ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত প্রকল্পে অর্থসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে

সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত প্রকল্পে  অর্থসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে
×
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন শুরুতেই বড় ধাক্কা খেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) প্রণয়নের নীতিমালা জারি করেছে পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগ। নীতিমালায় চলতি অর্থবছরে সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত প্রকল্পগুলো আবশ্যিকভাবে চিহ্নিত করে সেগুলোর প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ধীরগতির প্রকল্পের বরাদ্দ কমিয়ে সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত প্রকল্পে অর্থের জোগান দিতে হবে।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এডিপি বাস্তবায়নের হার মাত্র ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এ যাবৎকালের মধ্যে এই হার সর্বনিম্ন। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছর সংশোধিত এডিপির মাত্র ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছিল, যা ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
সংশোধিত এডিপির নীতিমালা অনুসারে চলতি অর্থবছরে বরাদ্দের চাহিদা প্রস্তাবের ক্ষেত্রে কিছু বাধ্যবাধকতা থাকছে। আগে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার চেয়ে কম অর্থের চাহিদা প্রস্তাব করা যাবে না। আবার প্রস্তাবিত চাহিদার বেশি অর্থ ছাড় বা ব্যয় করা যাবে না। সর্বশেষ অনুমোদিত ডিপিপি বা আরডিপিপিতে কোডভিত্তিক সংস্থানের অতিরিক্ত এবং ডিপিপি-বহির্ভূত কোনো কোডে বরাদ্দ প্রস্তাবের সুযোগ নেই।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, অব্যবহৃত বরাদ্দ চালানের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হলে তা আইবাসে যথাযথভাবে এন্ট্রি দিয়ে ব্যয়ের সঠিক হিসাব নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে প্রকৃত ব্যয় বেশি দেখানোর কারণে বরাদ্দের প্রাপ্যতা কমে যায় এবং পরবর্তী চাহিদা প্রদানে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া সংস্থার স্ব-অর্থায়নের
বরাদ্দ সঠিকভাবে দেখাতে হবে। সংস্থার সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থে বাস্তবায়নাধীন যেসব প্রকল্প এডিপিতে নেই, সেগুলোও বরাদ্দসহ অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব দিতে হবে।
বৈদেশিক অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের ক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির মেয়াদ বিবেচনায় নিতে হবে। এসব প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব অর্থের (জিওবি) পরিপূরক বরাদ্দ বা ম্যাচিং ফান্ড নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে। জিওবি অংশে নগদ বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হলে তা বৈদেশিক মুদ্রার ঘরে প্রস্তাব করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অর্থের হিসাব করতে হবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে পাওয়া সর্বশেষ বিনিময় হার অনুযায়ী।

নীতিমালায় বরাদ্দ যাচাই-বাছাইয়ের প্রতিটি পর্যায়ে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো অনুযায়ী অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, এডিপিভুক্ত চলমান প্রকল্পগুলোর পরিধি পুনর্নির্ধারণ ও উদ্দেশ্য পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রকল্পগুলোকে যৌক্তিক সংখ্যক কর্মসূচিতে ভাগ করে গুচ্ছাকারে সাজানোর জন্য ‘প্রোগ্রামেটিক অ্যাপ্রোচ’ নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের চাহিদা প্রস্তাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পাশাপাশি ২০২৭-২৮ ও ২০২৮-২৯ অর্থবছরের বরাদ্দের প্রক্ষেপণও এএমএসে দিতে হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, সব প্রস্তাব এডিপি বা আরএডিপি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এএমএস) মাধ্যমে পাঠাতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরকে ৮ নভেম্বর, বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে ১৫ নভেম্বর, মন্ত্রণালয়কে ২২ নভেম্বর এবং পরিকল্পনা কমিশনের সেক্টর বিভাগকে ২৯ নভেম্বরের মধ্যে বরাদ্দের চাহিদা পাঠাতে হবে। নির্ধারিত সময় পার হলে এএমএসে চাহিদা পাঠানোর সুযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।
এরপর কার্যক্রম বিভাগ খসড়া আরএডিপি তৈরি করবে। পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভার সুপারিশের ভিত্তিতে তা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
নীতিমালায় আরএডিপির মোট আকার বা বরাদ্দ কাটছাঁটের হার সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। অর্থ বিভাগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

আরও পড়ুন

×