চারদিক
স্বস্তির শাটলে ভোগান্তি
আমিনুল ইসলাম
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:০০
পাহাড়ঘেরা মায়াময় ক্যাম্পাস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য শাটল ট্রেন শুধু যাতায়াতের মাধ্যমই নয়; চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনারও অংশ। প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। অর্থনৈতিক সমস্যা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য তিন ভাগের দুই ভাগ শিক্ষার্থীই শহরে থাকেন। তাই তাদের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম এই শাটল ট্রেন। কিন্তু শাটলে চলাচলে ভোগান্তির শেষ নেই। সেগুলো বলার আগে একটা কৌতুক বলা যাক। স্টেশনমাস্টার তাঁর ঊর্ধ্বতন অফিসারের কাছে গেলেন। স্যার, আবার এক কৃষক তার গরুর জন্য আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আমাদের কোনো ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে নিশ্চয়ই তার গরু মারা গেছে। না না। আমাদের ট্রেনগুলো এত আস্তে যায় যে, যাত্রীরা মাঠে চরতে থাকা গরুগুলোর দুধ দুইয়ে নিচ্ছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের অবশ্য গতি ছাড়া সব সংকটই বিদ্যমান। পর্যাপ্ত সংখ্যক বগি না থাকায় বেশির ভাগ শিক্ষার্থীকে বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়ে এবং শাটলের ছাদে যেতে হয়। আসন সংকট, চুরি-ছিনতাই, ছাত্রীদের যৌন হয়রানি, পাথর নিক্ষেপসহ বিভিন্ন কারণে নিজস্বতা হারাতে বসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা শাটল ট্রেন।
শাটলে যাতায়াতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয় আসন সংকটের কারণে। সকালে ক্যাম্পাসগামী ও দুপুর কিংবা বিকেলের শহরগামী ট্রেনগুলোয় তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না।
চবিতে বেড়েছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। সে তুলনায় বাড়েনি শাটল ট্রেনের বগি কিংবা আসন। এর শাটল ট্রেন রয়েছে দুটি; এর মধ্যে বগির সংখ্যা মাত্র ১০টি। প্রতি বগিতে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৬০ জনের ধারণক্ষমতা থাকলেও, ব্যস্ত সময়ে যাতায়াত করছেন দ্বিগুণের বেশি শিক্ষার্থী। শাটলে সিলিং ফ্যান থাকলেও পাওয়ার কার সংযুক্ত না থাকায় অকেজো হয়ে থাকে। গরমের দিনে শিক্ষার্থীরা ঘেমে একাকার। চবির ডেমু ট্রেনটি বন্ধ রয়েছে অনেক দিন। যার কারণে ট্রেন দুটির ওপর চাপ বেড়ে গেছে। বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে ওঠেন, ওঠানামার সিঁড়িতে বসেন। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটতে দেখা যায়।
গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতের শাটলে চৌধুরীহাটে একটি গাছ নিচু হয়ে যাওয়ার কারণে প্রায় ২০ জন আহত হন। ছাদ থেকে দু-তিনজন ছিটকে নিচে পড়ে যান। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত হন ৬-৭ জন। তাদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অনেকের চেহারার দিকে তাকানো যাচ্ছিল না। মাথা থেকে রক্ত বেয়ে তাদের মুখ রক্তাক্ত। অনেক ভাই সেই রাতে রক্ত দেওয়ার জন্য মেডিকেলের উদ্দেশে রওনা দেন।
তারপর রাতের শাটল ট্রেন ক্যাম্পাসে এসে পৌঁছালেই শিক্ষার্থীরা নেমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক আটকে দেন। এ সময় তারা আগুন জ্বালিয়ে প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থী আহতের জবাব ও শাটল ট্রেনের বগি বাড়ানোর দাবি জানান।
শাটলের বগি বাড়ানোর দাবি আজকের নয়। কর্তৃপক্ষ শুধু আমাদের আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আজও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এই গর্বের শাটল রূপ নিয়েছে রক্তাক্ত শাটলে। ক্যাম্পাস একদিকে যেমন শোকাহত, অন্যদিকে উত্তাল। চবির শাটল ট্রেন নিয়ে কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে কবে?
আমিনুল ইসলাম: শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
- বিষয় :
- চারদিক
- আমিনুল ইসলাম
