রাজনীতি
আওয়ামী লীগ, বিএনপি না তৃতীয় শক্তি?
এম এম আকাশ
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ০৪:০৪
বাংলাদেশে বিদ্যমান দ্বিদলীয় বুর্জোয়া গণতন্ত্রের ১৯৯০-উত্তর দশকগুলোতে কিছুদিন আপাত গণতন্ত্র ছিল। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলের ‘মিউজিক্যাল চেয়ার গণতন্ত্র’ অবশ্য বেশিদিন টেকসই হয়নি। কিছুদিনের মধ্যেই শাসন ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্ব চরম বৈরিতায় পরিণত হয় এবং নির্বাচনে এক দল জিতলে অপর দলকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করার পথে অগ্রসর হতে শুরু করে। ফলে বুর্জোয়া গণতন্ত্রের সিস্টেমটি ‘উইনার টেকস অল’ ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। যেটা এখন শাসন ক্ষমতায় নানাবিধ জটিলতা, ভারসাম্যহীনতা, অস্থিতিশীলতা ও গোপন আপসেরও জন্ম দিয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘ব্যক্তিগত বৈরিতা ফ্যাক্টর’। আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ হাসিনা জানেন বা বিশ্বাস করেন, তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকারীরা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে সুসম্পর্কিত। শেখ হাসিনা এটাও জানেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় যারা তাঁকে হত্যা করতে চেয়েছিল, তাদের সঙ্গেও বিএনপির অঙ্গাঙ্গী যোগাযোগ রয়েছে। বিএনপি সেটা অস্বীকার করলেও বাস্তবে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ২১ আগস্ট মামলায় অভিযুক্ত।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব আরেকটি কৌশল নিয়েছে: ইসলামপন্থি দলগুলোকে বিএনপি থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিজের পক্ষে নিয়ে আসা। ফলে মুক্তিযুদ্ধের ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রশ্নে দলটির দৃশ্যমান অবস্থানে দোদুল্যমানতার সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতা প্রশ্নে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের পার্থক্য কমে গেছে। উভয় দলের সাধারণ সমর্থকের মধ্যে অন্যান্য বিষয়েও পার্থক্য বের করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
দুই দলের সাধারণ সমর্থকের মধ্যে এখন দৃশ্যমান পার্থক্য হলো, এক দল শুধু বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার নাম নেবে এবং অপর দল শুধু জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নাম নেবে। আমার এক শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মনে করেন, অতীতে আদর্শের ছিটেফোঁটা যা-ই থাকুক; বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দ্বন্দ্ব দুটি ‘টোটেম’ নিয়ে দুটি উপজাতির ঝগড়ায় পরিণত হয়েছে। এটা এত বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে যে, রাজনৈতিক যুদ্ধে জয়-পরাজয় দুটি দলের জন্যই বর্তমানে জীবন-মরণ সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাই সহজে কোনো রাজনৈতিক মীমাংসা হবে না।
আওয়ামী লীগ মনে করছে, আগামী নির্বাচনে যদি ক্ষমতায় যেতে না পারে, তাহলে ‘চামড়া থাকবে না’। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি মনে করছে, তারা যদি এবার ক্ষমতায় যেতে না পারে, তাহলে দলকে আর ধরে রাখাই সম্ভব হবে না।
ওদিকে, ভবিষ্যতে আদর্শভিত্তিক দলগুলো ছোট হয়ে গেলেও টিকে থাকবে। যেমন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে হাজার অত্যাচার বা নিপীড়ন করা হোক না কেন, তারা টিকে থাকবে। তাই জামায়াতের আদর্শে যারা বিশ্বাস করে, তারা তাদের রাজনীতি গোপনে হলেও করবে। তারা হয়তো বিভিন্ন সময় নিজেদের কৌশল পরিবর্তন করতে পারে। যেমন কখনও তারা বিএনপি আবার কখনও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করতে পারে।
কখনও নতুন দলের ছদ্মবেশে এগিয়ে আসতে পারে। উল্টো দিক থেকে আদর্শবাদী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বামপন্থিদের ক্ষেত্রেও বিষয়টা একই রকম। তারা সমাজতন্ত্র কায়েম করতে চায়। সুতরাং তাদের যতই মারা হোক বা নির্যাতন করা হোক, তারা ধনিক শ্রেণির সঙ্গে থাকবে না। পৃথক অস্তিত্ব নানাভাবে বজায় রাখবে।
এই দুই বিপরীত আদর্শগত দল বাদ দিলে অবশিষ্ট যে দলগুলো রয়েছে, তাদের মধ্যে নানা রকম ক্ষমতার সমীকরণ ঘটছে। এই সমীকরণের ওপর নির্ভর করবে দেশের রাজনীতি মসৃণভাবে চলবে, নাকি চলবে না। তবে এখন পর্যন্ত শাসকশ্রেণির প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমীকরণ ঠিকমতো মিলছে না।
বিএনপি দাবি তুলেছে– সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন দিলে তারা জিতবে। আর আওয়ামী লীগ বলছে– সংবিধানে নিরপেক্ষ সরকারের বিধান নেই। সুতরাং, তারা তা করবে না। যদিও এই কথাটি বলার পেছনে ক্ষমতাসীন দলের কোনো নৈতিক জোর নেই। কারণ ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে তারা এমন দুটি নির্বাচন করেছে, যেটা প্রমাণ করে দিয়েছে– আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রেখে নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশিত নয়।
এই পরিস্থিতিতে কোনো না কোনোভাবে আওয়ামী লীগকে এখন প্রতিষ্ঠা করতে হবে– তারা ক্ষমতায় থাকলেও সরকার নিরপেক্ষ থাকতে পারে এবং নির্বাচন কমিশন একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন করার মতো যথেষ্ট শক্তি রাখে। কিন্তু গত দুটি জাতীয় নির্বাচনের পর এটা অনেকেই বিশ্বাস করে না।
২০১৮ সালেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি ছিল বিএনপির; সে দাবি পূরণ না হলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। কিন্তু প্রশাসনকে দিয়ে ভোট বাক্স ভরে ফেলা হয়েছিল। অনেকে বলে, বিএনপিকে যে ৮০টি সংসদীয় আসন দেওয়ার চুক্তি হয়েছিল, সেটা রক্ষা করতে পারেনি আওয়ামী লীগ। সুতরাং, সেবার বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াই নির্বাচনে গেলেও এবার তারা সেটা ছাড়া নির্বাচনে যাবে না এবং সেটার লক্ষণ আমরা দেখতে পাচ্ছি। প্রবাদ আছে– ন্যাড়া দুইবার বেলতলায় যায় না।
তবে আগামী নির্বাচন বিএনপি ‘ঠেকিয়ে দিতে’ পারবে কিনা, সেটা নিয়েও সন্দেহের অবকাশ আছে। বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ– দুই দলই যে কোনো সময় লক্ষাধিক লোক জড়ো করতে পারে। কিন্তু দুই দলের কেউই শুধু নিজের সমর্থনে গণঅভ্যুত্থান বা গণজোয়ার সৃষ্টি করতে পারে না। যেমন বিএনপি তাদের সর্বশেষ বৃহৎ কর্মসূচিতে ঢাকায় মহাসমাবেশে অনেক লোক জমায়েত করেছে। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা দেখেছি, ঢাকায় পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে স্কুলের বাচ্চারা তাদের মতো আন্দোলন করছে। এখানে দেখা গেছে, বিএনপি তাদের জন্য কোনো ইস্যু নয়। অথচ গণঅভ্যুত্থান মানে, যারা কোনো দল করে না বা কোনো দলের কর্মী নয় এমন সাধারণ মানুষেরও রাস্তায় নেমে আসা। সেটা এখন পর্যন্ত হয়নি। সাধারণ মানুষ গণতন্ত্র চায়, কিন্তু তাদের নেতৃত্ব দিয়ে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করার মতো কোনো দল নেই।
আবার আওয়ামী লীগ যে অনেক উন্নয়ন করেছে এবং মানুষ তাদের দলে দলে আবার ভোট দিয়ে ক্ষমতায় নিয়ে আসবে বলে দাবি করে– সেটাও ঠিক না। কারণ আওয়ামী লীগের উন্নয়নের মধ্যে অনেক ফাঁক রয়েছে। যেমন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার সময় ধনী-গরিবের যে ব্যবধান ছিল, সেটি অনেক বেড়ে গেছে। সার্বিকভাবে দেশে দরিদ্রের সংখ্যা হয়তো কমেছে। এর পরও দারিদ্র্যের হার ২০ শতাংশ ধরলেও ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে ৩ কোটির বেশি মানুষ দরিদ্র। তিন কোটি মানুষের অসন্তুষ্টি কম বড় বিষয় নয়। এই তিন কোটি মানুষের মধ্যে অসন্তুটি থাকত না যদি তারা দেখত, তারা কম পাচ্ছে। কারণ তারা কম কম পরিশ্রম করছে। কিন্তু বিষয়টা ঠিক তার উল্টো। তারা চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে, যারা বাটপারি করছে, যারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শোধ করছে না, যারা অবৈধভাবে টাকা বানাচ্ছে ও পাচার করছে, যারা সিন্ডিকেট করে জিনিসপত্রের দাম বাড়াচ্ছে; তারা শাসক দলের আনুকূল্য পাচ্ছে ও আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে।
উল্লেযোগ্য বিষয় হলো, শাসক দলের উন্নয়নের ফাঁক বা ধনী-গরিবের বৈষম্যের এজেন্ডা নিয়ে প্রধান প্রধান বিরোধী দলও লড়াই করছে না। এসব এজেন্ডায় লড়াই হলে হয়তো একটা গণঅভ্যুত্থানের সম্ভাবনা ছিল। তখন লড়াইটা জনগণের ইস্যুতে হতো। বিএনপি মুখে সেই এজেন্ডার কথা বললেও তারা শেষ বিচারে ধনিকশ্রেণির একাংশ মাত্র। সে জন্য তারা মূলত সরকার উৎখাত বা এক দফাতেই মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছে।
এখন, গণঅভ্যুত্থান ছাড়া বর্তমান সরকারকে সরিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের আর মাত্র দুটি পথ খোলা থাকে। আন্তর্জাতিক চাপ অথবা অগণতান্ত্রিক বা অরাজনৈতিক শক্তির উত্থান। অথবা উভয়টিই। বাংলাদেশে এটা ‘তৃতীয় শক্তি’ নামে বহুল পরিচিত; বহুল আলোচিত ‘ওয়ান-ইলেভেন’ সরকার যেমন ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার অভ্যন্তরীণ সব পক্ষকে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সন্তুষ্ট ও একান্ত অনুগত করে রেখেছে। সুতরাং ওয়ান-ইলেভেনের মতো কোনো ধরনের বিপদের আশঙ্কা সরকারের সামনে দেখা যাচ্ছে না।
বর্তমানে যে পরিস্থিতি, এটুকু বলা যেতে পারে– এমন কোনো শক্তিশালী ও ইতিবাচক অভ্যন্তরীণ শক্তি এখনও দেখা যাচ্ছে না যেটা বর্তমান সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করতে পারে। কিন্তু বহিঃশক্তির দিক থেকে একটি চাপ রয়েছে। আগামী নির্বাচন ভালোভাবে করার জন্য চাপ যুক্তরাষ্ট্র দিচ্ছে। এটি একটি শক্তিশালী ফ্যাক্টর বটে। কারণ আমাদের উদীয়মান পোশাক শিল্প, জাতিসংঘ মিশন, বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ থেকে ডলারপ্রাপ্তি, সিভিল সোসাইটির সমর্থন– সব কিছুতেই আমেরিকার প্রভাব রয়েছে। সেটা ব্যবহার করে ‘ভালো নির্বাচন’ অনুষ্ঠানে তারা যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম।
প্রশ্ন হচ্ছে, আমেরিকা বা পশ্চিমা বিশ্বের দৃষ্টিতে ‘ভালো নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের অর্থ কী? বিএনপি নির্বাচন ভালোভাবে করার অর্থ করেছে, বর্তমান সরকারের পদত্যাগের মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন। বামপন্থিরাও আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে চাচ্ছে না। তারাও মনে করছে– বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে সরকার তার প্রশাসন, অর্থ এবং পেশিশক্তি ব্যবহার করে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে দেবে না। বর্তমানে স্থানীয় নির্বাচনসহ যত ধরনের নির্বাচন হয়েছে, সেখানে ভোট দেওয়ার প্রতি মানুষের আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগের কাছে ‘ভালো নির্বাচন’ অর্থ হতে পারে, ভোটকেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি কম হবে। আওয়ামী লীগ চাইতে পারে, বিএনপি এবারও ভোট বয়কট করুক; কিন্তু অন্যান্য দল ভোটে আসুক। সরকার ‘তৃণমূল বিএনপি’ নামের দলটিকে সামনে এনে প্রতিটা আসনে তাদের একজন প্রার্থী দাঁড় করাতে পারে। সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ হস্তক্ষেপশূন্য নির্বাচন দিয়েও জিততে পারবে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে বলে দাবি করতে পারে।
নিরপেক্ষ নির্বাচন অর্থে আওয়ামী লীগ বোঝাতে পারে যে, এবার আগে থেকে ব্যালট বাক্স ভরা হবে না; কোনো বল প্রয়োগও করা হবে না; প্রতিটা আসনে যে দাঁড়াতে চায় দাঁড়াবে। এমনকি নিজ দল থেকে একটি আসনে যদি তিনজনও দাঁড়ায়, তাতেও আপত্তি নেই। কারণ তিনজনের মধ্যে যে-ই জিতুক, সে তো আওয়ামী লীগের পক্ষেই থাকবে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন বয়কটের নির্বাচন কি নির্বাচন বলে আদৌ গণ্য হবে?
ধরা যাক, এভাবে একটি কৃত্রিম প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করল। প্রশ্ন হলো– তখন কোনো ধরনের গণঅভ্যুত্থানের সম্ভাবনা দেখা দেবে কিনা। অথবা ‘তৃতীয় শক্তি’ সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে প্রশাসনিক শক্তিকে নড়বড়ে করে দেবে কিনা? ভারত, আমেরিকা ও চীন এসব ক্ষেত্রে অনেক ক্ষমতা রাখে। যেমন নির্বাচনের পরও আমেরিকা স্যাংশন আরোপ করলে অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়বে এবং জনগণের রাস্তায় নামা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। তবে সে ধরনের কোনো কিছু করার আগে আমেরিকা আগে চিন্তা করবে এখানে তাদের লাভ কী?
আমেরিকা বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন চায় বা গণতন্ত্র চায় বলে আমার মনে হয় না। পৃথিবীর অনেক দেশে গণতন্ত্রহীনতা চলছে, যেটাকে আলী রিয়াজ বলেন ‘কর্তৃত্বপরায়ণ গণতন্ত্র’। তাদের সঙ্গে আমেরিকা ভালো সম্পর্কও রেখে চলেছে। আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ভূরাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে পারলে বাংলাদেশের জনগণ বা গণতন্ত্র নিয়ে তাদের খুব বেশি মাথাব্যথা থাকবে বলে মনে হয় না।
২০১৮ সালের নির্বাচন খারাপ হলেও চীন ও ভারত সর্বপ্রথম সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এবারও যদি বিএনপিসহ প্রধান বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বয়কট করে এবং আওয়ামী লীগ নির্বাচনে নিজেকে বিজয়ী দেখায়; ভারত, চীন ও রাশিয়া সরকারকে পুনরায় স্বীকৃতি দিতে পারে বলে মনে হয়। তবে সেই ধরনের একপক্ষীয় নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রহসন বলেই বিবেচিত হবে।
ভবিষ্যতে কী হবে, সেটা এখনও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না। নির্বাচন নিয়ে প্রধান দুই পক্ষের মধ্যে যদি সমঝোতা না হয়; পরিস্থিতি হয়তো ক্ষমতা দখল ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার দুই বিপরীত শক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তখন হয়তো তৃতীয় শক্তির উত্থান ঘটতে পারে। সেই দূরবর্তী সম্ভাবনার মাপকাঠিতে সত্যিই বাংলাদেশ আজ এক রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ‘মার্কটাইম’ করে চলছে।
এম এম আকাশ: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
- বিষয় :
- রাজনীতি
- এম এম আকাশ
