২০২৯ সালের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, জ্বালানি সংকটে থাকা দেশের শিল্প ও ব্যবসা খাতে আসন্ন শীতকালের মধ্যেই স্বস্তি আসবে। শীতের আগেই পরিস্থিতির দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বড় আকারের অর্থনীতির জন্য ২০২৯ সালের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি, নতুন বেতন কাঠামো, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান তৈরি, রাজস্ব আহরণ ও সার্বিক অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, অতীতে পর্যাপ্ত মজুত না রাখায় জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এ অভিঘাত সামলাতে বিকল্প পরিবহনপথ এবং নতুন জ্বালানি উৎস বিবেচনা করা হচ্ছে। খাদ্যের মতো জ্বালানি ও বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট পরিমাণ বাফার মজুত রাখার মানদণ্ড তৈরি করা হচ্ছে; যাতে দেশের অন্তত তিন মাসের জ্বালানি মজুত থাকে। একইভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের তিন মাসে কাঁচামালের মজুতের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য চলতি বছরের নভেম্বরে দরপত্র আহ্বান করা হবে। এ কার্যক্রমে বাপেক্সকে সম্পৃক্ত রাখা হবে। পাশাপাশি দেশের কয়লা সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সৌরবিদ্যুৎ প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, মানুষকে শুধু বিদ্যুতের গ্রাহক নয়, উৎপাদক হিসেবেও গড়ে তুলতে নেট মিটারিং কার্যকর করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ৩৬ হাজার আবেদন পাওয়া গেছে। ২০২৯ সালের নভেম্বরের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াও দ্রুত এগোচ্ছে। পে সার্ভিস কমিশন ও সশস্ত্র বাহিনীর পে কমিটির প্রতিবেদন সচিব কমিটি পর্যালোচনা করেছে। বিচার বিভাগের পে কমিটির কাজও শুরু হয়েছে। চূড়ান্ত ঘোষণা ও বাস্তবায়নের তারিখ মন্ত্রিসভার বৈঠকেই নির্ধারণ করা হবে। নতুন পে স্কেলের অর্থায়নে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে ঋণ নেওয়া হবে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির পাশাপাশি উৎপাদন, জ্বালানি ও সামাজিক নিরাপত্তার মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে একটি খাতের ওপর নির্ভর না করে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে।
তিনি বলেন, পুঞ্জীভূত সংকট কাটিয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগোচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে চলতি অর্থবছর ৪১ লাখ মানুষকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হচ্ছে। এর ফলে দারিদ্র্য ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। এ ছাড়া ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মাফ করে ১২ লাখ কৃষককে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দীর্ঘদিনের বন্ধ কলকারখানা চালু করতে সরকার কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করেন ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে কর ব্যবস্থায় পাঁচ বছরের পরিকল্পনা এবং বন্ডেড ওয়্যারহাউস নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। অনুমোদনের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও লালফিতার দৌরাত্ম্য কমানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, বন্ধ কারখানা চালুর লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক আইন ও অধ্যাদেশ জারি করে ডিসেম্বরের মধ্যে হস্তান্তরের জন্য দরপত্র চলছে। চট্টগ্রাম ও মোংলায় নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ইপিজেড আগামী ১৮ মাসের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। উত্তরাঞ্চলে কৃষি-শিল্পে অর্থায়ন জোরদার করা হচ্ছে। এ ছাড়া ওষুধশিল্পের মান যাচাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসবে।
- বিষয় :
- জ্বালানি