কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতি প্রণয়ন জরুরি
চামড়াশিল্প নিয়ে বিল্ড ও এশিয়া ফাউন্ডেশনের সংলাপ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৫৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
চামড়াশিল্পের কঠিন বর্জ্যকে পরিবেশের জন্য বোঝা হিসেবে না দেখে অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে কাজে লাগাতে একটি সমন্বিত ‘জাতীয় কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতি’ প্রণয়ন করা দরকার। সঠিক নীতি, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে চামড়াশিল্পের বর্জ্য থেকে উচ্চমূল্যের বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি আমদানি ব্যয় কমানো এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ রয়েছে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর ওয়েস্টিন ঢাকায় বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড) ও দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ‘বর্জ্য থেকে সম্পদ: চামড়াশিল্পজাত কঠিন বর্জ্য উপজাত উদ্যোক্তা মডেল’ শীর্ষক নীতি সংলাপে এসব কথা উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব স্মৃতি কর্মকার বলেন, চামড়াশিল্পজাত কঠিন বর্জ্যকে শুধু পরিবেশ বা নদীদূষণের সমস্যা হিসেবে না দেখে সঠিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন ব্যবসা, বিনিয়োগ ও সবুজ উদ্যোক্তা তৈরির মূল্যবান অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে দেখতে হবে। রপ্তানি বহুমুখীকরণ, নীতি-সহজীকরণ, উন্নত বাজারে প্রবেশাধিকার এবং বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে চামড়া খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
স্বাগত বক্তব্যে বিল্ডের চেয়ারপারসন আবুল কাসেম খান বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে চামড়াশিল্পজাত কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বড় সম্ভাবনা রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উপজাত প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে চাইলেও কাঁচামালের তীব্র ঘাটতির মুখে পড়ছেন। এ সমস্যা সমাধানে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মধ্যকার ব্যবধান দূর করে সরকারি মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের মধ্যে শক্তিশালী সহযোগিতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
মূল প্রবন্ধে বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফেরদৌস আরা বেগম জানান, সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে বছরে প্রায় ৮৪ হাজার টন কঠিন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ক্রোমিয়াম-মুক্ত বিমহাউস ট্রিমিংস ও ফ্লেশিং। এগুলো থেকে জেলাটিন, কোলাজেন, প্রোটিন মিল ও ট্যালোর মতো উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, ত্রুটিপূর্ণ নীতি কাঠামো, অস্পষ্ট বর্জ্য কোড শ্রেণিবিন্যাস এবং উৎসে বর্জ্য পৃথককরণের প্রোটোকলের অভাবে এসব মূল্যবান উপকরণের বেশির ভাগই অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে বা যত্রতত্র ডাম্প করা হচ্ছে। বর্জ্যকে বিপজ্জনক আবর্জনা হিসেবে না দেখে সেকেন্ডারি শিল্প কাঁচামাল হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
তাঁর মতে, বাণিজ্যিক বায়োরিফাইনারি থেকে এসএমই পর্যায়ের ট্যালো নিষ্কাষণ ইউনিট পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যবসায়িক মডেল গড়ে তোলা সম্ভব। এতে দেশীয় বাজারে মূল্য সংযোজনের পাশাপাশি জেলাটিন, আঠা, জুতার সোলে ও পোলট্রি ফিড অ্যাডিটিভস আমদানিতে বছরে প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে।
ইউনডোর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ আলমগীর হোসেন বলেন, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে এগোতে হলে বাংলাদেশকে একটি নির্দিষ্ট খাতের ওপর নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। চামড়াশিল্পকে বিকল্প গুরুত্বপূর্ণ প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বিসিকের পরিচালক (শিল্প উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ) কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পরিবার, অফিস, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। সরকার একা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ সমাধান করতে পারে না। নাগরিক, ব্যবসা, শিল্প ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ দরকার। তিনি একটি মাস্টার অ্যাকশন প্ল্যান ও ডেডিকেটেড কোঅর্ডিনেশন কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষণা সংস্থা র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, ডিটিআইডব্লিউটিপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম শাহনেওয়াজ, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশরাত শবনম, বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি টিপু সুলতান এবং দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের সিনিয়র প্রজেক্ট ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন খান আলোচনায় অংশ নেন। সমাপনী বক্তব্য দেন দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর আইনী ইসলাম।
- বিষয় :
- সংলাপ