চলচ্চিত্রের মানুষরাই চলচ্চিত্র নষ্টের জন্য দায়ী, বললেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী
তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৪:৫২ | আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৪:৫৬
রাজনীতির মানুষরা দায়ী নয়, চলচ্চিত্রের মানুষেরাই চলচ্চিত্র নষ্ট করার জন্য দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান।বুধবার সন্ধ্যায় মুক্তি প্রতীক্ষিত ‘বীর’ ছবির ‘ আলোচনা অনুষ্ঠানে ’-এর আয়োজন করে এসকে বিগ স্ক্রিন। সেখানেই এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান বলেন, আপনারা চলচ্চিত্রের নায়ক, নায়িকা, প্রযোজক, পরিচালকদের ঘর হলো এফডিসি। সেখানে থেকে শাবানা, ববিতা, রোজিনারা কিংবদন্তী হয়েছেন। সেই এফডিসি আজ আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এরজন্য রাজনীতির মানুষরা দায়ি নয়, চলচ্চিত্রের মানুষেরাই দায়ি। এছাড়াও চলচ্চিত্রের মানুষরা একজন আরেকজনের চেহারা দেখতে পারেনা। কোনো কাজই সেখানে করা যায়না। সেটা কেনো?’
সরকার সরকারের কাজটি করে যাচ্ছে। অথচ এফডিসির মানুষরা তাদের নিজেরদের কাজটি কই করছেন? প্রশ্ন তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কথায় কথায় শুধু বলা হয়, সরকার করে দিবে। সরকার কী করে দিবে? সিনেমা হল বানিয়ে দেবে! আচ্ছা, আমরা সিনেমা হল বানিয়ে দিলাম। কিন্তু ছবি নাই তো, তাহলে সিনেমা হলে মানুষ যাবে কী দেখতে? সেন্সর বোর্ডে যখন ছবি আটকানো হয়, যে পরিমাণ তদবির আপনারা করেন এইগুলো যদি বলি মাথা খারাপ হয়ে যাবে! এই সমস্যার সমাধানের পথ আপনাদেরই খুঁজে বের করতে হবে। কারণ, এই শিল্পের আপনারাই ধারক বাহক। প্রধানমন্ত্রীর কাছে গেলেই চলচ্চিত্র সংকট কেটে যাবে না। সংকট কাটাতে নিজেদেরকেও উদ্যোগী হতে হবে।’

চলচ্চিত্র অনেক বড় একটি মাধ্যম। এই মাধ্যমে যেই সেই নায়ক হয়ে যাচ্ছেন। তাকে তাকে নায়ক হওয়ার সুযোগ সুবিধা কেনো দেয়া হচ্ছে। কেনো যার টাকা থাকলেই নিজে ইনভেস্ট করে নিজেই সিনেমার নায়ক হতে পারছেন বলেও বক্তব্যে প্রশ্ন রাখেন প্রতিমন্ত্রী।
এদিকে এফডিসিত সিন্ডিকেট মুক্ত রাখারও আহ্বান করেন তিনি। বলেন, এফডিসিতে আপনারা এক হয়ে থাকুন। উত্তরণের পথ বের করু্ন। সংকট চিহ্নিত করে আপনারা বসে আমাদেরকে ডাকুন। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্যই উপস্থিত থাকবো।’
ভালো সিনেমা নির্মাণ হলেই এফডিসির অনেক সঙ্কট কেটে যাবে উল্লেখ করে তথ্য প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, চলচ্চিত্রে সংকট কাটবে ভালো সিনেমা নির্মাণ হলে। কিন্তু সেটা আমাদের হচ্ছে না। আগে সেগুলো ঠিক করতে হবে, তাহলেই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াবে। ছোটবেলায় আমিও হলে গিয়ে ছবি দেখেছি। কিন্তু এখন সব মানুষ হলে গিয়ে ছবি দেখে না। ভালো ছবি হলেও সেই মাপের ছবিই তো হচ্ছে না। হবেই বা কেন? আমাদের এখানে পুনের মতো ফিল্ম ইনস্টিটিউট নেই। সে কারণে, ভালো গল্পকার, পরিচালক তৈরি হচ্ছে না। শাকিবের উত্তরসূরি কে সেটাও আমরা জানিনা। ১৭ কোটি মানুষের দেশে ১৭ কোটি গল্প রয়েছে। প্রতিটি মানুষের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একটা করে সিনেমার গল্প হয়।
কাজী হায়াৎ পরিচালিত শাকিব খান প্রযোজিত ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘বীর’ মুক্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, শাকিব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কাজী হায়াৎ চিত্রনায়ক ফারুক, আলমগীর, মিশা সওদাগর, ইমন, নিরব, নাদিম, সোহানুর রহমান সোহান, মুশফিকুর রহমান গুলজার, খোরশেদ আলম খসরু, মালেক আফসারীসহ অনেকেই।
