মানুষের মনে করোনাকাল
×
কাওসার চৌধুরী
প্রকাশ: ২০ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
মানুষ খুব ক্ষিপ্ত হয়ে আছে করোনাভাইরাসের ওপর! এর কারণ অবশ্য একাধিক। প্রথমত, মানুষের অহমে আঘাত করেছে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এই ভাইরাসটি! হ্যাঁ, সরাসরি মানুষকেই আঘাত করেছে সে! আঘাত করেছে সেই শক্তিধর মানুষকে- যে মানুষ জ্ঞানবিজ্ঞান আর শক্তি দিয়ে চন্দ্র বিজয় করেছে আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগেই! মঙ্গল গ্রহে দ্রুতযান পাঠিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে তারও পরে! স্যাটেলাইটের মাধ্যমে গোটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে করতলে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে যে মানুষ; যে মানুষ জ্ঞানবিজ্ঞানে পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রজন্ম হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে; যে মানুষ জীববিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষে পৌঁছে মানুষের ক্লোন তৈরি করে ফেলেছিল প্রায়, অগ্রসর হয়েছিল অমরত্ব লাভের দিকে- সেই মনুষ্যজাতিকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে এই ভাইরাসটি! অণুবীক্ষণিক একটি ভাইরাসের মুখোমুখি হয়ে মানুষ এখন ঘরে বসেই নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করছে। এটা আসলে এক ধরনের পশ্চাদপসরণ, মানবজাতির খণ্ডকালীন একটি পরাজয়ও বটে! মানুষ তাই বেশ কিছুটা অপমানিত, ক্ষুব্ধ এবং মারমুখী!
প্রেক্ষিত :বাংলাদেশ
কথায় আছে রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন! রাগ তো রাগ, মানুষ এখন ক্ষুব্ধ হয়ে আছে অনেক অযৌক্তিক কারণে। এই অযৌক্তিক এবং ক্ষুব্ধ সময়টাতেই মানুষের ভুল হওয়ার আশঙ্ক থাকে অনেক বেশি। করোনার ওপর শোধ নিতে অক্ষম হয়ে আমরা এখন উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চাইছি! এ ক্ষেত্রে দু'ধরনের আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক. আক্রান্ত মানুষটিকে আমরা (সবাই নয়) মানবিক দৃষ্টিতে না দেখে তাকে অশুচি অস্পৃশ্য জ্ঞান করে এমন সব অদ্ভুত আচরণ করছি, যার ফলে আক্রান্ত মানুষ এবং তার পরিবার- সুষ্ঠু সামাজিক অবস্থান' থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন, অসহায় এবং অপমান বোধ করছেন। কোনো কোনো স্থানে করোনায় মৃত্যুবরণকারীর জানাজা পড়ানোর জন্য ধর্মীয় নেতাদের পর্যন্ত পাওয়া যায়নি! এ ক্ষেত্রে পুলিশ কিংবা কোনো স্বেচ্ছাসেবীরাই এগিয়ে গিয়ে মৃত ব্যক্তির জানাজা এবং দাফন সম্পন্ন করেছেন। করোনা আক্রান্ত মা কিংবা স্ত্রীকে বনে-জঙ্গলে ফেলে আসার কথা আর না-ই বা তুললাম এই মুহূর্তে। দুই. কোনো কোনো ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দেখার জন্য আমরা দলবেঁধে ঝাঁপিয়ে পড়ছি তার আবাসস্থলে! ভাবখানা এমন- আক্রান্ত মানুষটি যেন চিড়িয়াখানার একটি দর্শনীয় জীব! (সূত্র :সমকাল, ৩ মে, ২০২০; খবরের শিরোনাম- 'গলির মুখে বাধা, ভেতরে আড্ডা!') এই খবরের এক পর্যায়ে উল্লেখ আছে, ঢাকার লালবাগ থানার ওসি সমকালের প্রতিবেদককে জানিয়েছেন- 'মানুষকে সচেতন করতে হেন কোনো উপায় নেই যা প্রয়োগ করা হয়নি।' অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো বাড়িতে করোনা রোগী শনাক্ত হলে হুমড়ি খেয়ে পড়ে!' মানুষের অদ্ভুতুড়ে এই আচরণের মনোবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা শুধু উপযুক্ত বিশেষজ্ঞরাই দিতে পারবেন ভালো।
প্রেক্ষিত :পশ্চিমা বিশ্ব
অদ্ভুত আচরণ কি উন্নয়নশীল দেশের মানুষরাই করছেন কেবল? পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত দেশ বলে দাবিদার আমেরিকার কথাই ধরুন না। সে দেশের রাষ্ট্রপ্রধানই বা কী আচরণ করছেন এখন! নিজ দেশে মৃত্যুর মিছিল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে তিনি এখন ঝাঁপিয়ে পড়েছেন অন্য দেশের (চীন) ওপর! রোগ এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি, আবিস্কৃত হয়নি এখনও প্রতিষেধক, মানবজাতি এখনও করোনার থাবা থেকে মুক্ত নয়, মৃত্যুর মিছিল কোথায় গিয়ে ঠেকবে তার নেই ঠিকানা; সেই অনিশ্চিত, মুমূর্ষু একটি সময়ে তিনি কখনও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দুষছেন, আবার কখনও-বা অন্য দেশকে (চীন) এক হাত দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন!
করোনার হাত থেকে মানবজাতি এবারের মতে বেঁচে গেলে 'কার দোষে, কার পাপে'- এই গ্রহের মানুষ মহামারির এই মহাকবলে হাবুডুবু খাচ্ছে, খেলো- সে বিচার করবে নিশ্চয়। চীন যদি সত্যিই দোষী হয়ে থাকে, তাহলে কোনো না কোনোভাবে বিচারের মুখোমুখী তাকে হতেই হবে। প্রকৃতি যে কাউকে ছাড়ে না- তার প্রমাণ তো পৃথিবীর মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে, মাশুল দিচ্ছে এখন। সুতরাং কোনো দেশ কিংবা জাতি প্রকৃতির বিচার থেকে রেহাই পাবে না কোনোভাবেই।
তবে এটাও সত্য, পৃথিবীর বেঁচে যাওয়া সেই মানুষগুলো সেদিন এই বিচার-বিবেচনাও নিশ্চই করবে- তথাকথিত উন্নত বিশের যুদ্ধাস্ত্র বেশি প্রয়োজন ছিল, নাকি মানুষের ক্ষুধা নিবারণের দরকার ছিল অনেক বেশি! অতি আধুনিকতার নামে বল্কগ্দাহীন অনিয়ন্ত্রিত ভোগবাদী জীবণাচরণই মানুষের কাম্য, নাকি প্রকৃতিবান্ধব জীবনমুখী সংস্কৃতি এবং জীবনাচরণের প্রয়োজন অনেক বেশি- সে তুল্যমূল্যও কিন্তু মানুষ করবে সেদিন। ভুলে গেলে চলবে না, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আরও অনেক বেশি গবেষণা আর বিনিয়োগের যে প্রয়োজন ছিল, সেই বিচারও কিন্তু বদলে যাওয়া পৃথিবীর সংশপ্তক মানুষগুলো সেদিন করবে নিশ্চয়। সারাবিশ্বে (শতভাগ নয়) চিকিৎসা ব্যবস্থা যে এক মনোপলি ব্যবসার অধীনে চলে গিয়েছিল তাও কিন্তু মানুষের বিচারের মুখোমুখী হবে বলে মনে করি!
প্রেক্ষিত : সর্বজনীন
তবে, করোনাকালে আমাদের এই যে ঘরবন্দি জীবন, নিয়ন্ত্রিত আচরণ, নিয়ন্ত্রিত ব্যয়, নিকট ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ের চিন্তা, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের চেষ্টা- এগুলো আমাদের আগামী জীবনের জন্য ভালো একটি রোডম্যাপ হতে পারে। পশ্চিমাদের 'অনুকরণ' করতে গিয়ে আমরা যূথবদ্ধ জীবন থেকে ছিটকে পড়েছিলাম অনেক দূরে! সেই যূথবদ্ধ পারিবারিক বলয়ে স্বামী-স্ত্রী-সন্তান আর বাবা-মাকে নিয়ে যে সংসার, সেই জীবনে আমরা আবারও ফিরে যেতে পারি ইচ্ছে করলেই। তবে সে জন্য প্রয়োজন সমাজ এবং রাষ্ট্রের সুচিন্তিত নির্দেশনা আর দক্ষ হাতের নিয়ন্ত্রণ।
মধ্যযুগের কবি চণ্ডীদাস লিখেছিলেন- 'শুনহ মানুষ ভাই, সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই!' মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন- 'মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহিয়ান'। নিশ্চয়, নিঃসন্দেহে- এ জগতে মানুষই শ্রেষ্ঠ প্রাণী। পৃথিবীর বহু প্রাণী এই গ্রহে নিজেদের অস্তিত্ব ধরে রাখতে না পেরে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। কিন্তু মানুষ তার নিজের যোগ্যতায় আজও পৃথিবীকে পরিচালিত করছে, নেতৃত্ব দিয়ে চলেছে।
ক'দিন আগে ব্রিটেনে এই রোগের প্রতিষেধক টিকা মানব শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। এটা যদি সফলতা পায়- মানবজাতি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে অবশেষে। ব্রিটেন ছাড়াও বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা তাদের পরীক্ষাগারে এই রোগ নিরাময়ের পদ্ধতি আর প্রতিষেধক আবিস্কারের চেষ্টায় গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন রাতদিন। কিছুদিনের মধ্যেই মানুষ রুখে দেবে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসকে, সন্দেহ নেই। এই গ্রহের মানুষ- 'মানুষের সেই সাফল্যে'র দিকে তাকিয়ে আছে অনেক আশা নিয়ে। মানুষের জয় অবশ্যম্ভাবী।
পুনশ্চ, আমেরিকাসহ সারা পৃথিবীতে কভিড-১৯ এ প্রাণ হারানো সব মানুষের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাই। সমবেদনা এবং সহমর্মিতা জানাই বিশ্বের সব করোনা আক্রান্ত মানুষ এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি।
প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা ও অভিনেতা
প্রেক্ষিত :বাংলাদেশ
কথায় আছে রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন! রাগ তো রাগ, মানুষ এখন ক্ষুব্ধ হয়ে আছে অনেক অযৌক্তিক কারণে। এই অযৌক্তিক এবং ক্ষুব্ধ সময়টাতেই মানুষের ভুল হওয়ার আশঙ্ক থাকে অনেক বেশি। করোনার ওপর শোধ নিতে অক্ষম হয়ে আমরা এখন উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চাইছি! এ ক্ষেত্রে দু'ধরনের আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক. আক্রান্ত মানুষটিকে আমরা (সবাই নয়) মানবিক দৃষ্টিতে না দেখে তাকে অশুচি অস্পৃশ্য জ্ঞান করে এমন সব অদ্ভুত আচরণ করছি, যার ফলে আক্রান্ত মানুষ এবং তার পরিবার- সুষ্ঠু সামাজিক অবস্থান' থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন, অসহায় এবং অপমান বোধ করছেন। কোনো কোনো স্থানে করোনায় মৃত্যুবরণকারীর জানাজা পড়ানোর জন্য ধর্মীয় নেতাদের পর্যন্ত পাওয়া যায়নি! এ ক্ষেত্রে পুলিশ কিংবা কোনো স্বেচ্ছাসেবীরাই এগিয়ে গিয়ে মৃত ব্যক্তির জানাজা এবং দাফন সম্পন্ন করেছেন। করোনা আক্রান্ত মা কিংবা স্ত্রীকে বনে-জঙ্গলে ফেলে আসার কথা আর না-ই বা তুললাম এই মুহূর্তে। দুই. কোনো কোনো ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দেখার জন্য আমরা দলবেঁধে ঝাঁপিয়ে পড়ছি তার আবাসস্থলে! ভাবখানা এমন- আক্রান্ত মানুষটি যেন চিড়িয়াখানার একটি দর্শনীয় জীব! (সূত্র :সমকাল, ৩ মে, ২০২০; খবরের শিরোনাম- 'গলির মুখে বাধা, ভেতরে আড্ডা!') এই খবরের এক পর্যায়ে উল্লেখ আছে, ঢাকার লালবাগ থানার ওসি সমকালের প্রতিবেদককে জানিয়েছেন- 'মানুষকে সচেতন করতে হেন কোনো উপায় নেই যা প্রয়োগ করা হয়নি।' অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো বাড়িতে করোনা রোগী শনাক্ত হলে হুমড়ি খেয়ে পড়ে!' মানুষের অদ্ভুতুড়ে এই আচরণের মনোবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা শুধু উপযুক্ত বিশেষজ্ঞরাই দিতে পারবেন ভালো।
প্রেক্ষিত :পশ্চিমা বিশ্ব
অদ্ভুত আচরণ কি উন্নয়নশীল দেশের মানুষরাই করছেন কেবল? পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত দেশ বলে দাবিদার আমেরিকার কথাই ধরুন না। সে দেশের রাষ্ট্রপ্রধানই বা কী আচরণ করছেন এখন! নিজ দেশে মৃত্যুর মিছিল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে তিনি এখন ঝাঁপিয়ে পড়েছেন অন্য দেশের (চীন) ওপর! রোগ এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি, আবিস্কৃত হয়নি এখনও প্রতিষেধক, মানবজাতি এখনও করোনার থাবা থেকে মুক্ত নয়, মৃত্যুর মিছিল কোথায় গিয়ে ঠেকবে তার নেই ঠিকানা; সেই অনিশ্চিত, মুমূর্ষু একটি সময়ে তিনি কখনও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দুষছেন, আবার কখনও-বা অন্য দেশকে (চীন) এক হাত দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন!
করোনার হাত থেকে মানবজাতি এবারের মতে বেঁচে গেলে 'কার দোষে, কার পাপে'- এই গ্রহের মানুষ মহামারির এই মহাকবলে হাবুডুবু খাচ্ছে, খেলো- সে বিচার করবে নিশ্চয়। চীন যদি সত্যিই দোষী হয়ে থাকে, তাহলে কোনো না কোনোভাবে বিচারের মুখোমুখী তাকে হতেই হবে। প্রকৃতি যে কাউকে ছাড়ে না- তার প্রমাণ তো পৃথিবীর মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে, মাশুল দিচ্ছে এখন। সুতরাং কোনো দেশ কিংবা জাতি প্রকৃতির বিচার থেকে রেহাই পাবে না কোনোভাবেই।
তবে এটাও সত্য, পৃথিবীর বেঁচে যাওয়া সেই মানুষগুলো সেদিন এই বিচার-বিবেচনাও নিশ্চই করবে- তথাকথিত উন্নত বিশের যুদ্ধাস্ত্র বেশি প্রয়োজন ছিল, নাকি মানুষের ক্ষুধা নিবারণের দরকার ছিল অনেক বেশি! অতি আধুনিকতার নামে বল্কগ্দাহীন অনিয়ন্ত্রিত ভোগবাদী জীবণাচরণই মানুষের কাম্য, নাকি প্রকৃতিবান্ধব জীবনমুখী সংস্কৃতি এবং জীবনাচরণের প্রয়োজন অনেক বেশি- সে তুল্যমূল্যও কিন্তু মানুষ করবে সেদিন। ভুলে গেলে চলবে না, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আরও অনেক বেশি গবেষণা আর বিনিয়োগের যে প্রয়োজন ছিল, সেই বিচারও কিন্তু বদলে যাওয়া পৃথিবীর সংশপ্তক মানুষগুলো সেদিন করবে নিশ্চয়। সারাবিশ্বে (শতভাগ নয়) চিকিৎসা ব্যবস্থা যে এক মনোপলি ব্যবসার অধীনে চলে গিয়েছিল তাও কিন্তু মানুষের বিচারের মুখোমুখী হবে বলে মনে করি!
প্রেক্ষিত : সর্বজনীন
তবে, করোনাকালে আমাদের এই যে ঘরবন্দি জীবন, নিয়ন্ত্রিত আচরণ, নিয়ন্ত্রিত ব্যয়, নিকট ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ের চিন্তা, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের চেষ্টা- এগুলো আমাদের আগামী জীবনের জন্য ভালো একটি রোডম্যাপ হতে পারে। পশ্চিমাদের 'অনুকরণ' করতে গিয়ে আমরা যূথবদ্ধ জীবন থেকে ছিটকে পড়েছিলাম অনেক দূরে! সেই যূথবদ্ধ পারিবারিক বলয়ে স্বামী-স্ত্রী-সন্তান আর বাবা-মাকে নিয়ে যে সংসার, সেই জীবনে আমরা আবারও ফিরে যেতে পারি ইচ্ছে করলেই। তবে সে জন্য প্রয়োজন সমাজ এবং রাষ্ট্রের সুচিন্তিত নির্দেশনা আর দক্ষ হাতের নিয়ন্ত্রণ।
মধ্যযুগের কবি চণ্ডীদাস লিখেছিলেন- 'শুনহ মানুষ ভাই, সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই!' মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন- 'মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহিয়ান'। নিশ্চয়, নিঃসন্দেহে- এ জগতে মানুষই শ্রেষ্ঠ প্রাণী। পৃথিবীর বহু প্রাণী এই গ্রহে নিজেদের অস্তিত্ব ধরে রাখতে না পেরে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। কিন্তু মানুষ তার নিজের যোগ্যতায় আজও পৃথিবীকে পরিচালিত করছে, নেতৃত্ব দিয়ে চলেছে।
ক'দিন আগে ব্রিটেনে এই রোগের প্রতিষেধক টিকা মানব শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। এটা যদি সফলতা পায়- মানবজাতি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে অবশেষে। ব্রিটেন ছাড়াও বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা তাদের পরীক্ষাগারে এই রোগ নিরাময়ের পদ্ধতি আর প্রতিষেধক আবিস্কারের চেষ্টায় গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন রাতদিন। কিছুদিনের মধ্যেই মানুষ রুখে দেবে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসকে, সন্দেহ নেই। এই গ্রহের মানুষ- 'মানুষের সেই সাফল্যে'র দিকে তাকিয়ে আছে অনেক আশা নিয়ে। মানুষের জয় অবশ্যম্ভাবী।
পুনশ্চ, আমেরিকাসহ সারা পৃথিবীতে কভিড-১৯ এ প্রাণ হারানো সব মানুষের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাই। সমবেদনা এবং সহমর্মিতা জানাই বিশ্বের সব করোনা আক্রান্ত মানুষ এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি।
প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা ও অভিনেতা