কলেজছাত্রী দিলরুবার খামার
×
মাহমুদুল হক রিয়াদ
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১২:০০
খামার পরিস্কার করে হাঁস-মুরগিকে খাবার ও পানি দেওয়া, অসুস্থ মুরগির পরিচর্যা করা, হাঁসদের পুকুরে নিয়ে যাওয়া- এসব কাজের মধ্যেই সময় হলে বই-খাতা নিয়ে কলেজে ছুটতে হয়। কলেজ থেকে ফিরে আবার খামারের দেখাশোনা। দিন শেষে বই নিয়ে পড়তে বসা। দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটে দিলরুবার। তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামে। দিলরুবার বাবা হেলাল উদ্দিন পেশায় কৃষক। গৃহিণী
মা, দুই বোন, এক ভাই নিয়ে তাঁর
সংগ্রামী জীবন।
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় অনেক গ্রামেও এখন দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে গেছে। অবাক করা বিষয় হলো, কিছু জমানো টাকা ও মোবাইল ফোনে ইউটিউব দেখে অভাব-অনটনের সংসারে দিলরুবা গড়ে তুলেছেন হাঁস-মুরগির খামার। হাঁস-মুরগির যে কোনো সমস্যা বা রোগ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ইউটিউব দেখে এর প্রতিকারের ব্যবস্থা করেন।
২০২১ সালের শুরুর দিকে এক হাজার ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা নিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু। এরই পাশাপাশি ২০০ হাঁস পালন শুরু করেন। পোলট্রি খামারে মুরগির দেখাশোনা, খাওয়ানো, ওষুধপত্র সব নিজ হাতেই করেন।
সদা হাস্যোজ্জ্বল দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিলরুবা বলেন, 'প্রথমে এক দিন বয়সী পোলট্রি মুরগির বাচ্চা ২৫-৩০ টাকায় কিনে শেডে তুলি। তাদের খাওয়ানো বা টিকা দেওয়ার কাজ আমি নিজেই করি। ৩০ থেকে ৩৫ দিন বয়সী মুরগির প্রতিদিন ১৮০ গ্রাম খাবার প্রয়োজন এবং ওজন হয় ২ কেজির মতো। তখন মুরগিগুলোকে ওজন করে ডিলারের কাছে পাইকারি বিক্রি করে দিই।'
তিনি আরও বলেন, 'এক হাজার মুরগিকে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করতে মোট খরচ হয় ২ লাখ ২০ হাজার টাকার মতো। বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করতে পারলে আমার ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ হবে। এ দিয়ে সংসার খরচ, আমার ও ভাইবোনদের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যাচ্ছি।'
পরিবারের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছেন দিলরুবা। তিনি জানান, এ কাজে তাঁর মা-বাবা সাহায্য ও অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর ছোট বোন এবার দশম ও ছোট ভাই অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে। তারাও পড়াশোনার পাশাপাশি খামারে কাজ করছে। তাই বাড়তি শ্রমিক নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
দিলরুবা বলেন, 'কৃষিকাজ ও হাঁস-মুরগি পালন করা আমার কাছে খুব ভালো লাগে। সহজ শর্তে কোনো ব্যাংক বা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ঋণ দিলে আগামীতে বড় পরিসরে গবাদিপশুর খামার স্থাপন এবং মুরগির খামারটি আরও বড় করতে চাই।'
২০২০ সালে হোসেনপুর উপজেলার মেছেড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে দিলরুবা এখন হোসেনপুর সরকারি মডেল পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ছেন। া
মা, দুই বোন, এক ভাই নিয়ে তাঁর
সংগ্রামী জীবন।
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় অনেক গ্রামেও এখন দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে গেছে। অবাক করা বিষয় হলো, কিছু জমানো টাকা ও মোবাইল ফোনে ইউটিউব দেখে অভাব-অনটনের সংসারে দিলরুবা গড়ে তুলেছেন হাঁস-মুরগির খামার। হাঁস-মুরগির যে কোনো সমস্যা বা রোগ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ইউটিউব দেখে এর প্রতিকারের ব্যবস্থা করেন।
২০২১ সালের শুরুর দিকে এক হাজার ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা নিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু। এরই পাশাপাশি ২০০ হাঁস পালন শুরু করেন। পোলট্রি খামারে মুরগির দেখাশোনা, খাওয়ানো, ওষুধপত্র সব নিজ হাতেই করেন।
সদা হাস্যোজ্জ্বল দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিলরুবা বলেন, 'প্রথমে এক দিন বয়সী পোলট্রি মুরগির বাচ্চা ২৫-৩০ টাকায় কিনে শেডে তুলি। তাদের খাওয়ানো বা টিকা দেওয়ার কাজ আমি নিজেই করি। ৩০ থেকে ৩৫ দিন বয়সী মুরগির প্রতিদিন ১৮০ গ্রাম খাবার প্রয়োজন এবং ওজন হয় ২ কেজির মতো। তখন মুরগিগুলোকে ওজন করে ডিলারের কাছে পাইকারি বিক্রি করে দিই।'
তিনি আরও বলেন, 'এক হাজার মুরগিকে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করতে মোট খরচ হয় ২ লাখ ২০ হাজার টাকার মতো। বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করতে পারলে আমার ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ হবে। এ দিয়ে সংসার খরচ, আমার ও ভাইবোনদের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যাচ্ছি।'
পরিবারের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছেন দিলরুবা। তিনি জানান, এ কাজে তাঁর মা-বাবা সাহায্য ও অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর ছোট বোন এবার দশম ও ছোট ভাই অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে। তারাও পড়াশোনার পাশাপাশি খামারে কাজ করছে। তাই বাড়তি শ্রমিক নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
দিলরুবা বলেন, 'কৃষিকাজ ও হাঁস-মুরগি পালন করা আমার কাছে খুব ভালো লাগে। সহজ শর্তে কোনো ব্যাংক বা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ঋণ দিলে আগামীতে বড় পরিসরে গবাদিপশুর খামার স্থাপন এবং মুরগির খামারটি আরও বড় করতে চাই।'
২০২০ সালে হোসেনপুর উপজেলার মেছেড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে দিলরুবা এখন হোসেনপুর সরকারি মডেল পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ছেন। া
- বিষয় :
- খামার