বিতর্ক থেকে দূরে মেসিরা
সেকান্দার আলী
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ১১:২৮
নগরে আগুন লাগলে দেবালয় এড়ায় না। কিন্তু বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সমালোচনার আগুনে পুরে ছারখার হলেও তা স্পর্শ করতে পারেনি লিওনেল মেসিদের ডেরা। মেসিদের শেষ ষোলোর ম্যাচে রেফারির পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার লাল হেডলাইন, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শত শত ভিডিওর প্রবেশাধিকার নেই আর্জেন্টিনা দলের অন্দরমহলে। লিওনেল স্কালোনি ও লিওনেল মেসির কড়া নির্দেশ ক্যাম্পের বাইরের জগৎ ইন্টারনেটে উঁকিঝুঁকি দেওয়া যাবে না। কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য নিবিড় অনুশীলনে মগ্ন থাকা ও সুইজারল্যান্ডের খেলার ভিডিও দেখে গেম প্ল্যান ঠিক করে নেওয়ার রুটিন দেওয়া হয়েছে সবাইকে। বাকি সময় জম্পেশ আড্ডায় মেতে আছে ক্যাম্পের সুশৃঙ্খল পরিবেশে।
বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা গত বুধবার কানসাস সিটির বেজ ক্যাম্পে অনুশীলন করে। মিডিয়ার জন্য অনুশীলন দেখার যে ১৫ মিনিটের স্লট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল, সে সময়ে মেসির উপস্থিতি দেখতে যান সেখানে থাকা সাংবাদিকরা। ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ক্লান্তি ঝেড়ে চনমনে হওয়ার জন্য বিশ্রাম নিয়ে থাকতে পারেন। ২২ বছরের পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারে কত অনুশীলনই তো করেছেন তিনি। তাই তো ৩৯ বছর বয়সেও আঠারোর তরুণের মতো খেলেন। নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে। ফুটবলে রেকর্ডের এই বরপুত্র এখন আকাশ ছোঁয়ার পথে। ১৭ জুন কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেন। ২২ জুন অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল ও জর্ডানের বিপক্ষে এক গোলে শেষ করেন গ্রুপ পর্ব। নকআউটে কেপ ভার্দে আর মিসরের বিপক্ষেও একটি করে গোল করেন। উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে ৮ গোল হয়ে গেছে তাঁর। বিশ্বকাপে রেকর্ড ২২ গোলের মালিক তিনি। ২০০৬ সাল থেকে বিশ্বকাপ খেলা মেসি আগের কোনো বিশ্বকাপেই এত গোল করতে পারেনি। ২০২২ সালে কাতারে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিশ্বকাপে করেন ৭টি গোল। এই বিশ্বকাপে টানা গোল করতে দেখে মনে হবে সেরা সময়ে আছেন মেসি। অমরত্ব লাভ করতে বিশ্বকাপের আরও একটি শিরোপা জেতার কক্ষপথে তিনি।
মিসরের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে ম্যাচ জয়ের পর কোচ স্কালোনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘এই দলটি অসাধারণ।’ কোচ ভুল বলেননি। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত দারুণ খেলছেন লাউতারো মার্তিনেজরা। প্রথম রাউন্ড মেসির গোলে জয়ের বৈতরণী পার হলেও নকআউটে জয়ে বড় ভূমিকা ছিল লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো আর এনজো ফার্নান্দেজের। এভাবে দলের বাকিদের গোলের দেখা পাওয়া স্বস্তির। সতীর্থরা এভাবে জেগে ওঠায় হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছেন মেসি। এটি কোচের জন্যও খুশির। মেসির খারাপ খেলার দিনেও গোল করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হবে না তাঁকে।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১২ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনাকে প্রেরণাদায়ক খবর দিল ফিফা। বিশ্বকাপের তিনটি পরিসংখ্যানের শীর্ষে রয়েছে দেশটি, যা স্কালোনির ফুটবল দর্শনকে নিপুণভাবে বর্ণনা করে। বলের দখল, পাসিং ও আক্রমণে মেসির আর্জেন্টিনাই সেরা। শৈল্পিক ফুটবল প্রদর্শনীতেও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জুড়ি মেলা ভার। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালেও উন্নীত হয়েছিল সর্বাধিক গোল, সর্বাধিক পাস ও নির্ভুল পাসে শীর্ষে থেকে। ফিফার আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা পুরো বিশ্বকাপে ৩,৪৪৬টি, স্পেন ৩,৩৮২টি আর মরক্কো ৩,১২৬টি পাস খেলে শীর্ষ তিন স্থানে আছে। এমন নিখুঁত ফুটবল খেলা একটি দলের বিপক্ষে পেরে ওঠা সহজ নয়। এই পরিসংখ্যান বলে দেয় চ্যাম্পিয়নশিপের দিকে এগোচ্ছে আর্জেন্টিনা। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামার আগে কোচ স্কালোনির জন্য স্বস্তির ব্যাপার হলো ২৬ জন খেলোয়াড়কে চোটমুক্ত পাওয়া। আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ শুরু করেছিল কানসাস সিটিতে, কোয়ার্টার ফাইনালও খেলবে বেজ ক্যাম্পের ভেন্যুতে; যেটা চ্যাম্পিয়নদের জন্য বাড়তি সুবিধা।