১০২ কোম্পানি লভ্যাংশ দেবে ৪৩৩৫ কোটি টাকা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ০৮:০০
| প্রিন্ট সংস্করণ
দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত জুন মাসে হিসাব বছর শেষ হওয়া কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণার মৌসুম শেষ। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ হিসাব বছর শেষে ১০২ কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের কমবেশি লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এসব কোম্পানি সাকুল্যে চার হাজার ৩৩৫ কোটি টাকার লভ্যাংশ দিতে যাচ্ছে। শুধু সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নন, প্রাতিষ্ঠানিক, বিদেশি ও উদ্যোক্তা-পরিচালকরাও এ লভ্যাংশের ভাগ পাবেন।
গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুনে হিসাব বছর শেষ হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচ কোম্পানি স্টক বা বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর পরিমাণ মাত্র ৬৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ কোম্পানিগুলোর নগদ লভ্যাংশ প্রদানের প্রবণতা বাড়ছে। লাভ-লোকসানের তথ্য প্রকাশ করলেও ব্যবসায়িক মন্দা, তহবিল সংকট কিংবা নিট লোকসানের কারণে ২৮ কোম্পানি এ বছর শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
এর বাইরে আরও ১১৪ কোম্পানি আছে, যেগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লভ্যাংশ-সংক্রান্ত ঘোষণা তো দূরের কথা, পর্ষদ সভাই করেনি। এসব কোম্পানির বেশির ভাগই লোকসানি, রুগ্ণ বা বন্ধ। সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ডিএসই জানিয়েছে, এগুলোর অন্তত ৩৭ কোম্পানির ব্যবসা বা উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ।
লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানি
লভ্যাংশ প্রদানকারী ১০২টি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক আর্থিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ হিসাব বছরে এসব কোম্পানি সর্বমোট ১১ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে। অর্জিত মুনাফার বিপরীতে চার হাজার ৩৩৫ কোটি ৫২ লাখ টাকার লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের দেওয়ার সুপারিশ করেছে। নিট মুনাফার প্রায় ৩৬ দশমিক ৯২ শতাংশ অর্থই লভ্যাংশ আকারে বণ্টন করা হচ্ছে।
অন্য এক হিসাবে দেখা গেছে, লভ্যাংশ ঘোষণাকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১২টির গত হিসাব বছরে লোকসান হয়েছিল। তা সত্ত্বেও আগের বছরগুলোর পুঞ্জীভূত মুনাফা থেকে কমবেশি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। যেমন– এসিআই লিমিটেড গত বছর ৭৫ কোটি টাকার বেশি নিট লোকসানের পর ১৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।
মুনাফার পরিমাণ ও নগদ লভ্যাংশের অঙ্কে বরাবরের মতোই দাপট বজায় রেখেছে ওষুধ ও রসায়ন, প্রকৌশল, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। একক কোম্পানি হিসেবে নিট মুনাফা ও নগদ লভ্যাংশের অঙ্কে শীর্ষে অবস্থান করছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটি দুই হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা নিট মুনাফা করে ১৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যার মোট টাকার অঙ্ক এক হাজার ১৫২ কোটি টাকা।
প্রকৌশল খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন হাই-টেক এক হাজার ২৩৭ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করে ১৮০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এতে কোম্পানিটির মোট লভ্যাংশ দাঁড়িয়েছে ৬৯৬ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ইউনাইটেড পাওয়ার ৯২৪ কোটি তিন লাখ টাকা নিট মুনাফা করে ৩৪৭ কোটি ৮২ লাখ টাকার নগদ লভ্যাংশ (৬০ শতাংশ) ঘোষণা করেছে।
ফার্মাসিউটিক্যালস খাতের বেক্সিমকো ফার্মা ৮৯৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা নিট মুনাফার বিপরীতে ২৬৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা (৬০ শতাংশ নগদ) এবং রেনাটা লিমিটেড ৩৬৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা মুনাফা করে ৬৩ কোটি আট লাখ টাকা নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া ইস্পাত খাতের বিএসআরএম স্টিল ও বিএসআরএম লিমিটেড যথাক্রমে ২২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা (৬০ শতাংশ) ও ১৬৪ কোটি ২২ লাখ টাকার (৫৫ শতাংশ) নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। শতাংশের বিচারে বড় লভ্যাংশ দেওয়া অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ইবনে সিনা (৭৭% নগদ), মতিন স্পিনিং (৪৫% নগদ ও ১০% স্টক), এমজেএল বাংলাদেশ (৫০% নগদ), সামিট পাওয়ার, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল এবং এসিআই ফর্মুলা।
লোকসান সত্ত্বেও লভ্যাংশ ঘোষণা ১২ কোম্পানির
ব্যবসায়িক মন্দা ও লোকসানের মুখে পড়েও শেয়ারহোল্ডারদের খালি হাতে ফেরায়নি তালিকাভুক্ত ১২টি কোম্পানি। পুঞ্জীভূত মুনাফা থেকে কিংবা ক্যাটেগরি ধরে রাখার তাগিদে নিট লোকসান সত্ত্বেও নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে এসব প্রতিষ্ঠান।
এর মধ্যে সবচেয়ে বড় লোকসান সত্ত্বেও লভ্যাংশ দিয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান এসিআই লিমিটেড। সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ার প্রতি আট টাকা ৫৯ পয়সা লোকসান করলেও কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের তিতাস গ্যাস শেয়ার প্রতি ছয় টাকা দুই পয়সা লোকসান সত্ত্বেও ২ শতাংশ নগদ ঘোষণা করেছে।
- বিষয় :
- শেয়ারবাজার