ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভর্তুকি কমাতে বছরে ৯৪০ কোটি টাকা আয় বাড়াতে চায় টিসিবি

ভর্তুকি কমাতে বছরে ৯৪০ কোটি টাকা আয় বাড়াতে চায় টিসিবি
×

ছবি: সমকাল ইপেপার

মেসবাহুল হক 

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:০৭ | আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সাশ্রয়ী দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ভর্তুকির চাপ কমাতে সমন্বিত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর আওতায় লাভজনক পণ্য বিক্রি, ব্যাংক ঋণের সুদের জন্য ব্যয় কমানো, পরিবহন ব্যয় সাশ্রয় এবং অর্থ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে বছরে অন্তত ৯৪০ কোটি টাকা আয় বাড়াতে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি। 

সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠানে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফয়সল আজাদ এক উপস্থাপনায় এসব পরিকল্পনার কথা জানান। বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

টিসিবির প্রণীত কৌশলপত্র অনুযায়ী, ভর্তুকি কমানোর প্রথম উদ্যোগ হিসেবে সাবান, ডিটারজেন্ট, চা, লবণ ও মসলার মতো পণ্য বিক্রির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব পণ্য বাজারজাত করে বছরে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা আয় বাড়াতে চায় সংস্থাটি। বর্তমানে টিসিবির কার্যক্রম মূলত ভর্তুকিযুক্ত পণ্যকেন্দ্রিক হলেও নতুন পরিকল্পনায় লাভজনক পণ্যের ব্যবসা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সুদ ব্যয় কমানোর উদ্যোগ
টিসিবির ভর্তুকির একটি বড় অংশ ব্যাংক ঋণের সুদ পরিশোধে চলে যায়। সংস্থাটির নিজস্ব তহবিল না থাকায় ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভর করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। ভর্তুকির প্রায় ৩০ শতাংশই ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়। ফলে ভর্তুকির চাপ বাড়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সুদ ব্যয়। টিসিবি মনে করে, অর্থ বিভাগ সময়মতো ভর্তুকির অর্থ ছাড় করলে তা দিয়ে ব্যাংকের দায় পরিশোধ করা সম্ভব হবে এবং বাড়তি সুদ গুনতে হবে না। এতে বছরে অন্তত ৩৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে।

এ ছাড়া ডিলারদের কাছ থেকে সরাসরি টিসিবির ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা দেওয়ার জন্য অনলাইন এপিআই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ট্রেজারি ব্যবস্থাপনা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি প্রায় ১০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত মুনাফা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে। গুদাম থেকে সরাসরি ডিলারদের কাছে পণ্য সরবরাহ করে পরিবহন ব্যয়ে ২০ কোটি টাকা এবং টার্নওভার কর ও ভ্যাট থেকে ২০ কোটি টাকা সাশ্রয়ের আশা করছে টিসিবি।

ভর্তুকির সীমা ৩০ শতাংশ
নতুন দাম সমন্বয় ও বাজার বিভাজন পরিকল্পনায় পণ্যের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ আরও বাস্তবভিত্তিক করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর জন্য কোনো পণ্যের মূল দামের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়ার সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে টিসিবির। এ পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রতি প্রান্তিকে পণ্যের দাম সমন্বয় করবে এবং এ বিষয়ে টিসিবি সুপারিশ করবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে টিসিবিকে সরকারের ভর্তুকি দিতে হয়েছে ৩ হাজার ২২২ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা। তবে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৮৩০ কোটি ১৯ লাখ টাকা ভর্তুকি বকেয়া রয়েছে। এ কারণে প্রতিদিন প্রায় ৬৬ লাখ টাকা ব্যাংকের সুদ বাবদ ব্যয় হচ্ছে। সুদের বোঝা কমাতে দ্রুত ভর্তুকির অর্থ ছাড়ের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করেছে টিসিবি। 

ডিজিটাল হচ্ছে টিসিবির কার্যক্রম
ভর্তুকির অর্থের অপচয় রোধ ও প্রকৃত সুবিধাভোগী নিশ্চিত করতে টিসিবির কার্ড ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রায় এক কোটি কার্ডধারীর ম্যানুয়াল তালিকা ডিজিটাল ডেটাবেজে রূপান্তর করা হয়েছে। ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে ওটিপি যাচাই এবং লাইভ ছবি ধারণ করে পণ্য বিতরণ করা হচ্ছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারের অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধাভোগীরা টিসিবির কার্ড পাবেন না। এতে প্রকৃত দরিদ্র ও দুস্থদের অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব হবে।

সম্পদ কাজে লাগিয়ে আয় বাড়ানোর উদ্যোগ
পণ্য বিক্রির পাশাপাশি নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগিয়েও আয় বাড়াতে চায় টিসিবি। উত্তরা, তেজগাঁও ও গুলিস্তানে সংস্থার নিজস্ব জমিতে বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বরিশাল ও রাজশাহীতে আধুনিক গুদাম নির্মাণ এবং কৌশলগত মজুত গড়ে তুলতে ৬৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

×