ষীয় উন্নয়ন অর্থায়ন ব্যবস্থা একটি দিক পরিবর্তনের মুহূর্তে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক খাতে উন্নয়ন অর্থায়ন থেকে ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছে। দেশ যখন এলডিসি থেকে উত্তরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ মুহূর্তে বৈশ্বিক অর্থায়নের ধারায় এই পরিবর্তন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
ওইসিডি মাল্টিলেটারাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স প্রতিবেদনটির বিভিন্ন দিকে তুলে ধরেন এর অন্যতম লেখক লিওনার্দো আলতিয়েরি। তিনি বলেন, বহুপক্ষীয় উন্নয়ন অর্থায়ন ব্যবস্থা সংকোচনের ধাপে প্রবেশ করছে। ২০২৪ এটি আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশের মতো কমেছে। ২০২৩ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে ওইসিডির ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিটির সদস্যদের অর্থায়ন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
ওইসিডির আর্কিটেকচার অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ইউনিটের সিনিয়র ইকোনমিস্ট প্রধান অঁরি-বের্নার সোলিনিয়াক-লেকোঁত বলেন, বহুপক্ষীয় অর্থায়ন ব্যবস্থা হুমকির মুখে রয়েছে। অবস্থা কীভাবে উন্নতি করা যায় তা নয়, এটিকে টিকিয়ে রাখাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাহসী এবং সুপরিকল্পিত সংস্কারের মাধ্যমে এটিকে এখনও রক্ষা করা সম্ভব।
পাকিস্তানের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট পলিসি ইনস্টিটিউট (এসডিপিআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আবিদ কাইয়ুম সুলেরি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর উচিত বহুপক্ষীয় অর্থায়নকে রক্ষা করার পাশাপাশি এ সম্পর্কিত সুশাসনের দাবি জানানো।
সাউদার্ন ভয়েসের গবেষণা ও উদ্ভাবন প্রধান ড. প্রত্যুষ শর্মা বলেন, উন্নয়ন সহায়তার কাটছাঁট বিস্তৃত সরবরাহ শৃঙ্খলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং মাঠপর্যায়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাবিত ফেলতে পারে।
নেপারেল সাউথ এশিয়া ওয়াচ অন ট্রেড, ইকোনমিকস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. পরশ খরেল বলেন, টেকসই এলডিসি উত্তরণের জন্য অব্যাহত উন্নয়ন সহায়তা অপরিহার্য। কারণ যে কোনো প্রতিকূল ধাক্কায় সংশ্লিষ্ট দেশের উন্নয়নমূলক অর্জনগুলো উল্টোমুখী হয়ে যেতে পারে।
আলোচনায় শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধি ড. রোশান অ্যান পেরেরা বলেন, সহজ শর্তের অর্থায়নের সুবিধা হারিয়ে ফেললে তা গ্রহীতা দেশগুলোকে ব্যয়বহুল বাণিজ্যিক ঋণের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
- বিষয় :
- সিপিডি