রাজনীতি
আত্মবিশ্বাসহীনতায় বিরোধীদের ওপর হামলা?
×
খায়রুল কবীর খোকন
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১২:০০
দেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সপ্তাহ-তিনেক আগে হঠাৎ সহৃদয়ে চমৎকার একটি গণতন্ত্রসম্মত নির্দেশনা দিয়েছিলেন- বিরোধী দলের রাজপথের সভা-সমাবেশ-মিছিলে পুলিশের বাধা কিংবা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মীদের কেউ যেন হামলা না করে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ সব গণতন্ত্রমনা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা এতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন। মনে করেছিলেন, সুস্থ-শান্তিময় পরিবেশে রাস্তায় নেমে ক্ষমতাবানদের সব অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যাবে। আমরা আশ্বস্ত হয়েছিলাম এই ভেবে, এবার হয়তো আওয়ামী লীগ শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে গণতান্ত্রিক ও উদারনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটতে চলেছে।
দুর্ভাগ্যের বিষয়, ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের এই আশ্বাসের মূল্য দিল না পুলিশ বাহিনী ও দলীয় কর্মী বাহিনী। আমরা দেখলাম, বিরোধী দলের সভা-সমাবেশের প্রতি পুলিশ প্রচণ্ড মারমুখো। আর সরকারি দলের সহযোগী ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ আক্রমণ শুরু করল। তার ফলে ভোলায় বিএনপির সহযোগী দুই সংগঠনের দুই কর্মী পুলিশের গুলিতে নিহত হলেন। নারায়ণগঞ্জে আরেক সহযোগী সংগঠন যুবদলের এক কর্মী নিহত হলেন। আহত হলেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার কর্মী। বিএনপির
বিভিন্ন শাখা অফিস এবং বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট চালিয়ে আগুন দিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হলো।
কী 'অপরাধ' ছিল বিরোধী দলের? বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী মূলত দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাঠে নেমেছিল। তারা নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সভা-সমাবেশ-মিছিল করতে গিয়েছিল। সভা-সমাবেশগুলো ছিল শান্তিপূর্ণ। কোথাও পুলিশ বা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর ওপরে উস্কানিমূলক হামলা করেনি। বস্তুত বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে থেকে কর্মসূচি পালন করতে চেয়েছিল।
এসব সভা-সমাবেশের মাধ্যমে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার ডাকও তো দেয়নি বিএনপি। কারণ, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনও প্রায় ১৬ মাস বাকি। এটা ঠিক, বিএনপি চাচ্ছে যেন দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হয়। কিন্তু সেটা তো 'ওপেন সিক্রেট'। তাহলে বিএনপির সভা-সমাবেশ দেখেই সরকারি দলের ক্ষমতা হারানোর আতঙ্কে পেয়ে বসল কী কারণে?
কোনো গোয়েন্দা রিপোর্ট কি এমনটাই বলেছিল- বিএনপির এই সভা-সমাবেশ-মিছিল কর্মকাণ্ড সরকার-পতনের আন্দোলনের চরম রূপ নিতে যাচ্ছে? ষাট দশকে তখনকার কায়েমি মুসলিম লীগ সরকারের গোয়েন্দা বাহিনী এক রিপোর্ট দিয়েছিল- 'অলি আহাদ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য চক্রান্ত করছেন।' অলি আহাদ তখন আওয়ামী লীগ থেকে ছিটকে পড়ে 'লো-প্রোফাইল' রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তখন ইচ্ছা করলেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মতো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করার শক্তি ছিল না তাঁর। আর তিনি কখনও কোনো চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের রাজনীতির ধারে-কাছে ছিলেন না। তিনি প্রবলভাবে স্পষ্টভাষী ও সৎ রাজনীতিক ছিলেন। কিন্তু গোয়েন্দাদের কাজই ছিল এমন উদ্ভট। বর্তমান সরকারও সে রকম গোয়েন্দা রিপোর্টে ভীতসন্ত্রস্ত হলো কিনা, ভেবে দেখার বিষয়।
বিরোধী দলের প্রায় সবাই দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে একমত। বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী বন্ধু-রাষ্ট্রগুলো একটা প্রকৃত অংশগ্রহণমূলক সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে তৎপরতা চালাচ্ছে। আর সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো যে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাচ্ছে; তাতেই কি আওয়ামী লীগ হেরে যাওয়ার ভয় পেয়েছে? টানা প্রায় ১৪ বছর ক্ষমতায় থেকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিদারুণ অপচয় ও দুর্নীতি করে এবং গুম, খুন, নিপীড়ন চালিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নিজের ওপর আস্থা ও আত্মবিশ্বাস যেন শূন্যের কোঠায় নেমেছে।
আন্তর্জাতিক দিক থেকেও বর্তমান সরকারের ভরসা কমে আসছে। সাম্প্রতিক ভারত সফরের মাধ্যমেও বর্তমান সরকারপ্রধান তেমন কিছুই অর্জন করতে পারেননি। এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যথার্থ বলেছেন- 'প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বলা হয়েছিল- সীমান্ত হত্যা শূন্যতে আনা হবে। অথচ, যেদিন এই কথা বলা হয়েছে, সেদিনই দিনাজপুরের সীমান্তে একজনকে হত্যা করা হয়েছে, আর দু'জন নিখোঁজ। এই হচ্ছে প্রাপ্তি।' (সমকাল অনলাইন, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২)।
ওদিকে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনে পাঁচ বছর ধরে বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক তৎপরতা খুবই নেতিবাচক। মিয়ানমার তার ভেতরকার বিদ্রোহীদের দমনের নামে যুদ্ধ ঘোষণা করে সেই যুদ্ধাবস্থার অস্থিরতা বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতর পর্যন্ত ছড়িয়ে দিচ্ছে। তারা বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকারকে পাত্তাই দিচ্ছে না। মিয়ানমারের আগ্রাসী সন্ত্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে আমাদের পররাষ্ট্র দপ্তর মিনমিনে প্রতিবাদ করেই খালাস। অথচ দরকার ছিল- চীন, ভারত, রাশিয়া ও জাপানকে দিয়ে মিয়ানমারের ওপরে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো। জাতিসংঘসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহায়তালাভে যারপরনাই প্রচেষ্টা চালানো। কিন্তু বাংলাদেশ পাঁচ বছরেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কূটনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। একটি গণতন্ত্রবিমুখ কর্তৃত্ববাদী সরকারের পক্ষে এ ধরনের সাফল্য পাওয়াও কঠিন।
এদিকে যুবলীগের পাশাপাশি যে ছাত্রলীগ বিরোধী দলের ওপরে হামলা চালাচ্ছে, সেই ছাত্রলীগও সাংগঠনিকভাবে এখন চরম বিশৃঙ্খল সংগঠনে পরিণত হয়েছে। ছাত্রলীগের প্রধান কাজ হচ্ছে- বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সংগঠক-নেতা-কর্মীদের ওপরে যখন তখন হামলা চালানো। হলগুলো দখলে রেখে, ইচ্ছামতো সিট বণ্টন, হল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ করে নৈরাজ্য সৃষ্টি। নিজেরা বিভিন্ন ক্যাম্পাসে উপদল করে মারামারি তো করছেই; খোদ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগও স্পষ্ট বিভক্ত হয়ে পড়েছে মূলত হালুয়া-রুটির ভাগাভাগি নিয়ে। কেন্দ্রীয় কমিটির শতাধিক নেতা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ সংগঠনের প্রধান সুবিধাভোগী অংশের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে নেমেছে। তারা ছাত্রলীগের প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ তুলেছে। আর যুবলীগের কথা বলাই বাহুল্য। কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে সম্রাটের সমর্থকরা মূল যুবলীগ নেতাদের বিরুদ্ধেই ব্যাপক শোডাউন চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সহযোগী দুই প্রধান সংগঠনেরই এই দশা প্রমাণ করে- গত ১৪ বছরে কর্তৃত্ববাদী শাসনে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবেও এখন নাজুক। অনেক দেরিতে হলেও এখনও সময় যে সামান্য বাকি; আওয়ামী লীগের উচিত অবিলম্বে নির্দলীয় ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ক্ষমতা দিয়ে সরে দাঁড়ানো। আর বিরোধী দলের ওপর হামলা-মামলার চিন্তাভাবনাও বাদ দেওয়া। তাহলে কিছুটা রক্ষা হলেও হতে পারে বৈ কি।
খায়রুল কবীর খোকন: যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি; সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক ডাকসু সাধারণ সম্পাদক
দুর্ভাগ্যের বিষয়, ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের এই আশ্বাসের মূল্য দিল না পুলিশ বাহিনী ও দলীয় কর্মী বাহিনী। আমরা দেখলাম, বিরোধী দলের সভা-সমাবেশের প্রতি পুলিশ প্রচণ্ড মারমুখো। আর সরকারি দলের সহযোগী ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ আক্রমণ শুরু করল। তার ফলে ভোলায় বিএনপির সহযোগী দুই সংগঠনের দুই কর্মী পুলিশের গুলিতে নিহত হলেন। নারায়ণগঞ্জে আরেক সহযোগী সংগঠন যুবদলের এক কর্মী নিহত হলেন। আহত হলেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার কর্মী। বিএনপির
বিভিন্ন শাখা অফিস এবং বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট চালিয়ে আগুন দিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হলো।
কী 'অপরাধ' ছিল বিরোধী দলের? বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী মূলত দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাঠে নেমেছিল। তারা নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সভা-সমাবেশ-মিছিল করতে গিয়েছিল। সভা-সমাবেশগুলো ছিল শান্তিপূর্ণ। কোথাও পুলিশ বা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর ওপরে উস্কানিমূলক হামলা করেনি। বস্তুত বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে থেকে কর্মসূচি পালন করতে চেয়েছিল।
এসব সভা-সমাবেশের মাধ্যমে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার ডাকও তো দেয়নি বিএনপি। কারণ, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনও প্রায় ১৬ মাস বাকি। এটা ঠিক, বিএনপি চাচ্ছে যেন দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হয়। কিন্তু সেটা তো 'ওপেন সিক্রেট'। তাহলে বিএনপির সভা-সমাবেশ দেখেই সরকারি দলের ক্ষমতা হারানোর আতঙ্কে পেয়ে বসল কী কারণে?
কোনো গোয়েন্দা রিপোর্ট কি এমনটাই বলেছিল- বিএনপির এই সভা-সমাবেশ-মিছিল কর্মকাণ্ড সরকার-পতনের আন্দোলনের চরম রূপ নিতে যাচ্ছে? ষাট দশকে তখনকার কায়েমি মুসলিম লীগ সরকারের গোয়েন্দা বাহিনী এক রিপোর্ট দিয়েছিল- 'অলি আহাদ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য চক্রান্ত করছেন।' অলি আহাদ তখন আওয়ামী লীগ থেকে ছিটকে পড়ে 'লো-প্রোফাইল' রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তখন ইচ্ছা করলেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মতো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করার শক্তি ছিল না তাঁর। আর তিনি কখনও কোনো চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের রাজনীতির ধারে-কাছে ছিলেন না। তিনি প্রবলভাবে স্পষ্টভাষী ও সৎ রাজনীতিক ছিলেন। কিন্তু গোয়েন্দাদের কাজই ছিল এমন উদ্ভট। বর্তমান সরকারও সে রকম গোয়েন্দা রিপোর্টে ভীতসন্ত্রস্ত হলো কিনা, ভেবে দেখার বিষয়।
বিরোধী দলের প্রায় সবাই দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে একমত। বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী বন্ধু-রাষ্ট্রগুলো একটা প্রকৃত অংশগ্রহণমূলক সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে তৎপরতা চালাচ্ছে। আর সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো যে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাচ্ছে; তাতেই কি আওয়ামী লীগ হেরে যাওয়ার ভয় পেয়েছে? টানা প্রায় ১৪ বছর ক্ষমতায় থেকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিদারুণ অপচয় ও দুর্নীতি করে এবং গুম, খুন, নিপীড়ন চালিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নিজের ওপর আস্থা ও আত্মবিশ্বাস যেন শূন্যের কোঠায় নেমেছে।
আন্তর্জাতিক দিক থেকেও বর্তমান সরকারের ভরসা কমে আসছে। সাম্প্রতিক ভারত সফরের মাধ্যমেও বর্তমান সরকারপ্রধান তেমন কিছুই অর্জন করতে পারেননি। এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যথার্থ বলেছেন- 'প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বলা হয়েছিল- সীমান্ত হত্যা শূন্যতে আনা হবে। অথচ, যেদিন এই কথা বলা হয়েছে, সেদিনই দিনাজপুরের সীমান্তে একজনকে হত্যা করা হয়েছে, আর দু'জন নিখোঁজ। এই হচ্ছে প্রাপ্তি।' (সমকাল অনলাইন, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২)।
ওদিকে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনে পাঁচ বছর ধরে বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক তৎপরতা খুবই নেতিবাচক। মিয়ানমার তার ভেতরকার বিদ্রোহীদের দমনের নামে যুদ্ধ ঘোষণা করে সেই যুদ্ধাবস্থার অস্থিরতা বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতর পর্যন্ত ছড়িয়ে দিচ্ছে। তারা বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকারকে পাত্তাই দিচ্ছে না। মিয়ানমারের আগ্রাসী সন্ত্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে আমাদের পররাষ্ট্র দপ্তর মিনমিনে প্রতিবাদ করেই খালাস। অথচ দরকার ছিল- চীন, ভারত, রাশিয়া ও জাপানকে দিয়ে মিয়ানমারের ওপরে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো। জাতিসংঘসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহায়তালাভে যারপরনাই প্রচেষ্টা চালানো। কিন্তু বাংলাদেশ পাঁচ বছরেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কূটনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। একটি গণতন্ত্রবিমুখ কর্তৃত্ববাদী সরকারের পক্ষে এ ধরনের সাফল্য পাওয়াও কঠিন।
এদিকে যুবলীগের পাশাপাশি যে ছাত্রলীগ বিরোধী দলের ওপরে হামলা চালাচ্ছে, সেই ছাত্রলীগও সাংগঠনিকভাবে এখন চরম বিশৃঙ্খল সংগঠনে পরিণত হয়েছে। ছাত্রলীগের প্রধান কাজ হচ্ছে- বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সংগঠক-নেতা-কর্মীদের ওপরে যখন তখন হামলা চালানো। হলগুলো দখলে রেখে, ইচ্ছামতো সিট বণ্টন, হল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ করে নৈরাজ্য সৃষ্টি। নিজেরা বিভিন্ন ক্যাম্পাসে উপদল করে মারামারি তো করছেই; খোদ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগও স্পষ্ট বিভক্ত হয়ে পড়েছে মূলত হালুয়া-রুটির ভাগাভাগি নিয়ে। কেন্দ্রীয় কমিটির শতাধিক নেতা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ সংগঠনের প্রধান সুবিধাভোগী অংশের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে নেমেছে। তারা ছাত্রলীগের প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ তুলেছে। আর যুবলীগের কথা বলাই বাহুল্য। কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে সম্রাটের সমর্থকরা মূল যুবলীগ নেতাদের বিরুদ্ধেই ব্যাপক শোডাউন চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সহযোগী দুই প্রধান সংগঠনেরই এই দশা প্রমাণ করে- গত ১৪ বছরে কর্তৃত্ববাদী শাসনে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবেও এখন নাজুক। অনেক দেরিতে হলেও এখনও সময় যে সামান্য বাকি; আওয়ামী লীগের উচিত অবিলম্বে নির্দলীয় ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ক্ষমতা দিয়ে সরে দাঁড়ানো। আর বিরোধী দলের ওপর হামলা-মামলার চিন্তাভাবনাও বাদ দেওয়া। তাহলে কিছুটা রক্ষা হলেও হতে পারে বৈ কি।
খায়রুল কবীর খোকন: যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি; সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক ডাকসু সাধারণ সম্পাদক
- বিষয় :
- রাজনীতি
- খায়রুল কবীর খোকন
